ডুমা, অধিকৃত পশ্চিম তীর – গত সপ্তাহে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অধিকৃত পশ্চিম তীরের আকাশ দিয়ে উড়ে যাচ্ছে।
কিন্তু পশ্চিম তীরের গ্রামীণ এলাকায় ছোট ছোট ফিলিস্তিনি বসতিগুলোতে আকাশের ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র বা সেগুলো ভূপাতিত করার চেষ্টা করা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চেয়ে মাটিতে থাকা ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরাই বেশি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।
সপ্তাহের শুরুতে উত্তর পশ্চিম তীরের ডুমা গ্রামের শত বছরের পুরোনো মোসাল্লাম পরিবারের বাড়ি থেকে প্রায় ২০ মিটার দূরে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে। তবুও থাবেত এ ঘটনায় খুব বিচলিত হননি।
২৪ বছর বয়সী তিনি বলেন, “আকাশে রকেট আছে, কিন্তু ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা আমাদের দরজায়।”
তিনি আরও বলেন, “অবশ্যই বসতি স্থাপনকারীরা এবং সেনাবাহিনীই আমাদের জন্য বিপদ। এখন আমরা আসলে তাদেরই ভয় পাচ্ছি।”
‘সেনাবাহিনী গেট বন্ধ করে, আর বসতি স্থাপনকারী এসে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে’
১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখল করা ভূমিতে গড়ে ওঠা ইসরায়েলি বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এসব বসতিতে সাইরেন ও বোমা আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে, কিন্তু পাশের ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়গুলোর জন্য এমন কোনো সুরক্ষা নেই। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরায়েলের দায়িত্ব তাদের অধীনস্থ জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া।
কিন্তু শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গ্রামীণ পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে, আর বসতি স্থাপনকারীরা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গ্রামীণ এলাকায় লিফলেট বিতরণ করে পশ্চিম তীরের গভর্নরেটগুলোর মধ্যে চলাচল নিষিদ্ধ করেছে। সেখানে লেখা ছিল, “সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসীরা শুধু মৃত্যু, ধ্বংস ও বিপর্যয় নিয়ে আসে।”
এর আগে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলার পর যেভাবে অবরোধ দেওয়া হয়েছিল, এবারও একইভাবে গ্রামগুলোর প্রবেশপথে থাকা গেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং গ্রামগুলোর মধ্যে চলাচল বন্ধ করতে নতুন গেটও বসানো হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের চ্যাট গ্রুপগুলোতে আরও উসকানিমূলক বার্তা ছড়ানো হয়েছে। এমন এক পোস্টে লেখা ছিল, “এই সুযোগ হাতছাড়া করো না। এখন সময় শত্রুকে পরাজিত করে তাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার।”
সাম্প্রতিক কয়েক দিনের বহু হামলার মধ্যে সোমবার ডুমা থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে কারিউত এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের একটি দল দুই ফিলিস্তিনি ভাইকে হত্যা করে। সেখানে তাদের ফিলিস্তিনি বাড়িঘরের দিকে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে।
মোসাল্লাম পরিবারের কাছে কয়েকটি বেদুইন সম্প্রদায়ও বাস করে, যাদের মধ্যে কিছু মানুষ ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার পর খিরবেত আইন আর-রাশাশ এলাকা থেকে সহিংসভাবে উচ্ছেদ হয়েছিল। তারা বলছে, পরিস্থিতি দ্রুত আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠছে।
