ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় ছাড়াও ইসরায়েলি বিমান বাহিনী প্রধানের সদরদফতরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরান।
সোমবার আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি ও মেহের নিউজের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসি বলেছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং ইসরায়েলি বিমান বাহিনী প্রধানের সদর দফতরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড বলেছে, ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর অপরাধী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং তাদের বিমান বাহিনীর কমান্ডারের সদরদফতরে হামলা চালানো হয়েছে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় ও বিমানবাহিনীর প্রধানের কার্যালয়ে হামলায় ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি খাইবার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে আইআরজিসি।
সূত্র: মেহের নিউজ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
একই লারিতে দুবার মিলিয়ন পাউন্ড জিতেছেন রিচার্ড ডেভিস নামের এক ব্যক্তি। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবেই এমন সৌভাগ্যের সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। নিজের এ জয়ের গল্পও তুলে ধরেছেন। এমনকি এ টাকা ব্যয় নিয়েও নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রিচার্ড। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ওই ব্যক্তির লটারি জয়ের গল্প তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। রিচার্ড বলেন, আমি ১৮ বছর বয়স থেকে লটারি খেলছি। সব সময়ই মনে হতো একদিন বড় কিছু জিতব। আমার সন্তানদের জন্মের পর তাদের জন্মদিন ও জন্মের ওজন দিয়ে নিয়মিত কিছু নম্বর বেছে নেওয়া শুরু করি। ২০১৮ সালের জুনে আমি মিড-ওয়েলসের টালগার্থে আমার হেয়ার সেলুনে এক ক্লায়েন্টের চুলে রং করছিলাম। রং বসার অপেক্ষায় থাকাকালে আমি লটারির টিকিটটা নিয়ে পাশের দোকানে গিয়ে চেক করলাম কিছু জিতেছি কি না। দোকানটা ভীষণ ব্যস্ত ছিল। ছোট শহর হেয়ারড্রেসার হিসেবে লাইনে থাকা প্রায় সবাইকে চিনতাম, তাই গল্প করতে লাগলাম। কাউন্টারের মহিলা আমার টিকিট স্ক্যান করে বললেন,আমি এটা দিতে পারব না, আপনাকে টিকিটটা ফেরত দিচ্ছি। পোস্ট অফিস কাউন্টারের লোকটা বলল, সে চাইলে আমি ৫০,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত দিতে পারি। তখন তিনি বললেন, না, এর চেয়ে বেশি। লাইনে সবাই জানতে চাইছিল, ও কী জিতেছে? তিনি জানান, আমি তখনও কিছু জানতাম না। তিনি বলেছিলেন আমি র্যাফেল প্রাইজ জিতেছি, কিন্তু সেটা কী তা আমি জানি না। আমি আবার সেলুনে ফিরে গিয়ে অনলাইনে দেখলাম। তখনই দেখি আমি ১ মিলিয়ন পাউন্ড জিতেছি। এ ঘটনার পর আমি আমার পার্টনার ফে-কে ফোন করলাম। সে তখন নাইট শিফটে কাজ করছিল, ঘুম ভাঙিয়ে দেওয়ায় খুব খুশি হয়নি। সে বলল, তুমি কি নিশ্চিত আমরা এক মিলিয়ন জিতেছি? তারপর বলল, হেল্পলাইনে ফোন করতে। আমি ফোন করলাম, তারা নিশ্চিত করল যে আমি ১ মিলিয়ন পাউন্ড জিতেছি এবং পরবর্তী ধাপগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু তখনই আমার ক্লায়েন্টের চুলের টাইমার বেজে উঠল, আমাকে কাজে ফিরে যেতে হলো। এত বড় খবর পেয়েও আবার চুল কাটায় ফিরে যাওয়াটা অদ্ভুত লাগছিল। তবে এতে আমি স্থির থাকতে পেরেছিলাম। রিচার্ড জানান, ক্লায়েন্টদের কাজের ফাঁকে ফাঁকে নানা চিন্তায় আমার মাথা ঘুরছিল। কাজ শেষে আবার ফোন করে নিশ্চিত হলাম। আমি অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। সবাই ভাবে, এক মিলিয়ন পেলে এটা করব, ওটা করব। কিন্তু সত্যি জেতার পর ব্যাপারটা একেবারেই আলাদা। অনেক দিন পর্যন্ত এটা বাস্তব মনে হয়নি। তিনি জানান, আমি অনেক দিন টাকায় হাত দিইনি। খরচ করতে ভয় লাগত। প্রথমে আমাদের চার সন্তানকে কিছু টাকা দিলাম। তারপর আমরা যে বাড়িটা ভাড়া নিয়ে থাকতাম সেটা কিনলাম, নতুন গাড়ি কিনলাম, আর কুকুরদের জন্য দৌড়ানোর মাঠ নিলাম। এরপর বিয়ে করলাম। ১০ বছর একসঙ্গে থেকেও আমরা কখনও কোথাও ঘুরতে যাইনি। তাই প্রথমে দুবাই গেলাম, তারপর মধুচন্দ্রিমায় মালদ্বীপ গিয়েছিলাম। স্থানীয় রাগবি ক্লাবের জন্য একটা মিনিবাস কিনে দিলাম, আর বন্ধু-পরিবারকে কিছু গাড়ি উপহার দিলাম। জেতার পরও আমি লটারি খেলা চালিয়ে গিয়েছিলাম। দোকান থেকে টিকিট কেনার বদলে অ্যাপ ব্যবহার শুরু করি, যেন কেউ প্রশ্ন না করে। আমার মনে হতো আমার নম্বরগুলো ভাগ্যবান, তাই সেগুলোই রাখতাম। অদ্ভুত শোনাতে পারে, কিন্তু সব সময়ই মনে হতো আমি আবারও জিতব। গত বছরের নভেম্বর মাসে অ্যাপে মেসেজ চেক করলাম। সেখানে দেখি আমি আবারও ১ মিলিয়ন পাউন্ড জিতেছি। তখন ভোর সাড়ে ৬টা, আধো ঘুমে ছিলাম। ফে-কে জাগিয়ে বললাম, আমাকে একটু চিমটি কাটো তো, আমি জেগে আছি কি না দেখি। আমরা বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। রিচার্ড জানান, তখন আমি ডেলিভারি ড্রাইভার হিসেবে কাজ শুরু করেছি। কাজে যাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছিল। অনেকেই বলে, লটারি জিতলে প্রথমেই চাকরি ছাড়বে। কিন্তু প্রথমবার জেতার পরও আমি হেয়ারড্রেসিং চালিয়ে গিয়েছিলাম। আমার ব্যবসা নিয়ে গর্ব ছিল, গ্রাহকদের প্রতিও দায়িত্ববোধ ছিল। পরে ২০২৩ সালে সেলুন বন্ধ করি এবং এক বছর ধরে একটা ক্যাম্পার ভ্যান ঠিকঠাক করি। কাজ না করা আমার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো ছিল না। এক বছর বিরতির পর এক বন্ধু আমাকে কুরিয়ারে চাকরি দেয়। সেদিন সকালে ট্রাকে মাল তুলছিলাম, আর নিজের মনে হাসছিলাম। দুপুরে হেল্পলাইনে ফোন করলাম। প্রথমবার জেতার সময় যে লোকটির সঙ্গে কথা হয়েছিল, তার সঙ্গেই আবার কথা হলো। সে যেমন অবাক, আমরাও তেমনই। দ্বিতীয়বার জেতার পরও প্রথমেই আমরা আমাদের সন্তানদের টাকা দিলাম। তারপর আমাদের স্বপ্নের বাড়ি কিনলাম। বাকি টাকার জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। আমরা ছোট একটি কমিউনিটি থেকে এসেছি। সবাই আমাদের চেনে, এবং সবাই আমাদের জন্য খুশি। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, দুইবার লটারি জেতার সম্ভাবনা বলা হয় প্রায় ২৪ ট্রিলিয়নে একজনের। যদিও সব সময় মনে হতো আবার জিতব। বাস্তবেও এটি সত্যি হয়েছে। যদিও এখনও বিশ্বাস করা কঠিন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তার শরীরে প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্ত হয়েছিল। বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ করতে গিয়ে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) তিনি এ তথ্য জানান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ৭৬ বছর বয়সী এই নেতা বলেন, দুই মাস আগে তার ক্যানসার ধরা পড়লেও তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ বিলম্ব করেন। তার দাবি, ইরান যেন বিষয়টি নিয়ে প্রচারণা চালাতে না পারে, সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রোস্টেটের সমস্যার জন্য অস্ত্রোপচার করান নেতানিয়াহু। পরবর্তী নিয়মিত পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা তার প্রোস্টেটে এক সেন্টিমিটারেরও কম আকারের একটি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার শনাক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত চিকিৎসকদের চিঠিতে বলা হয়েছে, এটি খুব প্রাথমিক পর্যায়ের একটি ক্ষুদ্র টিউমার, যা শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েনি। অন্যান্য পরীক্ষাতেও কোনো জটিলতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে টিউমারটি অপসারণ করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।
১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপে চলতি বছরই একটি বিল উত্থাপন করবে নরওয়ে। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপরই থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটি। অসলো থেকে এএফপি জানায়, এক বিবৃতিতে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইউনাস গাহর স্টোর বলেন, ‘আমরা এই আইন আনছি কারণ আমরা এমন একটি শৈশব চাই, যেখানে শিশুরা সত্যিকারের শিশু হয়ে বেড়ে উঠতে পারে। খেলাধুলা, বন্ধুত্ব ও দৈনন্দিন জীবন অ্যালগরিদম ও পর্দার দখলে চলে যেতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘শিশুদের ডিজিটাল জীবন সুরক্ষায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’ ফ্রান্স, স্পেন ও ডেনমার্কসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ডিজিটাল প্রাপ্তবয়স্ক বয়সসীমা চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্ক ইতোমধ্যে এমন ব্যবস্থা কার্যকর করেছে। ইউরোপীয় কমিশনও শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান জানিয়েছে। এর অংশ হিসেবে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে তারা একটি বয়স যাচাই অ্যাপ উন্মোচন করেছে, যা শিগগিরই ইউরোপীয় নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। নরওয়ের ডিজিটালাইজেশন ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী কারিয়ান তুং বলেন, ‘আমি আশা করি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বয়সসীমা কার্যকরভাবে মেনে চলবে। শিশুদের এমন প্ল্যাটফর্ম থেকে দূরে থাকার দায়িত্ব তাদের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না, যেগুলো ব্যবহারের অনুমতি তাদের নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই দায়িত্ব সেবাদানকারী কোম্পানিগুলোর। তাদের কার্যকর বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং আইন কার্যকরের প্রথম দিন থেকেই তা মেনে চলতে হবে।’ নরওয়ে সরকার জানিয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে পর্দা ব্যবহারের নির্দেশিকা এবং মোবাইলমুক্ত স্কুলের সুপারিশসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে শিশুদের মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের হার ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে।