সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হলেও জ্বালানি তেল নিয়ে ক্রেতাদের শঙ্কা কাটছে না। গতকাল রোববার রাজধানীর অধিকাংশ পাম্পেই তেলের জন্য ছিল দীর্ঘ সারি। তেল না থাকায় অনেক পাম্প ছিল বন্ধ। তেল পাম্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, গত শুক্র ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকায় তেলের সরবরাহ ছিল না। এ কারণে অনেক পাম্পে তেল নেই। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এবার ২৫ শতাংশ কম তেল বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই ২৫ শতাংশ তেলই রেশনিং করা হচ্ছে।
জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশি টহলের অনুরোধ জানিয়েছে বিপিসি। এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরে তেল-গ্যাসের ১০টি জাহাজ ভিড়েছে বলে বন্দর সূত্রে জানা গেছে।
জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গতকাল এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য রেশনিং করে চলতে হবে। সব একেবারে না খেয়ে চলার মতো ব্যবস্থা করে যদি একবার চলি, তাহলে আমরা দীর্ঘদিন চলতে পারব। এ সময় তিনি আপাতত বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর কথাও জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২০তম কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম আয়োজিত এক সভায় ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা ভঙ্গুর এবং ঋণে জর্জরিত একটি বাংলাদেশ পেয়েছি। আমরা এমন এক সময়ে এসে সরকার গঠন করেছি, তার কয়েকদিন পরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। জ্বালানির উৎপত্তিস্থল হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। আমি যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছি, এখন প্রতিদিন আমাকে জবাবদিহি করতে হয়। তিনি আরও বলেন, পেট্রোল পাম্পের পাশে বিশাল লাইন দেখা যায়। আমরা বলেছি, যেহেতু যুদ্ধ লেগেছে এবং যুদ্ধকালীন অবস্থার মধ্যে বসবাস করছি, যেখান থেকে পেট্রোলিয়াম আসে, সেখানে যুদ্ধ লেগেছে। এই যুদ্ধ কতদিন চলবে জানি না। তবে আমার কাছে যে মজুত আছে, সেটা সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করার জন্য জনগণের কাছে আহ্বান জানিয়েছি। আমরা রেশনিং শুরু করেছি।
এদিকে দেশে জ্বালানি তেল বিপণন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশি টহল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে বিপিসি।
শনিবার জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক খবর প্রচারের কারণে ভোক্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে ফিলিং স্টেশন ডিলাররা আগের তুলনায় বেশি পরিমাণ জ্বালানি তেল ডিপো থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, কিছু ভোক্তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কিনে অননুমোদিতভাবে মজুত করার চেষ্টা করছেন—এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এরই মধ্যে ফিলিং স্টেশন থেকে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ সীমিত করার বিষয়ে বিপিসি একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
বিপিসি জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল ক্রয়কে কেন্দ্র করে ক্রেতা ও স্টেশনকর্মীদের মধ্যে অনভিপ্রেত ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটছে। এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফিলিং স্টেশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ কারণে দেশের সব ফিলিং স্টেশনে পুলিশি টহল জোরদার করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগকে।
জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে:
জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত ও নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে এখন থেকে মাঠপর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি তেলের বাজারে সংকট তৈরির লক্ষ্যে অবৈধ মজুত করছে মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ সংকট নিরসনকল্পে এরই মধ্যে সরকার যানবাহনভিত্তিক তেলের পরিমাণ নির্ধারণ করেছে। ফলে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প বা ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রয়, অধিক মুনাফার লোভে অতিরিক্ত মজুত, খোলা বাজারে বিক্রি, পাচারের প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে তেল-গ্যাসের ১০ জাহাজ:
