আমেরিকা ও ইরানের সংঘর্ষ আবারও আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর বড় দুর্বলতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
যে জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়, সেই হরমুজ প্রণালি ইরান ও আমেরিকার দ্বন্দ্বে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর তেল-গ্যাস রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে এই ক্ষতি সব দেশের ক্ষেত্রে একরকম হয়নি। কাতার, বাহরাইন ও কুয়েত সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। কারণ তাদের রপ্তানির প্রায় পুরোটাই হরমুজের ওপর নির্ভরশীল।
অন্যদিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত কিছুটা চাপ সামলাতে পেরেছে। তারা যথাক্রমে ইয়ানবু ও ফুজাইরাহ বন্দরের মাধ্যমে বিকল্প পথে কিছু তেল সরিয়ে নিতে পেরেছে। কিন্তু এই পথগুলোর ক্ষমতা সীমিত। হরমুজের সম্পূর্ণ বিকল্প হওয়ার মতো শক্তি তাদের নেই।
সংঘর্ষ শেষ হয়ে গেলেও সমস্যার শেষ হচ্ছে না। ভবিষ্যতে আবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে উপসাগরীয় দেশগুলো নিশ্চিত করে বলতে পারবে না যে তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি সরবরাহ করতে পারবে।
কারণ সাম্প্রতিক সংঘর্ষে পরিষ্কার হয়ে গেছে, হরমুজ প্রণালি ইরানের কৌশলগত অস্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এই পথকে ইরান ভবিষ্যতেও ব্যবহার করবে, এমন সম্ভাবনাই প্রবল।
এই অনিশ্চয়তাকেই এখন ‘হরমুজ সংকট’ বলা হচ্ছে। এই সংকট শুধু উপসাগরীয় দেশগুলোর সংকট নয়, এটি এশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। তাই বিকল্প ভাবনা শুরু হয়েছে।
কোথাও কৌশলগত তেল মজুত বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। কোথাও নতুন বাজার ও নতুন সরবরাহপথ খোঁজা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতেই পাকিস্তান একটি নতুন প্রস্তাব সামনে আনতে পারে। তারা উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিজেদের ভূখণ্ডে তেল ও গ্যাস সংরক্ষণের সুবিধা ভাড়া দেওয়ার কথা ভাবছে। এর মূল লক্ষ্য, হরমুজ বন্ধ থাকলেও যাতে ক্রেতারা বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি পেতে পারে।
পরিকল্পনাটি এমন—কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, আমিরাতের তেল, বাহরাইনের পেট্রোলিয়াম পণ্য, এমনকি সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলও পাকিস্তানের উপকূলবর্তী অঞ্চলে সংরক্ষণ করা হবে।
প্রয়োজন হলে সেগুলো গওয়াদার, পোর্ট কাসিম বা অন্য জ্বালানি কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা যাবে।
দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চিনের মতো বড় এশীয় ক্রেতাদের কাছে এটি এক ধরনের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে। ভবিষ্যতে হরমুজ ঘিরে সংঘাত হলেও তারা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হবে না। পাকিস্তানে থাকা এই মজুত যেন এক ধরনের বিমার মতো কাজ করবে।
পাকিস্তানের অবস্থান এই পরিকল্পনার জন্য বিশেষ সুবিধাজনক। সাম্প্রতিক এক শরও বেশি দিনের সংঘর্ষে দেখা গেছে, তারা ইরান ও উপসাগরীয় দেশ—দু’পক্ষের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পেরেছে।
ফলে ভবিষ্যতে কোনো সংঘাত হলেও ইরান পাকিস্তানের ভেতরে থাকা এই মজুতকে সহজে লক্ষ্যবস্তু করবে না, এমন ধারণা করা যায়। কূটনৈতিক ভারসাম্য ও প্রতিরোধ ক্ষমতার নিরিখে পাকিস্তান একটি গ্রহণযোগ্য ভরসাস্থল হতে পারে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এই ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। এতে তারা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আশ্বস্ত করতে পারবে যে, হরমুজে সমস্যা হলেও সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হবে না। চুক্তি রক্ষা করা সহজ হবে।
অতীতে যেমন বাধ্য হয়ে অনেক দেশ ‘ফোর্স মাজোর’ ঘোষণা করেছিল, সেই পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
সবচেয়ে বড় কথা, এতে সংঘর্ষের অঞ্চলের বাইরে একটি দ্বিতীয় রপ্তানি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আসবে। একটিমাত্র জলপথের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।
পাকিস্তানের দিক থেকেও লাভ কম নয়। এতে তাদের উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে।
শুধু নিরাপত্তা নয়, জ্বালানি, অবকাঠামো, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও সামুদ্রিক সহযোগিতার মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়বে। পাকিস্তান নিজেকে একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।
