স্পেনের কর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে বড় জয় পেয়েছেন কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা। তার ওপর আরোপিত ৫৫ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা অবৈধ ঘোষণা করে তা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির জাতীয় উচ্চ আদালত। রায়ে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে শাকিরা স্পেনে করদাতা হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ১৮৩ দিন সেখানে ছিলেন, এমন প্রমাণ দিতে পারেনি কর কর্তৃপক্ষ।
আদালতের হিসাবে ওই বছর তিনি স্পেনে ছিলেন ১৬৩ দিন, যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে ২০ দিন কম। ফলে সেই করবর্ষে তাকে স্পেনের কর বাসিন্দা হিসেবে ধরা যাবে না।
শাকিরার আইনজীবীরা আদালতে জানান, ২০১১ সালে তিনি বিশ্ব সফরে ছিলেন। ওই সফরে ৩৭টি দেশে ১২০টি কনসার্টে অংশ নেওয়ায় বছরের অর্ধেকের বেশি সময় স্পেনে থাকা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না।
রায়ের পর গায়িকা বলেন, ‘দীর্ঘ আট বছর ধরে আমাকে জনরোষ, অপপ্রচার ও মানসিক চাপ সহ্য করতে হয়েছে।’ আদালতের এ সিদ্ধান্তে ‘অবশেষে সত্য স্পষ্ট হয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, জরিমানার অর্থের সঙ্গে সুদও শাকিরাকে ফেরত দিতে হবে। তবে কর সংস্থা জানিয়েছে যে, তারা সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করবে এবং চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ দেওয়া হবে না। কলম্বিয়ার এ তারকার মূল বাড়ি বাহামায়।
কলম্বিয়ান এ তারকা ২০১০ সালে স্পেনের ফুটবলার জেরার্দ পিকের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় স্পেনে বসবাস করেছেন। দীর্ঘ সম্পর্কে বিয়ের বাঁধনে না জড়ালেও ২০১৩ ও ২০১৫ সালে তাদের দুই সন্তান হয়।
২০২২ সালে এ সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদের ঘোষণাও দেন এই গায়িকা। তবে ২০২৩ সালের নভেম্বরে একটি সমঝোতা চুক্তির আওতায় শাকিরা ২০১২-১৪ সালের কর ফাঁকির ছয়টি অভিযোগ স্বীকার করেন। এবং কারাদণ্ড এড়াতে ৭.৩ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা দিতে রাজিও হন। সেই সময় শাকিরা বলেছিলেন যে, সন্তানদের রক্ষা করতে এবং ক্যারিয়ারে মন দিতে তিনি এ সমঝোতায় পৌঁছেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের আসন্ন সিনেমা ‘কিং’-এর প্রথম গান ‘তু মিল যায়ে’ প্রকাশের পর নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গানটির একটি দৃশ্যে অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের গেরুয়া রঙের পোশাক নিয়ে আপত্তি তুলেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সংসদ সদস্য রবীন্দ্র সিং নেগি। একই সঙ্গে দৃশ্যটি পরিবর্তন না করলে দেশজুড়ে বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রি প্রেস জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীপিকার পোশাকের রংকে কেন্দ্র করে আপত্তি জানিয়েছেন বিজেপি নেতা নেগি। তার দাবি, গেরুয়া রঙের পোশাক ব্যবহার করে সনাতন ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে শাহরুখ খানকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর মন্তব্যও করেন তিনি। সিনেমার দৃশ্যটি বাদ না দিলে দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের হুঁশিয়ারি দেন এই বিজেপি নেতা। নেগি আরও দাবি করেন, তিন বছর আগে মুক্তি পাওয়া ‘পাঠান’ সিনেমায় দীপিকার গেরুয়া রঙের পোশাক নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল। সে সময় বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন প্রতিবাদ জানিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার বক্তব্য, সনাতন ধর্মের বিরুদ্ধে কোনো কিছুই মেনে নেওয়া হবে না। তাই ‘কিং’ সিনেমার বিতর্কিত দৃশ্য পরিবর্তন করতে হবে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সিনেমাটির পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দ, শাহরুখ খান কিংবা দীপিকা পাড়ুকোনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ‘কিং’ সিনেমায় শাহরুখ খানের সঙ্গে অভিনয় করছেন দীপিকা পাড়ুকোন ও শাহরুখকন্যা সুহানা খান। এ ছাড়া সিনেমাটিতে আরও রয়েছেন অভিষেক বচ্চন, রানি মুখার্জি, কারিনা কাপুর, অনিল কাপুর, জ্যাকি শ্রফ, আরশাদ ওয়ার্সি, জয়দীপ আহলাওয়াত, রাঘব জুয়াল, সৌরভ শুক্লা ও ববি দেওলসহ একাধিক তারকা। সিনেমাটি আগামী ২৪ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত প্রয়াত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর নানা টানাপোড়েন শেষে শনিবার গভীর রাতে পিরোজপুরে পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে তাকে দাফন করা হয়। রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহেল রানা। সোমবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে মানিক পশারীর দাফন ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান সোহেল রানা। তিনি লেখেন, ‘একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাকে কবর দেওয়ায় বাধা সৃষ্টি করল স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এবং হারিকেন জ্বালিয়ে তার আলোতে আলোকিত করে তার কন্যাসন্তান নিজ হাতে মাটি খুঁড়ে বাবার কবর তৈরি করল। আগের কবরটি স্বাধীনতাবিরোধীরা মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এই অভিনেতা। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘আগের কবরটি স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়েছে। স্বাধীনতার স্বপক্ষীয় শক্তি নাকি বর্তমানে সরকার পরিচালনা করছে। কোনো আলামত তো দেখা গেল না। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে সোহেল রানা লেখেন, ‘সরকারের কাছে এর সঠিক জবাব চাই।’ মুক্তিযোদ্ধাদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের উপলব্ধির কথাও তুলে ধরেন তিনি। সোহেল রানা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে তারা হয়তো ব্যর্থ হয়েছেন। তার ভাষায়, ‘নইলে প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ কোনোটাই তো দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। পোস্টের শেষ দিকে নিজের ক্ষোভ ও কষ্টের কথা জানিয়ে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা লেখেন, ‘না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার আগে এমনি ধরনের সংবাদ আমার মতো অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তক্ষরণ করে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষীয় শক্তি সবাই জেগে ওঠো। এবার আর ক্ষমা নয়।’ উল্লেখ্য, মানিক পশারীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন।
বিভিন্ন মাধ্যমে স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে ছড়ানো খবরের ‘ভিত্তি নেই’ বলে দাবি করেছেন নির্মাতা ও সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। পাশাপাশি তার ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার তথ্য তুলে ধরে একটি সাইবার অপরাধী গ্রুপ ‘উল্লাস’ করছে বলেও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন তিনি। শনিবার সকাল থেকে ফেইসবুক একাউন্ট হ্যাক হয়েছে জানিয়ে ফারুকী বলেন, “আজ সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে দেখলাম এই ঘটনা। অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টা করে ডিঅ্যাক্টিভেট করে রেখেছে। বাংলাদেশের একটা সাইবার অপরাধী গ্রুপ, তারা এটা করে বিভিন্ন গ্রুপে সেলিব্রেট করছে। আমার কাছে স্ক্রিনশট আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এগুলো নিয়ে তৎপর হওয়া দরকার, এগুলোতো নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়। অনলাইনে ছড়ানো বিচ্ছেদের গুজব ও কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এ বিষয়ক সংবাদে কান দেওয়ার মত সময় তার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার পক্ষে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর দেওয়া স্ক্রিনশট। ক্ষোভ প্রকাশ করে এই নির্মাতা বলেন, “ওই নিউজের ওপর কথা বলার কোনো টাইম নাই, হ্যাভ নো ইন্টারেস্ট। এসবের কোনো ভিত্তি নেই। এসব অপদার্থদের কথায় কান দেওয়ার মত সময় আমার নেই।” বিদেশে স্থাবর সম্পত্তি থাকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনাকে ‘কৌতুকপ্রদ’ আখ্যা দিয়ে ফারুকী বলেন, “সবচেয়ে কৌতুকপ্রদ বিষয় হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ডে একটা লোকের বাড়ি থাকা, এটা তো যে কেউ সার্চ দিলেই বের করে ফেলতে পারে। এসব অপপ্রচার আমাকে নিয়ে আগেও ছিল। বরং এসব অপ্রাসঙ্গিক বিতর্ক এড়িয়ে আমার কাজের খবর নিয়ে নিয়ে লিখুন।” বর্তমানে দুটি বিজ্ঞাপনের কাজ শেষ করেছেন তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “একটা বিজ্ঞাপন হচ্ছে সফটওয়্যার নিয়ে, আর একটা বিজ্ঞাপন হচ্ছে বিল্ডিং মেটেরিয়ালস এর। এই দুইটার শুটিং হয়েছে ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং দক্ষিণ কোরিয়ায়।” অচিরেই তৃতীয় আরেকটি বিজ্ঞাপন তৈরি করবেন জানিয়ে ফারুকী বলেন, “আরেকটা বিজ্ঞাপনের শুটিং শুরু হবে সামনে। সেখানে একজন সেলিব্রেটি থাকবেন। সেটা কে হয়তো আগামী একদিনের মধ্যে বলতে পারব।” দুইটি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করেছেন তথ্য দিয়ে এই নির্মাতা বলেন, “চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্টের একটা হচ্ছে প্রেমের গল্প, থ্রিলার টাইপের না। প্রেমের সংজ্ঞাও বদলে যাচ্ছে এখন নতুন জেনারেশনের। এই নতুন নতুন সংজ্ঞার প্রেম ধরার চেষ্টা করছি। জেন-জি জেনারেশন আরকি। তাদের প্রেমের ব্যাপারটা কি দাঁড়ায় সেটা দেখার চেষ্টা করছি এই সিনেমাতে। এটার স্ক্রিপ্ট প্রায় লেখা শেষ। এটার আপাতত নাম রেখেছি ‘টু হেল, উইথ লাভ’। “আরেকটা হচ্ছে পলেটিক্যাল ব্যাকড্রপের স্টোরি, সেটাও আমরা শেষ করতেছি। কোনটি আগে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি।” এদিকে ‘বিচ্ছেদ গুঞ্জন’ প্রসঙ্গে জানতে নুসরাত ইমরোজ তিশাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। দীর্ঘদিন ধরে শোবিজে পরিচিত ফারুকী ও তিশা দম্পতি ২০১০ সালের ১৬ জুলাই বিয়ে করেন। ২০২২ সালে জন্ম নেয় তাদের কন্যাসন্তান ইলহাম নুসরাত ফারুকী। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিশা টিভি নাটক ছাড়াও ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’, ‘টেলিভিশন’, ‘অস্তিত্ব’, ‘ডুব’, ‘হালদা’, ‘মায়াবতী’ ও ‘ফাগুন হাওয়ায়’ সহ বেশ কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তৌকির আহমেদের পরিচালনায় ‘হালদা’ ও অনন্য মামুন পরিচালিত ‘অস্তিত্ব’ সিনেমার জন্য দুইবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। অন্যদিকে ১৯৯৯ সালে নির্মাণ শুরু করা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ‘ছবিয়াল’ এর ব্যানারে ‘স্পার্টাকাস ৭১’, ‘একান্নবর্তী’, ‘সিক্সটিনাইন’ ও ‘৪২০’- সহ একক ও ধারাবাহিক নাটক তৈরি করেছেন। পরবর্তীতে ‘ব্যাচেলর’, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’, ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’, ‘টেলিভিশন’, ও ‘ডুব’-এর মত আলোচিত চলচ্চিত্র তৈরি করেছেন। সবশেষ তিনি ‘৮৪০: ডেমোক্রেসি প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি সিনেমা তৈরি করেন; যেটি ২০২৪ সালে মুক্তি পেয়েছিল। এরপর আর চলচ্চিত্রে পাওয়া যায়নি তাকে।