প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। আইনে গুম করার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর সাজার বিধান রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রেস সচিব বলেন, গুম প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের জন্য একটা আইন নিয়ে অনেকদিন যথেষ্ট ডিবেট হয়েছে। এরপর আজকে এটা চূড়ান্তভাবে অনুমোদন হয়েছে। এই অধ্যাদেশে গুমকে সংজ্ঞায়নের পাশাপাশি চলমান অপরাধ, কন্টিনিউ অফেন্স হিসেবে বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গোপন আটক কেন্দ্র স্থাপন, যা আয়নাঘর নামে পরিচিত, তা ব্যবহার শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গুম সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত কমিশনকে গুম সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এই অধ্যাদেশে গুম প্রতিকারের লক্ষ্যে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্নের বাধ্যবাধকতা, ভুক্তভোগী-স্বাক্ষীর অধিকার সুরক্ষা, ক্ষতিপূরণ এবং আইনগত সহায়তা নিশ্চয়তা প্রদান সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া, গুম প্রতিরোধ প্রতিকার এবং সুরক্ষার উদ্দেশ্যে তহবিল গঠন এবং তথ্যভাণ্ডার প্রতিষ্ঠার বিধানও সংযোজিত হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, মিটিংয়ে আজ কয়েকটা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জাতীয় লজিস্টিক নীতির খসড়া এবং চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। জাতীয় নগরনীতি নিয়ে একটু আলাপ হয়েছে। এই বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। আর আজকে আগামী বছর ২০২৬-এর সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন হয়েছে।
তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ এবং প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৫-এর চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে আজ। শেখ হাসিনার সময় বাংলাদেশে হাজার-হাজার ছেলেমেয়ে গুম হয়েছে। তার মধ্যে গুম বিষয়ক যে কমিশন করা হয়েছে, সেখানে অভিযোগের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার এবং ওই কমিশনে যারা মেম্বার আছেন, তারা তাদের রিপোর্টে বারবার বলছেন যে এটার সংখ্যা চার হাজারের উপরে হবে। আর দেশে শতশত আয়নাঘর ছিল, সেখানে এদেরকে রাখা হতো। অনেকে যারা গুম হয়েছেন, কেউ কেউ ফিরে এসেছেন, আবার অনেকে ফিরে আসেননি। আপনি জানেন বিএনপির অনেক কর্মী এখনো ফিরে আসেননি।
তিনি আরও বলেন, গুম সংক্রান্ত একটি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন আছে। যেটার নাম হচ্ছে, ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দি প্রটেকশন অব অল পারসনস ফ্রম এনফোরস ডিসএপিয়ারেন্স। গত বছর ২৯ আগস্ট বাংলাদেশের উপদেষ্টা পরিষদ এটার এপ্রুভ করেছেন। বাংলাদেশ এটার অংশীদার হয়েছে। অংশীদারের এই কনভেনশনকে ফলো করে অধ্যাদেশটা তৈরি করা হয়েছে। এটা বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক আইন। এর ফলে বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিস্ট সরকার এসে গুমের রাজত্ব চালাতে পারবে না। দেশে কোনো আয়নাঘর তৈরি হবে না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জনগণের অধিকার নিশ্চিত না হলে দেশে বারবার বিপ্লব ফিরে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পরিচয় নয়, বরং এটি একটি ভাইরাস—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদের লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা না হলে দেশে বারবার বিপ্লবের পরিস্থিতি তৈরি হবে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে জাতীয় বিপ্লবী ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য শুনতে শুনতেই তাঁর জীবনের ৫৫ বছর পার হয়েছে। তবে এই দিবস থেকে রাজনীতিবিদদের যে শিক্ষা নেওয়ার কথা ছিল, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে তা প্রতীয়মান হয় যে তাঁরা সেই শিক্ষা গ্রহণ করেননি। জনগণের মনোভাব বুঝতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের পরিণতি ৭ নভেম্বরের মতো হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পটভূমি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ওই সময় সিপাহিদের বিদ্রোহের পেছনে বিভিন্ন কারণ ছিল। তাঁর অভিযোগ, ১৯৭২ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ মুজিবুর রহমান দেশের ইসলামী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করেছিলেন। অথচ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এসব সংগঠন সক্রিয় ছিল এবং নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসার পরও অল্প সময়ের মধ্যে শেখ মুজিব জনগণের আস্থা