এই পরিকল্পনা পাকিস্তানের বৃহত্তর ভূ-অর্থনৈতিক লক্ষ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিদেশি বিনিয়োগ আসতে পারে। গওয়াদার বন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
সংরক্ষণাগার, পাইপলাইন, পরিশোধনাগার—সব মিলিয়ে নতুন শিল্প পরিকাঠামো তৈরি হবে। কর্মসংস্থান বাড়বে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন পথ খুলবে। সিন্ধু ও বেলুচিস্তানের মতো অঞ্চলেও অর্থনৈতিক গতি আসতে পারে।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জমি, পরিকল্পনা, অনুমোদন ও কেন্দ্র-প্রদেশের সমন্বয়—সবই প্রয়োজন। অতীতে পাকিস্তানের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বহু বড় প্রকল্পকে ধীর করে দিয়েছে। এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
সব মিলিয়ে হরমুজের সংকট শুধু একটি বিপদ নয়, নতুন চিন্তার সুযোগও তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের প্রধান ধমনি হিসেবেই থাকবে, কিন্তু একে ঘিরে নির্ভরশীলতা যে ঝুঁকিপূর্ণ, তা সাম্প্রতিক ঘটনাই প্রমাণ করেছে।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান যদি নিজেদের ভূখণ্ডকে কৌশলগত সংরক্ষণকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরতে পারে, তবে তা একসঙ্গে উপসাগরীয় দেশ, এশীয় ক্রেতা এবং পাকিস্তান—তিন পক্ষেরই উপকারে আসতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরোধিতাকারীদের ‘শয়তানের প্রভাবাধীন’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। তাঁর এমন বক্তব্য ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এমনকি দেশটির রক্ষণশীল মহলের কয়েকজনও এ মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। গত ২৩ অক্টোবর ইসরায়েলি উপস্থাপক আমির তসারফাতির সঞ্চালনায় ‘দ্য অ্যাঙ্কর পডকাস্টে’ অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন হাকাবি। সম্প্রতি ওই সাক্ষাৎকারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। যুদ্ধবিরোধীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য পডকাস্টে হাকাবি বলেন, যারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সমালোচনা করছেন, তাঁদের মন শয়তান অন্ধ করে দিয়েছে এবং তাঁদের চিন্তাভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধের বিরোধিতাকারীরা ‘আধ্যাত্মিক অন্ধকার ও আধ্যাত্মিক অন্ধত্বে’ ভুগছেন। তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সমালোচকদের মতে, যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশকারীদের এভাবে আখ্যায়িত করা একজন কূটনীতিকের জন্য অস্বাভাবিক। রক্ষণশীল মহলেও সমালোচনা হাকাবির বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল সাময়িকী ‘দ্য আমেরিকান কনজারভেটিভ’-এর জ্যেষ্ঠ সম্পাদক অ্যান্ড্রু ডে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের বিরোধিতাকারীরা শয়তানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন, এমন তত্ত্ব তুলে ধরে একজন রাষ্ট্রদূতের এভাবে কথা বলা সত্যিই অদ্ভুত। অ্যান্ড্রু ডের এ মন্তব্যের মধ্য দিয়ে হাকাবির বক্তব্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনৈতিক পরিসরেও যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট হয়েছে। ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মতবিরোধ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে মতপার্থক্য রয়েছে। যুদ্ধের পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই হাকাবির মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এ বিতর্ক আরও গুরুত্ব পেয়েছে। নির্বাচনকে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থন যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। হাকাবির মন্তব্য তাই শুধু একজন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই; বরং ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনকেও সামনে এনেছে। সূত্র: আল জাজিরা।
