আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের গণমাধ্যমে কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২১, ২০২৬
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু সরকার। ছবি : সংগৃহীত
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু সরকার। ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পূর্ব অনুমতি ছাড়া গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা ও গণমাধ্যম আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু সরকার।

 

বুধবার ২০ মে রাজ্য সরকার প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় সিভিল সার্ভিস, পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ সার্ভিস ও যে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আওতাধীন ও সাহায্যপ্রাপ্ত সংস্থাগুলিতে কর্মরত আছেন, তাদের গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে সরকারের থেকে অনুমতি নিতে হবে।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমে সরকারের কোনো নীতির নেতিবাচক সমালোচনা করতে পারবেন না কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তবে এই বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ইতিমধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। অনেকে বলছেন, গত সরকারের দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছিল সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকেই। ফলে এই নির্দেশিকা মতপ্রকাশের অধিকারের পরিপন্থী হতে পারে।

দিও বিজেপির পার্টির ঘনিষ্ট মহলের ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এই নিয়ম নতুন নয়, ১৯৭৬ সাল থেকেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাদের জন্য এই নিয়ম চালু আছে। গত সরকার এই নিয়মটি কঠোরভাবে বলবৎ করেনি।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
ইরানের এক-দুটি স্থাপনায় এখনো হামলা চালানো বাকি: ট্রাম্প

ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দেশটির আরও এক বা দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এখনো হামলা চালানো বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।    এসব স্থাপনার মধ্যে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত সন্দেহভাজন একটি পারমাণবিক স্থাপনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তবে ইরানকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি ও পারমাণবিক কর্মসূচির বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তাই নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে ওয়াশিংটন তাড়াহুড়ো করছে না।   ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছি।    তবে আমার হিসাবে এখনো এক বা দুটি স্থাপনার বিষয়টি বাকি রয়েছে। চাইলে মাত্র ১০ মিনিটেই সেগুলোতে হামলা চালাতে পারি।’   সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা সম্ভবত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের কথা বলতে পারেন। ওই স্থাপনাটির বিষয়টিও আমাদের সামাল দিতে হবে। চাইলে খুব দ্রুতই এসব কাজ শেষ করতে পারি।’   তবে ইরান সরকার ওই স্থানে কোনো ধরনের পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।   এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। একই সঙ্গে কূটনৈতিক ওপায়ে সংকট সমাধানের পথও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খোলা রয়েছে।   এদিকে শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের ওপর আবারও হামলা চালানোর হুমকির প্রেক্ষাপটে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।   যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর আগে তিনি ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলেও জানিয়েছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০১, ২০২৬

জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল জার্মানি: লুটপাট-ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ

ইসরায়েলে ইহুদি-আরব জোট সরকারের দাবিতে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

ইরান অবরোধে ১৪৪ বাণিজ্যিক জাহাজ ফিরিয়ে দিল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে যে নির্দেশ দিলেন মোজতবা খামেনি