৩৫ বছর বয়সী মুহাম্মদ, যিনি প্রতিশোধের ভয়ে নিজের পারিবারিক নাম প্রকাশ করেননি, বলেন, “কেউ ভেতরে বা বাইরে যেতে পারছে না। এখানে মানুষের কাছে খাবার বা পানীয় কিছুই নেই। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কেউ ডাক্তারের কাছে যেতে পারছে না, হাসপাতালে যেতে পারছে না, রুটি কিনতে পারছে না, কেউ খেতেও পারছে না।”
একই ধরনের সংকটে পশ্চিম তীরের অনেক সম্প্রদায় পড়েছে। চলাচল এতটাই সীমিত যে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলিও তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না।
মুহাম্মদ বলেন, “সেনাবাহিনী গেট বন্ধ করে দেয়, আর বসতি স্থাপনকারী এসে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে।”
তিনি বলেন, বসতি স্থাপনকারীরা মানুষকে “অস্ত্র দেখিয়ে, ভয় দেখিয়ে, মারধর করে এবং লাঠি দিয়ে আক্রমণ করে” হুমকি দেয়।
তিনি বলেন, “প্রতিদিন তারা ছোট ছোট বাচ্চাদের মারে, মানুষকে ভয় দেখায়, আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তারা চিৎকার করে বলে— ‘নিষেধ! বাড়ি ফিরে যাও! বাড়ি থেকে বের হওয়া নিষেধ! নিষেধ! নিষেধ! নিষেধ!’ সবকিছুই নিষিদ্ধ।”
‘সহিংসতার এক উন্মত্ততা’
সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাড়তে থাকা সহযোগিতার মাধ্যমে বসতি স্থাপনকারীরা শুধু এই বিচ্ছিন্ন সম্প্রদায়গুলোকে অবরুদ্ধ করেই রাখেনি, বরং তাদের ওপর হামলাও চালাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার কয়েকজন বসতি স্থাপনকারী মুহাম্মদের সম্প্রদায়ে ঢুকে এক ৭০ বছর বয়সী ব্যক্তিকে আক্রমণ করে। কিছু ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ করলে এবং একজন হামলাকারীর ঠোঁট ফেটে গেলে, একজন বসতি স্থাপনকারী আকাশে দুটি গুলি ছোড়ে।
এরপর কয়েক ঘণ্টা ধরে সহিংস তাণ্ডব চলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সেনারা এসে পৌঁছানোর পরও হামলা বন্ধ হয়নি। আরও কয়েকজন সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারী যোগ দিয়ে এলাকাজুড়ে ঘুরে ঘুরে বাসিন্দাদের লাথি মারে, মারধর করে এবং পেপার স্প্রে ব্যবহার করে। একজন বসতি স্থাপনকারী সম্প্রদায়ের পানির ট্যাংকও খালি করে দেয়।
মারধরের ফলে বহু ফিলিস্তিনি পুরুষের মাথায় আঘাত লাগে। এক ঘটনায় হৃদরোগে আক্রান্ত এক বৃদ্ধা নারী যে ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন সেখানে পেপার স্প্রে করা হয়। বসতি স্থাপনকারীরা গাড়ি ভাঙচুর করে এবং অন্যান্য সম্পত্তিও নষ্ট করে।
ইসরায়েলি সংহতি আন্দোলনের এক কিশোরী কর্মী ইয়ায়েল রসমারিন, যিনি ওই হামলার সময় অন্য কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে পেপার স্প্রে আক্রান্ত হন, বলেন, “আমি আগে কখনো বসতি স্থাপনকারীদের এমন দেখিনি।”
আরেক ইসরায়েলি কর্মী ইয়োতাম, যিনি ওই দিন একাধিকবার হামলার শিকার হন, বলেন, “এটা যেন সহিংসতার এক উন্মত্ততা ছিল।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সেনারা ঘটনাস্থলে এসে দাঁড়িয়ে থাকলেও সহিংসতা চলতেই থাকে, যার ভিডিও প্রমাণও রয়েছে।
আরেক কর্মী আদেলে শোকো বলেন, তিনি একজন সৈন্যকে “লক্ষ্য করে সরাসরি ফিলিস্তিনিদের দিকে গুলি করতে” দেখেছেন।
মুহাম্মদ বলেন, “সেনাবাহিনী তাদের রক্ষা করছিল, যাতে তারা জিনিসপত্র ভাঙতে পারে এবং মানুষকে আক্রমণ করতে পারে।”
পরদিন কিশোর বসতি স্থাপনকারীরা আবার ফিরে এসে নিরাপত্তা ক্যামেরা ও টেলিভিশন চুরি করে নিয়ে যায়। গ্রামবাসীরা এলে তারা লাঠি দিয়ে ফিলিস্তিনি ও সংহতি কর্মীদের আঘাত করে এবং পেপার স্প্রে করে। তারা আরারার ভাইয়ের মাথা ফাটিয়ে দেয়। মুস্তাফা রিজিকের ভাতিজা ঘটনাটি ভিডিও করতে গেলে তারা তাকে আক্রমণ করে, ফোন ছিনিয়ে নিয়ে একটি অল-টেরেইন গাড়িতে করে পালিয়ে যায়।
আরারা বলেন, “এই হামলাটা আলাদা ছিল, কারণ তারা শিশুদেরও মেরেছে। আমরা শিশুদের জন্য ভয় পাচ্ছি, আর তারা আমাদের বিদ্যুৎও কেটে দিয়েছে।”