তিন দিনের সফরে আগামীকাল সোমবার ঢাকায় আসছেন এডিনবার্গের ডাচেস সোফি হেলেন। ৯ থেকে ১১ নভেম্বর তার এই সফরে নারীর ক্ষমতায়ন, যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। আজ ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশন থেকে প্রচারিত রয়্যাল কমিউনিকেশন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তিন দিনের এই সফরে ডাচেস দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের শক্তি ও ব্যাপ্তি তুলে ধরে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও সংগঠনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এতে আরও বলা হয়, ঢাকায় তিনি নারী ও কন্যাশিশুদের কল্যাণ, সুরক্ষা এবং ক্ষমতায়নে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে এবং শান্তি ও নিরাপত্তায় নারীদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরতে ডাচেস ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং (বিআইপিএসওটি)’ পরিদর্শন করবেন। এছাড়া নারী ও কন্যাশিশুদের নতুন সুযোগ তৈরিতে ক্রীড়ার ভূমিকা তুলে ধরতে তিনি ‘বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’ (বিকেএসপি)-এ নারী হকি খেলোয়াড়সহ তরুণ অ্যাথলেটদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। এই সফরে বাংলাদেশে ‘ব্রিটিশ কাউন্সিল’-এর ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন করা হবে, যেখানে ডাচেস শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং নারী ক্ষমতায়ন জোরদারে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন । কক্সবাজারে তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন এবং বাস্তুচ্যুত নারী, কন্যাশিশু ও পরিবারগুলোর সুরক্ষা ও সহায়তা সেবা সংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন। তার এই সফর বাস্তুচ্যুত নারী ও শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়তে পুনর্বাসন, সুরক্ষা ও অন্তর্ভুক্তি সেবার পাশাপাশি শরণার্থী সম্প্রদায়ের মধ্যকার সক্ষমতা ও নেতৃত্ব জোরদারের প্রচেষ্টা প্রতিফলিত হবে। যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের অনুরোধে ডাচেস বাংলাদেশ সফর করছেন। এর আগে তিনি ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সফর করেন।
সৌদি আরবের সঙ্গে সিরিয়ার সামরিক চুক্তির মূল লক্ষ্য সেনাদের প্রশিক্ষণ ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি। তবে ইয়েমেনে সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে দামেস্ক। শনিবার সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা-কে (এসএএনএ) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির এক কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বর্তমানে ইয়েমেনে সিরিয়ার সামরিক বাহিনী পাঠানোর বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের কোনো ভিত্তি নেই। সিরিয়ার অগ্রাধিকার এখন দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার, পুনর্গঠন এবং অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা। সূত্রটি জানায়, আগামী ডিসেম্বর থেকে সৌদি আরবের সমন্বয়কারী প্রতিনিধিদলের সিরিয়া সফর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সফরের নির্দিষ্ট তারিখ বা অংশগ্রহণকারীদের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। রিয়াদের সঙ্গে বর্তমান সামরিক চুক্তির আওতায় প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সামরিক পরামর্শ দেওয়ার বিষয়গুলো রয়েছে। তবে প্রশিক্ষণ চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি সূত্রটি। গত ৪ নভেম্বর সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার রিয়াদ সফরের সময় দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি সামরিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে। ওই সফরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট। সিরীয় সূত্রটি সানাকে আরও জানায়, সৌদি আরবের সঙ্গে এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি কিংবা মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে সিরিয়ার যোগদানের পথ তৈরি করতে পারে। তবে তা নির্ভর করবে উভয় পক্ষের অভিন্ন স্বার্থের ওপর। তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত হয়েছে মক্কা প্রতিরক্ষা জোট। গত ৫ অক্টোবর রিয়াদে দেশ তিনটির মধ্যে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য বিদ্যমান হুমকি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি যৌথ বিবৃতিতে জোটটির প্রথম মহাসচিব নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সৌদি আরবে সামরিক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিতে সিরিয়া সেনাসদস্য পাঠিয়েছে। সৌদি ও ইয়েমেনি সেনাদেরও দেশটির ভেতরে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল এসব প্রতিবেদনে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি