প্রবাসী

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে আরও একজন বাংলাদেশি নিহত

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ০৩, ২০২৬ 0
নিহত বাংলাদেশি। ছবি: সংগৃহীত
নিহত বাংলাদেশি। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চলমান সংঘাতের মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ছাড়া পৃথক ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত সাতজন। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে একটি বেসামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলায় সালেহ আহমেদ নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি সিলেটের বড়লেখায়। বর্তমানে বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ থাকায় তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

 

এ ছাড়া বাহরাইনে আরও এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। তার নাম এসএম তারেক। তিনি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের পাহাড়ের গো মসজিদ এলাকার মৃত সাইদুল হকের ছেলে। বাহরাইনে এ ঘটনায় আরও তিন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। মানামায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

 

এদিকে কুয়েতের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলায় আরও চার বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আমিনুল ইসলাম, পাবনার সাঁথিয়ার রবিউল ইসলাম, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মাসুদুর রহমান ও কুমিল্লার চান্দিনার দুলাল মিয়া। কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হাসপাতালে গিয়ে তাদের খোঁজ নিয়েছেন।

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে আটকা পড়েছে। তবে জাহাজের ক্যাপ্টেনসহ সব ক্রু নিরাপদ আছেন বলে নিশ্চিত করেছে দূতাবাস।

 

মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত প্রায় ৬০ লাখ বাংলাদেশির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে নিযুক্ত বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোকে প্রবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও পরামর্শ (অ্যাডভাইজরি) জারি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রবাসীদের সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

সরকার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, এসএম তারেক বাহরাইনে একটি ড্রাইডক শিপইয়ার্ডে কাজ করতেন। সোমবার স্থানীয় সময় সকালে বাহরাইনের রাজধানী মানামার কাছে একটি সামুদ্রিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি জাহাজের ওপর পড়লে তারেক ঘটনাস্থলে নিহত হন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার মামাতো ভাই চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক মো. মোশারফ হোসেন।

 

তিনি যুগান্তরকে বলেন, তারেকের মৃত্যুর বিষয়টি তার কোম্পানি থেকে জানানো হয়েছে। কোম্পানির লোকজন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছে, তারেকের লাশ সেখানকার মর্গে রয়েছে। আইনগত সব ধরনের প্রক্রিয়া শেষে লাশ দেশে পাঠাবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তারেক গত ২৭ বছর ধরে বাহরাইনে কর্মরত ছিলেন।

 

বড়লেখায় শোকের মাতম : বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানায়, ২৫ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইয়ের আজমান সিটিতে পানির ট্যাঙ্কারের ড্রাইভারের চাকরি করতেন বড়লেখা পৌরশহরের বাঁশতলা এলাকার যুবক সালেহ আহমেদ। তিন মাস আগে দেশে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে গেছেন তিনি।

 

এদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সোমবার সকালে সালেহ আহমদের স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনদের খবর নিয়েছেন। সোমবার দুপুরে তার গ্রামের বাড়িতে গেলে স্বজনদের মাতম দেখা যায়। স্ত্রী-সন্তান, বোন-সহ আত্মীয়-স্বজনের বিলাপে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
৩৫ বাংলাদেশিসহ ২৪৫ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া

ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ইমিগ্রেশন জোহর রাজ্য শাখার অধীনে পরিচালিত পাইনঅ্যাপল টাউন ইমিগ্রেশন ডিপো থেকে বিভিন্ন দেশের ২৪৫ জন বন্দিকে নিজ নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে।   সোমবার (২ মার্চ) দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে। প্রত্যাবর্তনকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৮২ জন মিয়ানমার, ৬৮ ইন্দোনেশিয়া, ৩৫ বাংলাদেশি, ২৬ পাকিস্তানি, ২৩ ভারতীয় নাগরিক। এছাড়া দুজন করে নাইজেরিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের নাগরিক এবং নেপাল, সিরিয়া, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া ও কঙ্গোর একজন করে নাগরিক রয়েছেন। সব বন্দিকে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনাল ১ ও ২ (কেএলআইএ ১ ও ২) এবং স্টুলাং লাউত ফেরি টার্মিনালের মাধ্যমে নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে।  সংশ্লিষ্ট সবাই বৈধ পাসপোর্টধারী ছিলেন। যাদের পাসপোর্ট ছিল না, তাদের নিজ নিজ দূতাবাসের মাধ্যমে অস্থায়ী ভ্রমণ নথি বা ‘ইমার্জেন্সি ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ ইস্যু করা হয়। প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত বিমান টিকিটের ব্যয় বন্দিদের ব্যক্তিগত সঞ্চয়, পরিবারের আর্থিক সহায়তা এবং কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বহন করেছে। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, প্রত্যাবাসিত সব ব্যক্তিকে বিভাগের সিস্টেমে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তারা আর কোনো উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন না। বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাজা সম্পন্ন করার পরও যেন কোনো বন্দি দেশে অবৈধভাবে অবস্থান করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই নিয়মিতভাবে এ প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এটি পাইনঅ্যাপল টাউন ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোর প্রধান কার্যক্রমগুলোর একটি। প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম—যেমন টিকিট ক্রয় ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়—পাইনঅ্যাপল টাউন ইমিগ্রেশন ডিপোতে স্থাপিত সেবা কাউন্টারে সম্পন্ন করা যাবে বলেও বিবৃতিতে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ০৩, ২০২৬ 0
নিহত বাংলাদেশি। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে আরও একজন বাংলাদেশি নিহত

রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। ছবি : সংগৃহীত

সৌদিতে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তি

ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীদের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

ছবি : সংগৃহীত
হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার-রেমিট্যান্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে হামলা এবং ইরানের পাল্টা আক্রমণের জেরে বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান। পাশাপাশি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার। প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রায় ৬০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন। সেখান থেকেই আসে দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৪৯ শতাংশ।   ইরান হামলার জবাবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত, বাহরাইন, ইয়েমেন ও ইরাকে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এসব দেশে প্রায় ৪০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মরত। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বন্ধ হওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক–এর মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বিদায়ী ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০২ কোটি ১০ লাখ ডলার। প্রতিদিন গড়ে এসেছে ১০ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২৫২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। গত নভেম্বরে দেশে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।   বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, মোট রেমিট্যান্সের ৪৯ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশ থেকে। রেমিট্যান্স আহরণের শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে ছয়টিই মধ্যপ্রাচ্যের—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান ও বাহরাইন।   বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্যমতে, সৌদি আরবে ২৫ লাখের বেশি বাংলাদেশি কাজ করছেন। দেশটি থেকে মোট রেমিট্যান্সের ১৫ শতাংশ বা তার বেশি আসে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে ১৩ শতাংশ; সেখানে কর্মরত রয়েছেন ১২ লাখের বেশি বাংলাদেশি। কুয়েতে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার, কাতারে ৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি, ওমানে ১ লাখ ৮৮ হাজার এবং বাহরাইনে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মরত। এছাড়া ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকানপাটসহ নানা ব্যবসায় জড়িত।   যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অনেক শ্রমিক ও ব্যবসায়ী বেকার হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হতে পারেন, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।   জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি–এর সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মোবারক উল্লাহ শিমুল বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছে। নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা বা বন্ধ বাজার পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়নি। উপরন্তু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নতুন বিধিনিষেধ আরোপে ব্যবসায়ীরা চাপে পড়েছেন। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে বহু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং শ্রমিকরা নিঃস্ব অবস্থায় দেশে ফিরতে পারেন।   তিনি সরকারের প্রতি প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, হটলাইন চালু রাখা এবং শ্রমিকদের দেশে ফেরত আসা ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধাক্কা লাগলে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হতে পারে।   প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্ল্যা ভূঁইয়া বলেন, ইতোমধ্যে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে হটলাইন চালু করা হয়েছে এবং শ্রমিকদের নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ০২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইউরোপীয় শ্রমবাজারে ১০ লাখ দক্ষ কর্মী পাঠানোর মাস্টারপ্ল্যান উপস্থাপন