প্রতিদিনের হামলার মধ্যে আরারা শিশুদের শান্ত থাকার জন্য বলেন, আকাশে উড়ে যাওয়া রকেটগুলোকে তিনি “বৃষ্টির মধ্যে বজ্রধ্বনি” বলে বোঝান, যদিও তিনি স্বীকার করেন তাদের টিনের ঘর এসব থেকে খুব বেশি সুরক্ষা দেয় না।
তবে পরিবারের জন্য আসল ভয় অন্য জায়গায়।
আরারা বলেন, “আমরা ঘুমাতে যাওয়ার সময় বসতি স্থাপনকারীদের কথা বলি। ঘুম থেকে উঠেও তাদের কথাই বলি।”
সোমবারের হামলার পর আরারা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্প্রদায়ের নারী ও শিশুদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
রিজিক বলেন, “রকেট? লাখে একবার আপনার ওপর পড়তে পারে। কিন্তু বসতি স্থাপনকারী? না, সে তো আসছেই।”
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রুশ দখলকৃত ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড থেকে রাশিয়া কর্তৃক ‘চুরি করা’ শস্য ইসরায়েলি বন্দরে প্রবেশের অনুমতি পাওয়ার অভিযোগ তুলে ইসরায়েলের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এই বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কিয়েভ নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, এমন শস্য বহনকারী আরেকটি জাহাজ ইসরায়েলের একটি বন্দরে পৌঁছেছে এবং তা খালাসের প্রস্তুতি চলছে। তিনি লিখেছেন, কোন জাহাজ বন্দরে আসছে এবং তারা কী পণ্য বহন করছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে অবগত নয়, এমনটি হওয়ার সুযোগ নেই। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বেড়েছে। গত মঙ্গলবার ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিলেন। ইসরায়েলের সংবাদপত্র হারেৎজর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকৃত এলাকা থেকে শস্য বহনকারী সন্দেহে প্যানোরমিটিস নামের একটি জাহাজ হাইফা বন্দরে নোঙরের অনুমতির অপেক্ষায় আছে। চলতি বছর এমন চারটি চালান ইতোমধ্যে ইসরায়েলে খালাস করা হয়েছে। তবে ইউক্রেনের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সার ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, শস্য যে চুরি করা, সেটির কোনও প্রমাণ ইউক্রেন দিতে পারেনি। একই সঙ্গে তিনি কিয়েভের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে কূটনীতি পরিচালনার অভিযোগ করেছেন। জেলেনস্কির দাবি, রাশিয়া সুপরিকল্পিতভাবে ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চল থেকে শস্য লুট করছে এবং তা ‘দখলদারদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের’ মাধ্যমে রফতানি করছে। তিনি বলেন, এই ধরনের ‘পরিকল্পনা’ ইসরায়েলি আইনের লঙ্ঘন। জেলেনস্কি জানান, এই চালানগুলো ঠেকাতে ইউক্রেন কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিলেও এখনও এমন একটি জাহাজকে আটকানো সম্ভব হয়নি। জেলেনস্কি আরও জানান, কিয়েভ এখন নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ তৈরির কাজ করছে। এই নিষেধাজ্ঞা মূলত ‘যারা সরাসরি এই শস্য পরিবহন করছে এবং যারা এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে, এমন ব্যক্তি ও আইনি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে’ প্রয়োগ করা হবে। তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের জন্য ইউক্রেন ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করবে। গত রাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নও একইভাবে ইসরায়েলে রাশিয়ার শস্যবাহী জাহাজ নোঙরের প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সতর্ক বার্তা দিয়েছে। জেলেনস্কি লিখেছেন, ইউক্রেন প্রতিটি রাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। আমরা আশা করি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইউক্রেনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে এবং আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষুণ্ণ করে, এমন কাজ থেকে বিরত থাকবে।