আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে বুলডোজার অভিযান, রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার কয়েক দিনের মধ্যেই অবৈধ দখল ও অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে বড় অভিযান শুরু করেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তথা বিজেপি সরকার। কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় বুলডোজার নামিয়ে উচ্ছেদ করা হচ্ছে অবৈধ দোকান, হকার ও বহুতল ভবন।

 

সোমবার হাওড়া পুরসভার ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি পাঁচতলা ভবনের অংশ ভেঙে ফেলে প্রশাসন। অভিযোগ, ভবনটির জন্য মাত্র দুইতলা নির্মাণের অনুমতি থাকলেও পাঁচতলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছিল।

এর আগে শনিবার গভীর রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন এলাকায় বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে শত শত দোকান ও হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে।

বিজেপি সরকারের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, এটি কেবল শুরু। রাজ্যজুড়ে অবৈধ দখল ও নির্মাণের বিরুদ্ধে বুলডোজার অভিযান চলবে।

তিনি বলেন, সরকারি জমি দখল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আইন মানতে হবে, না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলকাতার ফুটপাত, রাস্তা ও রেলস্টেশন ঘিরে বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ দোকান ও স্থাপনা। পার্ক সার্কাস, গড়িয়াহাট, এসপ্ল্যানেড, বড়বাজার ও তপসিয়ার মতো এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যা রয়েছে।

হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনের আশপাশে চা, খাবার, পোশাক ও নিত্যপণ্যের অস্থায়ী দোকানে ভরে থাকত পথঘাট। এতে যাত্রী চলাচল ও যানজটে বড় সমস্যা তৈরি হচ্ছিল বলে দাবি প্রশাসনের।

গত ১২ মে কলকাতার তপসিয়া-তিলজলা এলাকায়ও বড় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অবৈধ চামড়ার কারখানায় আগুনে দুইজন নিহত হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ওই ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

কলকাতা পুরসভার দাবি, তপসিয়া-তিলজলা এলাকায় এক হাজারের বেশি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। গত এক দশকে নির্মিত প্রায় ৭০ শতাংশ ভবনই অবৈধ।

তবে কলকাতা হাইকোর্ট পরে ২২ জুন পর্যন্ত ওই এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেয়। অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, যথাযথ নোটিশ ছাড়াই তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।

উচ্ছেদ অভিযানের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহু হকার ও দোকান মালিক। তাদের দাবি, বহু বছর ধরে ব্যবসা করলেও কোনো আগাম নোটিশ দেওয়া হয়নি।

এক দোকানি বলেন, ১৫ বছর ধরে জুসের দোকান চালাচ্ছিলাম। রাতেই ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন কোথায় যাব?

আরেকজন বলেন, পুনর্বাসন না দিলে আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় থাকবে না।

এদিকে রাজ্যের বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযানকে নির্মম আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছে। তবে বিজেপি সরকার বলছে, শহরকে অবৈধ দখলমুক্ত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের পথে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট

মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট। বুধবার দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণে রণতরিটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আরও চারটি নৌযান রয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।   স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, চারটি নৌযানের একটি বহর নিয়ে দক্ষিণ চীন সাগর অতিক্রম করছে রণতরিটি। বহরটির চলাচলের গতিপথ বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, এটি মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে এগিয়ে যাচ্ছে।   গত ২৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো নৌঘাঁটি থেকে যাত্রা শুরু করে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট। পরে জাপানের ইয়োকোসুকায় অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিতে অবস্থান করে। সেখানে সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়ার পর দক্ষিণ চীন সাগরের দিকে অগ্রসর হয় রণতরিটি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে কয়েক দিন সিঙ্গাপুরে অবস্থান করবে বিমানবাহী রণতরিটি। এরপর মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখবে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দায়িত্বাধীন এলাকায় পৌঁছাতে রণতরিটির নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।   মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং নৌবহরের চলাচল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টকে ওই অঞ্চলে পাঠানোর সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা সেখানে পৌঁছানোর পর কী ধরনের দায়িত্ব পালন করবে, সে বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৪, আহত বেশ কয়েকজন

সংগৃহীত ছবি

চার দেশের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দিল ইরান

সংগৃহীত ছবি

ট্রাম্পের দলেই বিভক্তি, বিকল্প জোটের ভাবনায় ভ্যান্স

এআই নির্মিত প্রতীকী ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মাশুল, সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হলো যুক্তরাজ্য

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায় সুদের হার বাড়িয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (বিওই)।   বৃহস্পতিবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিনির্ধারণী সুদের হার ০.২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। ২০২৩ সালের পর এই প্রথম সুদের হার বাড়াল ব্যাংকটি।   যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের হামলার ফলে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে।    এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটল যুক্তরাজ্যও।   ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির যে চাপ তৈরি হয়েছে, তাতে সুদের হার বাড়ানো প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ধারাবাহিকভাবে সুদের হার বাড়ানোর সূচনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অবসান না হলে ভবিষ্যতে আরও এক দফা সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।   এদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ সত্ত্বেও ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।    তাদের নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং আগামী বছর ১ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়তে পারে। এর আগে উভয় বছরের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ছিল ১ দশমিক ১ শতাংশ।   সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। ব্যাংকটির পূর্বাভাস, আগামী বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।   এদিকে ২০২৭ সালের শুরু থেকে দেশটির লাখো মানুষের জ্বালানি বিল আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: ডন নিউজ

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ইউক্রেনের শান্তি আলোচনায় গুরুত্ব হারানোর শঙ্কা ইউরোপের: মেলোনি

সংগৃহীত ছবি

ইরানে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন ট্রাম্প, হরমুজ প্রণালিতে জ্বলছে ৫ ট্যাংকার

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ১৯টি বিমানে বোমা হামলার হুমকি, ভুয়া বলছে যুক্তরাজ্য

ছবি: সংগৃহীত
মদিনার দিকে হুতিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি সৌদি জোটের

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনার দিকে নিক্ষেপ করা ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করা হয় বলে জানিয়েছে জোটটি।   সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।   তিনি বলেন, হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে সৌদি জোটের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেটি প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির লক্ষ্য ছিল মদিনা অঞ্চল।   ইয়ানবু এলাকায় সতর্কতা জারি   এর আগে সৌদি আরবের মদিনা প্রদেশের লোহিত সাগর উপকূলবর্তী ইয়ানবু গভর্নরেট এলাকায় সতর্কতা জারি করেছিল দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ।   সতর্কতাটি অল্প সময়ের জন্য কার্যকর ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হয়নি   ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথা থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, এটি প্রতিহত করতে কী ধরনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনাটি নিয়ে হুতিদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   সূত্র:  আরব নিউজ ও সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

মোঃ নাহিদ হোসেন নভেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করছেন ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী দুই জাহাজ ও টাগবোটে আগুন

ছবি: সংগৃহীত

ভ্যান্সকে জুয়াড়ির সঙ্গে তুলনা করে কটাক্ষ ইরানের স্পিকারের

0 Comments