বিশ্ব

হামলা চলমান, প্রতিশোধে মরিয়া ইরান

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরান মার্কিন সামরিক সম্পদের আবাসস্থল উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ নিচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর তাদের আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক সংস্থার ওপর হামলা। ইরান জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির অন্তত ১৫৩টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ৫০৪টি স্থানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা হয়েছে।

 

রেকর্ডকৃত আক্রমণের সংখ্যা এক হাজার ৩৯-এ পৌঁছেছে। এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননের ওপর বিমান হামলাও তীব্র করেছে এবং দেশটির দক্ষিণে নতুন করে স্থল আক্রমণ শুরু করেছে।

 

ইরানে কাতারের হামলা :

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে তেহরানের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে ইরানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে কাতার। গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের বিভিন্ন এলাকা লক্ষ্য করে কাতারের সামরিক বাহিনী এই হামলা চালায়।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পশ্চিমা সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ওই সূত্র জানিয়েছে, কাতারের এই পদক্ষেপের পর সৌদি আরবও শিগগিরই ইরানে হামলা শুরু করতে পারে। ইসরায়েলের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম কানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, সোমবার ইরানের হামলার শিকার হওয়ার পর সৌদি আরবও পাল্টা জবাব দেবে বলে ইসরায়েল ধারণা করছে। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল আব্দুল নাসের আল হুমাইদি বলেন, গত কয়েক দিনে ইরান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ১৮৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৮১২টি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে।

 

তবে এর বেশির ভাগই লক্ষ্যে আঘাত হানার আগেই আকাশে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।

 

অন্যদিকে ইরানের প্রতিশোধমূলক ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি বলেছেন, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর সদর দপ্তর এবং যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ইরানের উপকূলীয় জলসীমা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

 

রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা :

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।

 

মঙ্গলবার ভোরে সংঘটিত এ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে খুব শিগগির বড় ধরনের ‘পাল্টা পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী দুটি ড্রোন দিয়ে এ হামলা চালানো হয়। এর ফলে দূতাবাস ভবনে ‘সামান্য অগ্নিকাণ্ড ও সাধারণ ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে। তবে কোনো প্রাণহানির খবর এ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। হামলার পরপরই সৌদি আরবে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের মিশন রিয়াদ, জেদ্দা ও দাহরানে অবস্থানরত তাদের সব কর্মীকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের যেকোনো সামরিক স্থাপনায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত সীমিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন স্থাপনাগুলোয় এখন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। তবে এ ঘটনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

 

রয়টার্স বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ রাজধানীতে মার্কিন দূতাবাসে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করার কয়েক ঘণ্টা পরেই রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় আরো দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই হামলার পর সৌদি আরবে মার্কিন মিশনগুলোতে সব কনস্যুলার সেবা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংঘাতের কারণে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে এএফপি বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর দিয়ে বলেছে, রাজধানীজুড়ে ঘন ঘন সাইরেন বাজছে।

 

ইরানে প্রেসিডেন্টের অফিসে হামলা :

তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ভবনে বিমান হামলা চালানোর কথা বলেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে তারা। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইসরায়েলি বিমানবাহিনী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে ইরানি শাসকগোষ্ঠীর নেতাদের কম্পাউন্ডের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করেছে। কম্পাউন্ডে হামলার সময় প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ভবনের ওপর বিপুল গোলাবারুদ ফেলা হয়েছে।’ এ ছাড়া ইরানের কেরমান প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ১৩ জন ইরানি সেনা নিহত হয়েছেন।

 

ওমানে ড্রোন হামলা :

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি-মার্কিন যুদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গলবার ওমানের বাণিজ্যিক বন্দর দুকমে ড্রোন হামলা চালানো হয়, যা একটি জ্বালানি ট্যাংকে আঘাত হানে। ওমান নিউজ এজেন্সি একটি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, দুকমের বাণিজ্যিক বন্দরে জ্বালানি ট্যাংকগুলোকে বেশ কয়েকটি ড্রোন লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হয়েছিল, যার মধ্যে একটি জ্বালানি ট্যাংকে আঘাত করেছে। ফলে কোনো মানবিক হতাহত ছাড়াই ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে দুকমে এটি দ্বিতীয় হামলা। তবে ড্রোন হামলাটি কারা চালিয়েছে তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এদিকে ওমানের সালালাহ বন্দরের কাছে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ধোফার গভর্নরেটে আরো দুটি ড্রোন আটকে দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

 

লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলা :

লেবাননের বৈরুতের দক্ষিণে শহরতলিতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, ওই এলাকায় হিজবুল্লাহ নেতাদের এক বৈঠক লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই চালানো এই অভিযানে ভবনগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

 

১৬৫ ইরানি শিশুর দাফন সম্পন্ন :

শনিবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬৫ জন স্কুলছাত্রী এবং কর্মীর জন্য গতকাল মঙ্গলবার একটি গণ-অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ইরান এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলা বলে বর্ণনা করেছে। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মিনাবের একটি পাবলিক স্কয়ারে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। পুরুষরা ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কালো চাদর পরা মহিলাদের থেকে আলাদা দাঁড়িয়ে ছিলেন। জনতা ‘আমেরিকার মৃত্যু’, ‘ইসরায়েলের মৃত্যু’ এবং ‘আত্মসমর্পণ নয়’ স্লোগানে ফেটে পড়ে।

