বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরিবর্তে অংশ নিতে ঢাকায় আসছেন দেশটির লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লোকসভার স্পিকারের শপথ অনুষ্ঠানে থাকার তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মত এমন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে লোকসভা স্পিকারের অংশগ্রহণ ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করবে। এটি আমাদের দুই দেশকে ঐক্যবদ্ধ করে রাখা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ভারতের অবিচল অঙ্গীকারকেও পুনর্ব্যক্ত করে।
তারেক রহমানের নেতৃত্ব, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধই বিএনপির প্রতি বাংলাদেশের জনগণের ব্যাপক সমর্থনের কারণ বলে উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে। এতে আরও বলা হয়, দুই দেশের অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে আবদ্ধ প্রতিবেশী দেশ হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়কে স্বাগত জানায় ভারত।
এর আগে বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে একই দিন ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশ নেওয়ার কথা নরেন্দ্র মোদির। এ কারণে তিনি ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে ওম বিড়লাকে ঢাকায় পাঠাচ্ছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সচিবালয়ের বাইরে দপ্তর, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠানের সব কর্মচারী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জোট দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। এই সংগঠনের সঙ্গে শিক্ষকসহ দেশের ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী সম্পৃক্ত। পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে আন্দোলনে নামেন। লাগাতার আন্দোলনের ফলে সরকার তাদের দাবি পূরণে কিছু পদক্ষেপ নেয়। সর্বশেষ এ সংক্রান্ত একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল সরকারের পক্ষ থেকে। তবে চাকরিজীবীরা এসব পদক্ষেপের বাস্তবায়ন চেয়েছিলেন নির্বাচনের আগে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার তা বাস্তবায়ন করে যেতে পারেনি। সেসময় অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, নতুন নির্বাচিত সরকার তা বাস্তবায়ন করবে। গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলমান। এবার পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। নতুন সরকার প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা তাদের দাবি বাস্তবায়নের আবেদন করবেন। গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সরকারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষৎ করব। তিনি আমাদের দাবি বাস্তবায়নে ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করি।’ এর আগে ওয়ারেছ আলীর নেতৃত্বে সংগঠনের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের দপ্তরে আবেদন করা হয়। এ সংক্রান্ত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ সচিবালয়ের বাইরে দপ্তর, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠানের সব কর্মচারী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জোট। এই সংগঠনের সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারীসহ ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী সম্পৃক্ত রয়েছেন। শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীকার আন্দোলনের শহীদ, যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বৈষম্যবিরোধী জুলাই-২০২৪ আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের। এতে আরো বলা হয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা সরকারের সব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের বৈষম্যমূলক পে স্কেল দেওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি এই সংগঠনের পক্ষ থেকে বৈষম্য নিরসনের জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছি। কিন্তু বিগত সরকার আমাদের দাবি পূরণ তো দূরের কথা আমাদের সংগঠনের কথা আমলে না নিয়ে বিচ্ছিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে জুলুম অত্যাচার চালিয়েছেন। বর্তমান সময়ে বাজারমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, সেবা খাতের ব্যয় বৃদ্ধি ও পরিবারের ভরণ-পোষণের ব্যয় বৃদ্ধির দরুণ ১১ থেকে ২০ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই চলমান জীবন বাস্তবতার নিরিখে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ৭ দাবির বিষয়গুলো আপনার সদয় অবগতির জন্য সাক্ষাৎ করে তুলে ধরার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছি। ৭ দাবিনামা: ১:৪ অনুপাতে ১২ ধাপে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকায় বৈষম্যহীন ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। ইতিমধ্যে যাদের মূলবেতন শেষ ধাপে উন্নীত হয়েছে তাদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি নিয়মিত করতে হবে। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে পে স্কেলের গেজেটে প্রত্যাহারকৃত ৩টি টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড পূণর্বহালসহ বেতন জ্যেষ্ঠতা পুনঃবহাল এবং সব স্বায়তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচ্যুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তনসহ বিদ্যমান গ্রাচুইটি-আনুতোষিকের হার ৯০ শতাংশের ছলে শতভাগ নির্ধারণ ও পেনশন গ্রাচ্যুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। ব্লক পোস্টে কর্মরত কর্মচারীসহ সব পদে কর্মরতদের পদোন্নতি বা ৫ বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড করতে হবে, অধঃস্তন আদালতের কর্মচারীদের বিচার বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে গণ্য করতে হবে, এছাড়া টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের টেকনিক্যাল পদ মর্যাদা দিতে হবে। কর্মরত কর্মচারীদের বেতন স্কেল শেষ ধাপে উন্নীত হওয়ায় বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি হচ্ছেনা বিধায় চাকুরিতে কর্মরতদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে হবে। বাজারমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতি ও জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করে দেয় সব ভাতা পুনঃনির্ধারণ, সবল কর্মচারীদের রেশন ব্যবস্থার প্রর্বতন করতে হবে। চাকরিতে প্রবেশের ব্যাসসীমা ৩৫ বছর ও অবসরের বয়স সীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পদধারীদের প্রকল্পের চাকরিকাল গণনা করে টাইম স্কেল এবং সিলেকশন গ্রেড করার অবকাশ নেই বলে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত বৈষম্য মূলক আদেশ বাতিল করতে হবে। এতে আরো উল্লেখ করা হয়, এসব বিবেচনা করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সর্বোচ্চ অভিভাবক ও মানবিক গুণের গুণী বিশিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে আপনার প্রতি শিক্ষক-কর্মচারীদের বর্ণিত দাবিগুলো সাক্ষাৎ করে উপস্থাপনের তারিখ ও সময় দেওয়ার জন্য সবিনয়ে অনুরোধ জানানো হলো।
প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দেশ ছেড়েছেন বলে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তার দেশ ছাড়ার খবরে অনলাইন-অফলাইনে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে। সমালোচকদের অভিযোগ, সম্প্রতি শুল্ক ফাঁকির মোবাইলফোন কেনাবেচা নিষিদ্ধ করে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া তার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কাজ নিয়েও অসন্তোষ ছিল। এ কারণে তিনি এক অর্থে পালিয়ে গেছেন। তবে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়েছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। পরিবেশ উপদেষ্টা দাবি করেন, ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সংস্কার কাজ অনেকের পছন্দ হয়নি। তাই একটা গ্রুপ পালানোর কথা ছড়াচ্ছে। এদিকে দেশ ছাড়া নিয়ে সৃষ্ট সমালোচনার মুখে জবাব দিয়েছেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব নিজেও। শনিবার গভীর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, মোবাইল ব্যবসায়ী ও টেলিকম সংশ্লিষ্ট কিছু গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়েছে। ফয়েজ আহমদ লেখেন, ‘ফেব্রুয়ারির ৮, ৯, ১০ তারিখে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছি আইসিটি, পিটিডি ও বিটিআরসি থেকে। এরপরে নির্বাচনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছি। প্রযুক্তি নির্ভর নির্বাচনি আয়োজনে আমার কিছু কন্ট্রিবিউশন ছিল। কলিগদের থেকেও ঠিকঠাক বিদায় নিয়েছি। ১০ ফেব্রুয়ারি অফিসিয়ালি শেষ কর্ম দিবস ছিল। সেদিন কর্মকর্তা কর্মচারী সবার সঙ্গে একসাথে ফেয়ারওয়েল ডিনার করেছি। গান গেয়ে বিদায় দিয়েছেন আমার সহকর্মীরা, ওয়ালে পাবেন।’ তিনি আরও লেখেন, ‘একজন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন এবং সৎ ব্যক্তিকে দুটো অসম্মানজনক কটু কথা শোনানোর আগে, তথ্য যাচাই-বাছাই করে নেবেন, চাওয়াটা খুব বেশি বড় না। বিদায়ের সময় এক সহকর্মী জিজ্ঞেস করেছিল পরে কি করবেন? বলেছি একটা চাকরি খুঁজতে হবে দ্রুত। দেশের জন্য কাজ করতে এসে ফাইনান্সিয়ালি অনেক লোকসান হয়েছে। সেভিংস যা ছিল সব শেষ হয়েছে।’ পুনশ্চ অংশে ফয়েজ আহমদ দাবি করেন, দায়িত্ব পালনকালে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন এবং একটি দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। পুরোনো আইন ও নীতিমালা পরিবর্তনে তিনি ব্যাপক পরিশ্রম করেছেন বলেও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলতে পারেন যে তিনি কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। পোস্টের শেষে সবার কাছে দোয়া কামনা করে তিনি লেখেন, ‘ভালো থাকবেন, দোয়া করবেন।’ উল্লেখ্য, শনিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি দুবাই হয়ে তিনি জার্মানি যান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন সংসদ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন সরকারের সংসদ সদস্যরা আগামী মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) শপথ নিতে যাচ্ছেন। এরপর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান। বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ সদস্যরা (এমপি) শুধু আইন প্রণয়ন ও জনগণের প্রতিনিধিত্বই করেন না, রাষ্ট্র তাদের জন্য নির্ধারণ করেছে সম্মানী-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার একটি বিস্তৃত কাঠামো। এসব সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ অনুযায়ী, যা সময় সময় সংশোধনের মাধ্যমে হালনাগাদ করা হয়েছে। নিচে আইনি কাঠামো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এমপিদের প্রাপ্ত প্রধান সুবিধাগুলো তুলে ধরা হলো— মাসিক সম্মানী সংসদ সদস্যরা মাসিক ৫৫ হাজার টাকা হারে সম্মানী পান। এটি তাদের মূল পারিশ্রমিক, যা পুরো দায়িত্বকালজুড়েই প্রযোজ্য। নির্বাচনী এলাকা ভাতা সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় কাজ পরিচালনা, জনসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতার জন্য পান মাসিক ১২ হাজার ৫০০ টাকা। আপ্যায়ন ভাতা অতিথি আপ্যায়ন, সামাজিক যোগাযোগ ইত্যাদির জন্য সংসদ সদস্যরা মাসিক পাঁচ হাজার টাকা ভাতা নির্ধারিত। শুল্কমুক্ত গাড়িসুবিধা সংসদ সদস্যদের একটি বড় সুবিধা হলো—দায়িত্বকালীন একটি গাড়ি/জিপ/মাইক্রোবাস; কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট, ডেভেলপমেন্ট সারচার্জ ও আমদানি পারমিট ফি ছাড়া আমদানির সুযোগ এবং পাঁচ বছর পর একই শর্তে আরেকটি নতুন গাড়ি আমদানির সুযোগ। পরিবহন ভাতা যাতায়াত, জ্বালানি, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন মিলিয়ে এমপিরা মাসিক ৭০ হাজার টাকা পরিবহন ভাতা পান। অফিস ব্যয় ভাতা নির্বাচনী এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। লন্ড্রি ও আনুষঙ্গিক ভাতা সংসদ সদস্যরা প্রতি মাসে লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য ব্যয় (রান্নার সরঞ্জাম, লিনেন, টয়লেট্রিজ) ছয় হাজার টাকা। ভ্রমণ ভাতা (সেশন ও কমিটি) সংসদ অধিবেশন বা কমিটির বৈঠকে অংশ নিতে—বিমান/রেল/জাহাজে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ পর্যন্ত ভাতা এবং সড়কপথে ভ্রমণে কিলোমিটার প্রতি ১০ টাকা পান। দৈনিক ভাতা দায়িত্ব পালনের সময় অবস্থান ভাতা—দৈনিক ভাতা ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ৭৫ থেকে ২০০ টাকা (উপস্থিতি রেকর্ডভিত্তিক) পান। দেশে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ প্রতি বছর সংসদ সদস্যরা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ-ভাতা অথবা সমপরিমাণের নন-ট্রান্সফারেবল ট্রাভেল পাস পান। চিকিৎসা সুবিধা সংসদ সদস্যরা ও তাদের পরিবার সদস্যরা প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা-সুবিধা এবং মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। টেলিফোন সুবিধা বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ এবং কল ও ভাড়া বাবদ মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা পান। বিমা-সুবিধা দায়িত্বকালীন দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকার বিমা-সুবিধা পান। ঐচ্ছিক অনুদান জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয়ের জন্য বছরে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ পান। কর সুবিধা এই আদেশ অনুযায়ী প্রাপ্ত ভাতাগুলো আয়করমুক্ত। প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব বনাম রাষ্ট্রীয় সুবিধা আইন অনুযায়ী এই সুবিধাগুলো সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা, নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিতি নিশ্চিত করা, গণসংযোগ জোরদার এবং প্রশাসনিক কাজ সহজ করার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাতার পরিমাণ, সুবিধার পরিধি ও জবাবদিহি নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে স্বচ্ছতা, কার্যকারিতা ও জনসেবার সঙ্গে সুবিধার সামঞ্জস্য নিয়ে।