প্রায় পৌনে ৪ লাখ টন জ্বালানি পণ্য দিয়ে গতকাল চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে ১০টি জাহাজ। এসব জাহাজের মধ্যে চারটিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং দুটিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) রয়েছে। এ ছাড়া ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পণ্য নিয়ে পৌঁছেছে আরও চারটি জাহাজ।
বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, কাতার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামে দুটি জাহাজ এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এ ছাড়া আজ সোমবার ‘লুসাইল এবং বুধবার ‘আল গালায়েল’ নামে আরও দুটি জাহাজ বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা। সব মিলিয়ে এই চার জাহাজে এলএনজি রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন। কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে এই জাহাজগুলো এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আগেই ওমান উপসাগর থেকে ‘সেভান’ নামে একটি জাহাজ গতকাল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। জাহাজটিতে রয়েছে ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি, যা ওমানের সোহার বন্দর থেকে এসেছে। এর আগে একই বন্দর থেকে ‘জি ওয়াইএমএম’ নামে আরেকটি এলপিজিবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে। ওই জাহাজে ছিল ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি। সব মিলিয়ে দুটি জাহাজে এলপিজি রয়েছে ৪১ হাজার ৪৮৮ টন। দুটি জাহাজে প্রায় ৩৫ হাজার টন এলপিজি রয়েছে মেঘনা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির। বাকি এলপিজি এনেছে জেএমআই ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্যাস লিমিটেড।
এ ছাড়া ডিজেল নিয়ে ‘এসপিটি থেমিস’ নামের ৩১ হাজার টনের একটি জাহাজ বন্দরের পথে রয়েছে। আগামী ১২ মার্চ জাহাজটি বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে ১৪ হাজার টন গ্যাসের উপজাত কনডেনসেট নিয়ে পৌঁছেছে হুয়া সুন নামের একটি জাহাজ। কনডেনসেট থেকে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও এলপিজি উৎপাদন করা হয়। এর বাইরে সিঙ্গাপুর থেকে ৪০ হাজার টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে পৌঁছেছে দুটি জাহাজ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর ৪ মার্চ এলপিজি ও ডিজেলের দুটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছায়। জাহাজ দুটি তেল-গ্যাস খালাস করে শুক্রবার বন্দর ছেড়েছে। এই দুটি জাহাজ হলো ওরিয়েন্টাল গ্রিনস্টোন ও পল।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াংকা চোপড়া ও মার্কিন পপতারকা নিক জোনাস দাম্পত্যজীবনে নিজেদের রসায়ন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই আলোচনায় থাকেন। সম্প্রতি প্রিয়াংকার নতুন সিনেমা ‘দ্য ব্লাফ’-এর প্রচারের অংশ হিসেবে একটি পডকাস্টে অংশ নেন অভিনেত্রী। সেখানে নিক জোনাসের লেখা একটি প্রেমপত্র পড়ে শোনানো হলে প্রিয়াংকা বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। চিঠিতে নিক তার স্ত্রীর গুণাবলি, মাতৃত্ব ও ধৈর্য ধরার ক্ষমতার প্রশংসা করেন। এর আগে ২০১৮ সালে রাজকীয় আয়োজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বলি অভিনেত্রী প্রিয়াংকা চোপড়া ও পপতারকা নিক জোনাস। তাদের বয়সের ব্যবধান ১০ বছর। এ নিয়ে শুরুতে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হলেও দীর্ঘ সাত বছরের দাম্পত্যজীবনে তারা সফল জুটির উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। এদিকে দীর্ঘ দাম্পত্যজীবনে নানা চড়াই-উতরাইয়ে প্রিয়াংকার ইতিবাচক মনোভাবের প্রশংসা করে নিক জোনাস চিঠিতে লিখেছেন, যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ে লড়াই করার ক্ষমতা তাকে মুগ্ধ করে। তিনি এবং তাদের কন্যা মালতী মেরি প্রিয়াংকাকে নিয়ে গর্বিত। নিক জোনাস তার চিঠিতে প্রিয়াংকাকে নিজের জীবনের অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রিয়াংকা শুধু একজন বিশ্বখ্যাত তারকা নন, বরং একজন মা, মেয়ে ও স্ত্রী হিসেবে তিনি অনন্য। নিজেদের প্রথম ডেটের স্মৃতি শেয়ার করে নিয়েছেন প্রিয়াংকা চোপড়া। নিক জানিয়েছিলেন এটা ছিল 'গ্রুপ ডেট'। নিক 'বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট'-এর লাইভ কনসার্টে প্রিয়াংকাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন৷ প্রিয়াংকা তার প্রিয় বন্ধুকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন৷ নিক তার বড় ভাই কেভিন জোনাস এবং অন্য এক দম্পতিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে প্রথম ডেটের কথা শেয়ার করে নিক জোনাস বলেন, শোতে আমাদের সবচেয়ে ভালো সময় কেটেছে। আমরা কোথাও খেতে গিয়েছিলাম। জো জানতেন যে আমি এই ডেটটি নিয়ে সত্যিই অনেক আগ্রহী ছিলাম। সে রাতে আমরা একে অন্যকে চুম্বন করেছিলাম।
দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয়। নিজের ভার্সেটাইল অভিনয় দিয়ে দর্শক হৃদয় জয় করলেও, বর্তমানে তিনি সিনেমা ছেড়ে রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেছেন। তামিলাগা ভেটরি কাজাগম’ (টিভিকে)-পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এই অভিনেতা। আসন্ন তামিলনাড়ু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চলেছেন তিনি। তবে সম্প্রতি এই তারকার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেছেন তার স্ত্রী সঙ্গীতা স্বর্ণালিঙ্গম। এতদিন অভিনেতাকে নিয়ে যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা জল্পনা কল্পনা চলছিল, অবশেষে এ বিষয়ে মুখ খুললেন বিজয় নিজেই। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নারী দিবসের আগে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে বিজয় বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমাকে নিয়ে যে সব সমস্যার কথা শুনছেন, সেগুলো নিয়ে চিন্তা করবেন না। ওসব জিনিস নিয়ে ভেবে নিজেদের সময় নষ্ট করবেন না। আমি নিজের খেয়াল রাখতে পারি। তবে আমার খারাপ লাগে যখন আমার ব্যক্তিগত জীবনের কারণে অনুরাগীদের ব্যথিত হতে দেখি।‘ তবে বিজয়ের এমন মন্তব্যে নেটিজেনদের একাংশ যেন ফের রেগে গিয়েছে তার উপর। কেউ কেউ তাঁকে ‘নির্লজ্জ’ বলে অভিহিত করেছেন। আবার অনেকে বিজয়ের প্রতি সমব্যথী হয়ে তার পক্ষ নিয়েছেন। এদিকে অভিনেতার স্ত্রী সঙ্গীতা ফের আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন শ্বশুরবাড়িতে থাকতে পারার অধিকারের দাবিতে। তবে এর মধ্যে বিজয় অবশ্য তৃষার সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন থাকা সত্ত্বেও চেন্নাইয়ের এক নিমন্ত্রণে জুটি বেঁধেই সেখানে যান। আর এ ঘটনায় নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
আলোচিত বলিউড অভিনেত্রী নীনা গুপ্তা। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তাকে কম বিতর্কের মুখে পড়তে হয়নি। সম্প্রতি ৬৬ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীকে নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন ছড়ায় তিনি ‘মা হতে চলেছেন’। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কিছুদিন আগেই তার মেয়ে মাসাবা গুপ্তা কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তার উপর এই বয়সে এসে তাকে নিয়ে এমন খবর রটে যাওয়ায় তুমুল জল্পনার সৃষ্টি হয় নেটদুনিয়ায়। এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন নীনা নিজেই। এই গুঞ্জন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হেসে উড়িয়ে দিয়ে এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী বলেন, ‘ব্যস, এটাই বাকি ছিল—বাস্তব জীবনে ‘বাধাই হো’!” প্রসঙ্গত, ‘বাধাই হো’ সিনেমায় নীনা ৬০ বছর বয়সী এক নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যিনি হঠাৎ গর্ভবতী হয়ে পড়েন। আর তাকে ঘিরে মূলত এই গুঞ্জনের সূত্রপাত ঘটে অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দান্না ও বিজয় দেবরকোণ্ডার রিসেপশন অনুষ্ঠানে হাজির হওয়ার দিন। সেখানে শাড়ি পরা অবস্থায় এই অভিনেত্রীর পেট কিছুটা উঁচু দেখা যাওয়ায় অনেকেই সেটিকে ‘বেবি বাম্প’ বলে ধরে নেন। এর পরই সামাজিক মাধ্যমে তার গর্ভবতী হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সেদিন কেন তার পেট উঁচু দেখাচ্ছিল সেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নীনা গুপ্তা বলেন, “এটা কোনো ‘বাধাই হো’-এর ঘটনা নয়, আমি গর্ভবতীও নই। আসলে শাড়ির কাপড়টা একটু মোটা ছিল, তাই আমাকে ও রকম দেখাচ্ছিল।” পরে কিছুটা রসিকতার সুরে তিনি বলেন, ‘এই বয়সেও আমার গর্ভাবস্থা নিয়ে এমন জল্পনা হওয়াটা আমার ভালোই লেগেছে। এতে বোঝা যায়, আমরা একটি জাতি হিসেবে বদলাচ্ছি।’ উল্লেখ্য, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ব্যাপক আলোচিত নীনা গুপ্তার সঙ্গে একসময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ভিভিয়ান রিচার্ডসের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক থেকেই জন্ম নেন তাদের মেয়ে মাসাবা গুপ্তা। যদিও ভিভিয়ান শেষে স্ত্রী-পরিবারের কাছে নিজ দেশে ফিরে যান। এর পরও গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত না নিয়ে মেয়ে মাসাবা গুপ্তার জন্ম দেন নীনা। ২০২৩ সালে ভিভিয়ান রিচার্ডস-নীনা গুপ্তার মেয়ে মাসাবার বিয়ে হয়।