ভারত মহাসাগরে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার পর উদ্ধার হওয়া নাবিকদের দেশে ফেরত না পাঠাতে শ্রীলঙ্কার ওপর চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
রোববার (৮ মার্চ) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভ্যন্তরীণ বার্তার বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে Reuters।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী গল–এর উপকূল থেকে প্রায় ১৯ নটিক্যাল মাইল দূরে ইরানের ফ্রিগেট ‘আইরিশ দেনা’–তে সাবমেরিন থেকে টর্পেডো হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। হামলার পর জাহাজটি ডুবে যায় এবং এতে বহু নাবিক নিহত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো নৌযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ জানায়, ডুবে যাওয়া জাহাজটি থেকে ৩২ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২০ জনকে চিকিৎসা দেওয়ার পর একটি বিমান বাহিনীর ঘাঁটিতে নেওয়া হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে আটকে পড়া ইরানের নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বুশেহর’–কেও হেফাজতে নিয়েছে কলম্বো। বৃহস্পতিবার থেকে জাহাজটিতে থাকা ২০৮ জন নাবিককে নামানো শুরু হয়েছে।
রয়টার্সের যাচাই করা মার্কিন কূটনৈতিক বার্তায় বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ‘বুশেহর’ জাহাজের ক্রু এবং ডুবে যাওয়া ‘দেনা’ জাহাজ থেকে উদ্ধার হওয়া নাবিকদের ইরানে ফেরত না পাঠাতে শ্রীলঙ্কাকে অনুরোধ জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
এ বিষয়ে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েক বলেন, বিপদে পড়া নাবিকদের সহায়তা করা মানবিক দায়িত্ব। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি শ্রীলঙ্কার নিজস্ব আইন ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সৌদি আরবে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের এক সেনা নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশ সময় সোমবার রাতে এ তথ্য জানায় মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড। তারা বলেছে, সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আহত এক সেনা মারা গেছেন। তিনি গত ১ মার্চ আহত হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করে সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি বাহিনীর প্রাথমিক হামলার সময় আহত এক মার্কিন সেনাসদস্য গতকাল রাতে মারা গেছেন। গত ১ মার্চ সৌদি আরবে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার সময় তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন। অপারেশন এপিক ফিউরি-তে এই নিয়ে মোট সাতজন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হলেন। বর্তমানে সেখানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের জানানোর ২৪ ঘণ্টা পর ওই নিহত যোদ্ধার পরিচয় প্রকাশ করা হবে। সূত্র: আল-জাজিরা
ইরানে গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর ঘণ্টা তিনেকের মধ্যেই পাল্টা হামলা শুরু করে তেহরান। তারা ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সামরিক স্থাপনা নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে। বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, ইরানের এই পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা ক্রমাগত দুর্বল হচ্ছে। কিন্তু যুদ্ধ যদি দীর্ঘ হয়, সেক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা কমলেও আশপাশের দেশগুলোতে দেশটির ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলার ঝুঁকি থেকেই যাবে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। ইরান ও তাদের মিত্র— হিজবুল্লাহ, ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠী কিংবা ইয়েমেনের হুথিরা যে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ বা অন্য কোথাও পাল্টা হামলা চালাতে পারে, সে শঙ্কাও মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে রয়েছে। ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত আসার মতো কোনো হুমকি আছে কিনা, গেল সপ্তাহে ট্রাম্পের কাছে সেই প্রশ্ন রেখেছিল টাইম সাময়িকী। মার্কিন প্রেসিডেন্টের জবাব ছিল, “আমার মনে হয় আছে। আমেরিকানদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে। “আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে হ্যাঁ, কিছু ঘটনা ঘটতেই পারে। যেমনটা আমি আগেও বলেছি, কিছু মানুষ মারা যাবে। যখন আপনি যুদ্ধে যান, কিছু মানুষ তো মারা যাবেই।” গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সওফান সেন্টারের’ নির্বাহী পরিচালক কোলিন পি ক্লার্ক মনে করেন, ইরানের পাল্টা আঘাতের উদ্দেশ্য শুধু প্রতিশোধ নেওয়া নয়। তারা হামলার মাধ্যমে পশ্চিমা দেশের নাগরিকদের মধ্যে সরকাবিরোধী মনোভাব উসকে দিতে চাইবে। কারণ এ ধরনের মনোভাব বাড়তে থাকলে পশ্চিমা সরকারগুলো ইরানে হামলার ইতি টানতে বাধ্য হবে। ক্লার্ক বলেন, ইরানের খুব বেশি কিছু হারানোর নেই। ফলে তারা অতীতের তুলনায় আরও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিজেদের ভূখণ্ডে সম্ভাব্য সহিংসতার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। বিবিসির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রচলিত অর্থে যুদ্ধে জয়ী হওয়া বলতে যেটা বোঝায়, সেটার জন্য ইরান লড়ছে না। তারা লড়ছে নিজেদের মতো করে টিকে থাকার জন্য। সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, ইরান সম্ভবত ‘প্রতিরোধ’ ও ‘সহনশীলতার’ ওপর ভিত্তি করে কৌশল গড়ে তুলেছে। গত এক দশকে তারা কয়েক স্তরের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, দূরপাল্লার ড্রোন এবং অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীর পেছনে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। দ্য আটলান্টিকের নিবন্ধে ক্লার্ক লিখেছেন, ইরান ও তাদের মিত্রদের বিদেশে হামলার ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৯২ সালে হিজবুল্লাহর মহাসচিব আব্বাস মুসাউইকে হত্যা করে ইসরায়েল। এর জবাবে আর্জেন্টিনায় ইসরায়েলি দূতাবাসে গাড়িবোমা হামলা চালিয়ে ২৯ জনকে হত্যা করে হিজবুল্লাহ। দুই বছর পর একই শহরে তারা ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে হামলা চালিয়ে ৮৫ জনকে হত্যা করে। লাতিন আমেরিকাজুড়ে হিজবুল্লাহ বহু দশক ধরে নিজেদের উপস্থিতি ধরে রেখেছে এবং সেখানে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর সক্ষমতা তাদের এখনো রয়েছে। সবশেষ ২০১২ সালে বুলগেরিয়ার বুরগাসে ইসরায়েলি পর্যটকবাহী একটি বাসে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ছয়জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়। ক্লার্ক বলেন, বছরের পর বছর বলিভিয়া, সাইপ্রাস, জর্জিয়া, কেনিয়া, পেরু, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে হিজবুল্লাহর সন্দেহভাজন বহু ষড়যন্ত্র ভেস্তে দেওয়া হয়েছে, যা তাদের বৈশ্বিক উপস্থিতির জানান দেয়। ২০২০ সালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর্পসের কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনার পর ইরান আরও হামলার চেষ্টা করেছে বলে জানান সওফান সেন্টারের’ নির্বাহী পরিচালক ক্লার্ক। তার তথ্যানুযায়ী, গেল পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ১৭টি ইরানি ষড়যন্ত্র ভেস্তে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প, সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে হত্যার চক্রান্তেও তেহরানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোয়েন্দা (এমআই-ফাইভ) প্রধান ম্যাককালাম দাবি করেন, তিন বছরে যুক্তরাজ্যে ইরানসমর্থিত ২০টি ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করা হয়েছে। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর জার্মানিতে সন্দেহভাজন ইরান-সমর্থিত একটি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা হয়। সর্বশেষ যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন আগে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, তারা ‘অনেক ইরানি তৎপরতা ও পরিকল্পনা’ নজরদারি করছিলেন, কিন্তু এগুলো কখন হামলার মতো ঘটনায় রূপ নেবে, তা তারা জানেন না। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস। এরপর পাল্টা হামলার শিকার হয় তারা। ওই ঘটনার পর দুর্বল হয়ে পড়ে ইরানি মিত্রদের জোট— ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’। ফলে গেল জুনের মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার সময় ইরান তাদের মিত্রদের কাছ থেকে জোরালো সমর্থন পায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, শত্রুপক্ষ মোকাবেলার ক্ষেত্রে ইরানের ঘরের জন্য এক ধরনের প্রস্তুতি এবং বাইরের জন্য আরেক ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে। কোলিন পি ক্লার্ক বলছেন, নিজ দেশের বাইরে পশ্চিমাদের ওপর ইরান আঘাত হানতে পারে তিনভাবে। একটা হলো, ‘অনুপ্রাণিত হামলা’, যেখানে ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে হামলা চালাতে পারে। আরেকটা হলো, নির্দেশনা পেয়ে হামলা। এ ধরনের হামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের মতো তৃতীয় পক্ষকে ব্যবহার করতে পারে ইরান। আর তৃতীয় পন্থা হতে পারে ‘স্লিপার সেলের’ মাধ্যমে হামলা চালানো। সাধারণত আগে থেকে পশ্চিমা দেশগুলোতে