 

সূত্র : আল জাজিরা

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের পরিষদ ভবনে হামলা

ইরানের রাজধানী তেহরানের দক্ষিণে কুম শহরে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ ভবনে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।    দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির ভিডিও প্রকাশ করে ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি।  জানায়, তেহরানে পুরোনো পার্লামেন্ট ভবনে অবস্থিত পরিষদের আরেকটি কমপ্লেক্সেও রাতভর হামলা হয়েছে। এদিকে অ্যাক্সিওসের বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জন্য ওই ভবনে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক চলার সময় বিমান হামলাটি চালানো হয়।   এতে পরিষদের অনেক সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন বলে দাবি করছে চ্যানেলটি।   তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি গণমাধ্যমগুলো।   ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস হলো ধর্মীয় আলেমদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিষদ। এর সদস্য সংখ্যা ৮৮।  সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ ও তার কার্যক্রম তদারক করা এ পরিষদের কাজ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা। 

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

কাতার-কুয়েত-আমিরাত-জর্ডান ও ইরাকে সহায়তায় রাফালসহ রণতরী পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ছবি: সংগৃহীত

হামলা চলমান, প্রতিশোধে মরিয়া ইরান

স্পেনের ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধে না জড়ানোয় স্পেনের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপ

ইরানের তৈরি বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে আরেক মুসলিম দেশ

  ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে তারা। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) চ্যানেল ১২-এর বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে সরাসরি জড়িত না থাকা সত্ত্বেও ইউএই ইতোমধ্যে প্রায় ৮০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ‍সূত্র জানিয়েছে, যদিও ইউএই কোনোভাবেই এই যুদ্ধে অংশ নেয়নি, তবুও দেশটি ৮০০টি হামলা মোকাবিলা করেছে। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই, যারা নিজেদের নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করবে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। এর আগে শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ কামাল আল-হাইদারি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান জানিয়েছেন। তার কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আক্রমণগুলো ইরানের সভ্যতা ও ধর্মীয় কর্তৃত্বকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। খবর শাফাক নিউজের। আল-হাইদারি মুসলমানদের সতর্ক করেছেন, নিজেদের ভূমি, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে এবং ইহুদি ও আমেরিকানদের অহংকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে হবে। শিয়া ধর্মমতে, এই ধরনের জিহাদ সাধারণত প্রতিরক্ষা ভিত্তিক এবং আক্রমণাত্মক নয়। দ্বাদশ শিয়াদের মধ্যে এই ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা একজন মারজা’ আল-তাকলিদ বা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার কাছে সীমাবদ্ধ। এর আগে ২০১৪ সালে ইরাকের শীর্ষ শিয়া নেতা আয়াতুল্লাহ আলি আল-সিস্তানি আইএসআইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান করেছিলেন, যা পরে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসে (পিএমই) পরিণত হয়।

মারিয়া রহমান মার্চ ০৪, ২০২৬ 0

জ্বালানি সংকটের শঙ্কায় অর্ধেক গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে যাচ্ছে মিয়ানমার

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা বজায় রাখতে সব পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে চীন

সৌদিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা

ছবি: সংগৃহীত
ওমানের বন্দরে ড্রোন হামলায় জ্বালানি ট্যাংকে আঘাত: রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম

ওমানের একটি বন্দরে মঙ্গলবার ড্রোন হামলায় একটি জ্বালানি ট্যাংকে আঘাত লাগে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।  যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান তাদের অভিযান অব্যাহত রাখার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে।  মাস্কাট থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ওমান নিউজ এজেন্সি জানায়, ‘একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, দুকম বাণিজ্যিক বন্দরের জ্বালানি ট্যাংকগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে একটি ড্রোন একটি জ্বালানি ট্যাংকে আঘাত করে। এই হামলার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’ তিন দিনের মধ্যে এটি ওই বন্দরে দ্বিতীয় হামলা। উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান তাদের লক্ষ্যবস্তু সম্প্রসারণের প্রেক্ষাপটে এ হামলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালনকারী ওমান যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। ওমান নিউজ এজেন্সি জানায়, রোববার একই বন্দরে দুইটি ড্রোন আঘাত হানলে একজন শ্রমিক আহত হন। একটি ড্রোন শ্রমিকদের আবাসনে আঘাত হানে। অন্যটির ধ্বংসাবশেষ জ্বালানি ট্যাংকের কাছে পড়ে। সংঘাত শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে পর্যন্ত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করলেও ওমান হামলার মুখে পড়ে। সোমবার রাজধানী মাস্কাটে উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলায় একজন নিহত হন। এতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। জাহাজটির প্রধান ইঞ্জিন কক্ষে বিস্ফোরণে একজন ক্রু সদস্য নিহত হন। তিনি ভারতীয় নাগরিক।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ০৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর এ পর্যন্ত নিহত ৭৮৭ : রেড ক্রিসেন্ট

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলে সাইবার হামলা চালাল ইরান

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান

0 Comments