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছে জার্মানি। এর জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ-এর মন্তব্যের বিপরীতে কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, জার্মানির চ্যান্সেলর মনে করেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা ঠিক আছে। তিনি জানেন না তিনি কী বলছেন। ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে পুরো বিশ্ব জিম্মি হয়ে পড়বে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতে বর্তমান অভিযান প্রয়োজনীয় ছিল এবং এ ধরনের পদক্ষেপ আগেই নেওয়া উচিত ছিল। অন্যদিকে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানকে ভুলভাবে পরিকল্পিত বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এ ধরনের সংঘাতে শুধু প্রবেশ করাই নয়, সেখান থেকে বের হওয়ার পথও গুরুত্বপূর্ণ। যার উদাহরণ হিসেবে আফগানিস্তান ও ইরাকের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন। এদিকে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বানও জানিয়ে আসছে জার্মানি। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত আলোচনার সুযোগটি তেহরানের গ্রহণ করা উচিত। তার মতে, ইরানের জনগণের স্বার্থেই এই সুযোগ কাজে লাগানো জরুরি এবং গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো সম্ভব।
চলমান যুদ্ধ থেকে বের হতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফা ‘জয় ঘোষণা’ দিতে পারেন—এমন সম্ভাবনা নিয়ে ইরান কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তা বিশ্লেষণ করছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, দ্রুত উত্তেজনা কমানো গেলে হোয়াইট হাউসের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ কমবে। তবে এতে আশঙ্কাও রয়েছে। এই সুযোগে ইরান তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আবার শক্তিশালী করতে পারে। গোয়েন্দা বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ‘জয়’ ঘোষণা দিয়ে সেনা কমিয়ে আনে, তাহলে ইরান এটিকে কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখবে। অন্যদিকে, যদি মার্কিন সেনা উপস্থিতি বজায় থাকে, তাহলে সেটিকে আলোচনায় চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ধরা হবে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাড়াহুড়া করে কোনো ‘খারাপ চুক্তি’ করবে না। তিনি বলেন, যেকোনো চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে হবে। এদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখায় বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং তেলের দাম বেড়েছে। কূটনৈতিক আলোচনা চললেও এখনো কোনো সমাধান আসেনি। অন্যদিকে, সামরিক বিকল্পও এখনো বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলার পরিকল্পনাও থাকতে পারে। তবে স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা আগের তুলনায় কম বলে জানা গেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে এমন চুক্তি করতে হবে যাতে তারা কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোতে না পারে। এদিকে ইরান বলছে, নতুন করে আলোচনা শুরু করতে হলে আগে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নিতে হবে। এছাড়া তারা হরমুজ প্রণালির জন্য নতুন আইনি কাঠামো, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিপূরণের দাবিও তুলেছে। তথ্যসূত্র : শাফাক নিউজ