অবস্থান করা এজেন্ট বা মিত্ররা এ ধরনেরর হামলা চালাতে পারে। নিজ ভূখণ্ডে কী কৌশল? বিবিসি তাদের বিশ্লেষণে লিখেছে, ইরান যে এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়বে, সেই অনুমান তেহরানের আগে থেকেই ছিল। ফলে সে অনুযায়ী তাদের প্রস্তুতিও রয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, ইরান সামরিক দিক থেকে নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা ভালো করেই জানে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড তাদের নাগালের বাইরে, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, যেগুলোর অবস্থান তাদের নাগালের মধ্যেই। ইসরায়েলের অবস্থানও দেশটির আয়ত্তের মধ্যে রয়েছে। এবারের যুদ্ধে ইরান দেখিয়েছে, ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব কিছু নয়। একটি ক্ষেপণাস্ত্র যখন সেই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেঙে ফেলে, তা শুধু সামরিক শক্তিতে নয়, ইসরায়েলের মনস্তত্ত্বেও প্রভাব ফেলে। চলমান যুদ্ধে জ্বালানি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। হরমুজ প্রণালি এখনও বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই পথ ইরান এখনো পুরোপুরি বন্ধ করেনি। কিন্তু তাতেই জ্বালানি তেলের বাজার চড়তে শুরু করেছে। ফলে সংঘাত চলতে থাকলে দাম আরও বাড়তে পারে। আর সেক্ষেত্রে যুদ্ধের ইতি টানার চাপ বাড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর। ফলে উত্তেজনা শুধু সামরিকভাবে প্রতিপক্ষকে কোনঠাসা করে না, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার খরচও বাড়িয়ে তোলে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে হামলার মাধ্যমে তেহরান হয়ত এ বার্তাই দিতে চাইছে যে, মার্কিন বাহিনীকে আশ্রয় দেওয়াটা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তেহরান হয়ত আশা করছে, এসব দেশের সরকার যুদ্ধ সীমিত বা বন্ধ করার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। কিন্তু তেহরানের এমন চিন্তাভাবনাকে ‘বিপজ্জনক জুয়া’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। কারণ এতে হিতে বিপরীত হওয়ার ঝুঁকিও আছে। এসব দেশ ইরানের বিষয়ে আরও কঠোর হতে পারে এবং তারা পোক্তভাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে জোট বাঁধতে পারে। বিবিসির সাংবাদিক আমির আজিমি বলছেন, ইরানের যদি টিকে থাকাই প্রধান লক্ষ্য হয়, তবে শত্রুর সংখ্যা বাড়ানোটা তাদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আবার সংযমেও সমান ঝুঁকি রয়েছে। কারণ এটা অনেকেই তাদের দুর্বলতা হিসেবে নিতে পারে। আমির আজিমি তার বিশ্লেষণে লিখেছেন, ইরানের কৌশল সম্ভবত এই বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে যে, তেহরান যতটা ব্যথা সইতে পারবে, ততটা ব্যথা দেওয়ার খরচ হয়ত প্রতিপক্ষ বহন করতে চাইবে না। ফলে এই যুদ্ধে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জয়ের প্রয়োজন নেই; তাদের প্রয়োজন টিকে থাকা। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব কি না এবং সেটা প্রতিবেশীদের দূরে ঠেলে না দিয়েই সম্ভব কি না, সেই উত্তর জানতে অপেক্ষার কথা বলেছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজ করছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গত সপ্তাহের পাঁচ কর্মদিবসে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ৩৫ শতাংশের বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ডব্লিউটিআই ব্র্যান্ডের জ্বালানি তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম ১২ শতাংশ বেড়ে ৯০ দশমিক ৯০ ডলার ছুঁয়েছে। একই দিনে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের প্রতি ব্যারেলের দাম ৯ শতাংশের বেশি বেড়ে ৯৩ ডলারে উঠেছে। সপ্তাহজুড়ে ডব্লিউটিআই জ্বালানির দাম বেড়েছে ৩৫ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে ব্রেন্টের দাম বেড়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ, যা ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বড় উত্থান। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপোটে ইরান গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) থেকে বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু করে। হামলার প্রথম দিনই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে শুরু করে ইরানও। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সামরিক সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সংঘাত অচিরেই স্তিমিত হয়ে আসবে এমন কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বরং দুই পক্ষই একে অন্যের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।