ড্রোন হামলায় আহত বাংলাদেশি নাগরিক।

কুয়েতে ড্রোন হামলা : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আমিনুলসহ ৪ বাংলাদেশি আহত

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিমানবন্দরে আটকেপড়া যাত্রীদের সেবায় হটলাইন চালু

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে উৎকণ্ঠায় প্রবাসীদের পরিবার, দূতাবাসের জরুরি সতর্কবার্তা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনার জেরে চরম আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে চট্টগ্রামের প্রবাসী পরিবারগুলোর। বিশেষ করে রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীসহ বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার প্রবাসীর স্বজনেরা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিরাপদ স্থানে থাকা এবং অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জরুরি নোটিশ জারি করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।   শনিবার সন্ধ্যার পর থেকেই চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগরসহ বিভিন্ন গ্রামে আতঙ্কের ছায়া নেমে আসে। মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, রিয়াদ, দোহা ও বাহরাইনে অবস্থানরত স্বজনদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা।   ইফতারের পরপরই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রবাসীদের খোঁজ নিতে ফোনে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত হয়ে পড়েন স্বজনরা। প্রতিটি ‘ব্রেকিং নিউজ’ মানেই যেন নতুন এক দুশ্চিন্তা। কাতারের দোহায় থাকা রাঙ্গুনিয়ার তসলিম উদ্দিন জানান, হামলার খবরে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমনকি ড্রোন হামলার কারণে কর্মস্থল থেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই তাদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী শাহানা আক্তার দেশে বসে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, স্বামী-ভাই সবাই সেখানে আছে, ছোট বাচ্চারাও টেনশন করছে। মন মানছে না।   সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং দুবাইয়ের কনস্যুলেট জেনারেল প্রবাসীদের জন্য জরুরি হটলাইন চালু করেছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীদের জন্য নিচের নির্দেশনাগুলো দেওয়া হয়েছে : যে কোনো সামরিক স্থাপনার আশপাশ থেকে দূরে থাকা, বিপদ না কাটা পর্যন্ত খোলা আকাশের নিচে না যাওয়া, অযথা জটলা বা জনসমাগম এড়িয়ে চলা ও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়া।   দুবাইয়ে কর্মরত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি থমথমে হলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশিরা নিরাপদ আছেন। তবে আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন পাকিস্তানি নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।   সংঘাতের কারণে আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় অনেক প্রবাসীর যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। ওমানগামী যাত্রী কাশেম মাহবুব জানান, ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তিনি যেতে পারেননি, অথচ তার ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে। এমন পরিস্থিতিতে কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে অনেকের মধ্যে।   এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে প্রবাসীরা দেশে ফিরবেন নাকি সেখানেই থাকবেন, তা নিয়ে চরম সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। কোম্পানি থেকে ছাঁটাই বা জোরপূর্বক দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার শঙ্কাও কাজ করছে তাদের মনে।   প্রবাসীদের নিরাপত্তা কামনায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় আচার পালন করা হচ্ছে। হাটহাজারীর সরকার হাট এলাকায় মাওলানা জুলহাস উদ্দিনের পরিবারের উদ্যোগে স্থানীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রবাসে থাকা সব বাংলাদেশির সুস্থতা ও নিরাপত্তা কামনায় এ আয়োজন করা হয় বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।   বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আটকে পড়া কর্মীদের পুনরায় প্রবেশের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ০১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

খুব শিগগিরই প্রবাসী কার্ড চালু করা হবে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ওমানে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা

ছবি: সংগৃহীত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে লিবারেল পার্টি অফ অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক ইফতার অনুষ্ঠিত

0 Comments