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে সামরিক অভিযান চালালে তার জবাব সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। যেকোনো ধরনের হুমকির তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দিতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।   একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকা আরও বিস্তৃত করার নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের এই নেতা।   শনিবার (৩১ অক্টোবর) ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এসব নির্দেশ দেন মোজতবা খামেনি।   ইরান সরকারের এক বিবৃতিতে বৈঠকের বিষয়টি জানানো হয়েছে।   বিবৃতিতে মোজতবা খামেনিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, যেকোনো পর্যায়ের বা ধরনের হুমকির তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দিতে হবে।   এ ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখা মেনে চলা হবে না।   বৈঠকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আবদোল্লাহি, সেনাপ্রধান আমির হাতামি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমাদ ওয়াহিদি উপস্থিত ছিলেন।   সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এটিই মোজতবা খামেনির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।   বৈঠকে সামরিক কমান্ডারদের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করারও নির্দেশ দেন তিনি। এ তালিকায় ‘আমেরিকান ও জায়নবাদী শত্রুদের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব ধরনের সম্পদ’ অন্তর্ভুক্ত করতে বলেন।   ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর হুমকির পর সতর্কবার্তা   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নতুন করে হামলার হুমকির মধ্যে মোজতবা খামেনির এই বক্তব্য এলো। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহান্তে তিনি ইরানকে ‘একেবারে শেষ করে দেওয়ার’ কথা ভাবছেন বলেও মন্তব্য করেন।   অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক’ সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও কোনো দল বা জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এখনো সরকার গঠন হয়নি।   নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর মার্চ মাসে তার ছেলে মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় মোজতবাও আহত হয়েছিলেন।   ওই হামলার মধ্য দিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনা ও সম্পদে হামলা চালায় ইরান। বর্তমানে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ থাকলেও নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কা রয়েছে।   যুদ্ধ এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে পৌঁছেছেন। পাশাপাশি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মহসেন রেজায়ির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। মূলত দুই দেশের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু এবং নতুন করে মার্কিন হামলা এড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও জানিয়েছেন, আপাতত মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই তেহরানের।   এদিকে, ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকারামিনিয়া সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে শত্রুতা শুরু হলে যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। তার ভাষায়, যুদ্ধের আগুন আরও বড় ভৌগোলিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে।   তথ্যসূত্র:  এএফপি ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রীদের সামরিক প্রশিক্ষণে পাঠালেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, দোহায় হতে পারে সরাসরি বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের নীতি বদলে প্রথমবার শ্রমিক সংগঠন গড়ল বিজেপি

সংগৃহীত ছবি
ইরানের হামলায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি, ঘাঁটি সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ১৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, কুয়েত ও সৌদি আরবের বেশ কিছু সামরিক ঘাঁটি থেকে পিছু হটার কথা ভাবছে ওয়াশিংটন। এই প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কিছু পরিকাঠামো হয়তো আর মেরামতও করা হবে না।   ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী অবস্থানরত বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটির প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গতকাল তাদের নিজেদের কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে। ধ্বংসের এই বিশাল ধাক্কা পেন্টাগনের যুদ্ধের খরচ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই এই খরচ প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।   সংবাদপত্রটির বিশ্লেষণে জানা গেছে, মোট ২৪টি ঘাঁটির মধ্যে ২৭৪টি কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রথম দুই সপ্তাহেই অন্তত ১৩টি ঘাঁটির ১১৯টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটের সদর দফতর।    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণের জবাবে তেহরান পাল্টা এই আঘাত হেনেছিল, যার পর থেকেই এই সংঘটিত যুদ্ধ শুরু হয়।   বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানি হামলায় সামরিক ঘাঁটিগুলোর মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পেন্টাগন সর্বনিম্ন ৫ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করছে। যদিও পত্রিকাটির আরেকটি সূত্র দাবি করেছে যে, এই ক্ষতির পরিমাণ সর্বোচ্চ ১৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অনেক সামরিক ঘাঁটিই ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক মিত্রদের সাথে যৌথভাবে ব্যবহৃত হয়, যার কারণে মিত্রদেশগুলো এই ক্ষয়ক্ষতির কিছু অংশ বহন করতে পারে। পেন্টাগন হয়তো কিছু পরিকাঠামো একেবারেই পুনর্নির্মাণ না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।   বিশেষ করে, ওয়াশিংটন কুয়েত এবং সৌদি আরবের ঘাঁটিগুলো থেকে নিজেদের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কথা চিন্তা করছে, যাতে তারা ইরানি হামলার নাগালের বাইরে থাকতে পারে। টেকসই শান্তির জন্য তেহরান পূর্বে পুরো অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল।   সূত্র: আরটি

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তার পরিবারে ৩৬ টি ভিলা, দুর্নীতির তদন্তে তোলপাড় রাজস্থান

ছবি: সংগৃহীত

বিয়ে করলেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ, কনে কে

ছবি: সংগৃহীত

স্লোভেনিয়ায় ২০ বাংলাদেশিসহ ১৪৭ অভিবাসী আটক

0 Comments