হারান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনী, পুলিশ, গণমাধ্যম ও আনসার বাহিনী থাকার পরও নিজেদের নিরাপত্তার জন্য রক্ষীবাহিনী গঠন করা হয়েছিল। বাহিনীটিকে ব্যাপক ক্ষমতা ও ভারী অস্ত্র দেওয়া হয়। রক্ষীবাহিনীর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে শফিকুর রহমান দাবি করেন, বাহিনীটির সদস্যদের জবাবদিহির বাইরে রেখে নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিনা বিচারে ৩৪ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, যাঁদের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ শিকদার হত্যার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংসদে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামল নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল গঠনের মাধ্যমে এক নেতার অধীনে রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়। তাঁর অভিযোগ, সে সময় দেশে দুর্নীতি, সম্পদ লুটপাট, ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানুষের অধিকার হরণের ঘটনা ঘটেছিল। ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে সামরিক কর্মকর্তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের অবজ্ঞা ও উপেক্ষা করার কারণে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। শুরুতে এতে জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজের স্মৃতিচারণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ওই সময় তিনি সিলেটের এমসি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। ৭ নভেম্বরের পরদিন কারফিউ জারি থাকলেও জুমার নামাজের জন্য তিন ঘণ্টা তা শিথিল করা হয়েছিল। নামাজে যাওয়ার সময় মসজিদ, বাড়ির ছাদ ও রাস্তায় বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতি এবং তাঁদের উচ্ছ্বাস দেখেছিলেন বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন সিপাহিরা ট্যাংক ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে রাস্তায় নামলে সাধারণ মানুষ তাকবির দিয়ে তাঁদের স্বাগত জানান। ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। সিপাহিরা বিপ্লব ঘটালেও জনগণ তাতে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছিল—এ কারণেই দিবসটির নাম বিপ্লব ও সংহতি দিবস হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বক্তব্যে স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়েও কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যাঁর যে অবদান রয়েছে, তাঁকে সেই স্বীকৃতি দিতে হবে। স্বাধীনতার ঘোষণা, পতাকা উত্তোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বে অবদান রাখা ব্যক্তিদের যথাযথভাবে স্মরণ করা উচিত। বিশেষ করে জেনারেল এম এ জি ওসমানীর অবদান অনেক সময় আলোচনায় আসে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, নিজের বা নিজ দলের নেতৃত্বের বাইরে অন্য কারও অবদান স্বীকার না করার মানসিকতা থেকে রাজনীতিবিদদের বেরিয়ে আসতে হবে। ১৫ আগস্ট ও ৭ নভেম্বরের ঘটনাগুলোকে তিনি দুঃশাসন, একদলীয় শাসন এবং কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, মানুষের বাকস্বাধীনতা, বেঁচে থাকার অধিকার, চাকরির সুযোগ, ন্যায়বিচার এবং নারী-পুরুষের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর অভিযোগ, অতীতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছিল এবং চারটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া বাকিগুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে ওই চারটিও সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও শেষ পর্যন্ত সেনাপ্রধানের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তাঁর মতে, জনগণের দেওয়া দায়িত্ব ও ম্যান্ডেট রক্ষা করা উচিত ছিল। এরশাদের শাসনামল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ নয় বছর ক্ষমতায় থাকা এই শাসকও গণতন্ত্রের মৌলিক অধিকার—বাকস্বাধীনতা ও বেঁচে থাকার অধিকার—খর্ব করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত জনগণের আন্দোলনের মুখে তাঁকেও ক্ষমতা ছাড়তে হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তাঁর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সে সময় নানা বিতর্ক ও আলোচনা হয়েছিল। বিএনপি সরকারের সঙ্গে জামায়াতের অতীত রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন তিনি। তাঁর দাবি, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠনের সময় জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসন নিয়ে সমর্থন দিয়েছিল। তবে তারা সরকারে যোগ না দিয়ে বিরোধী দলে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই সমর্থনের বিনিময়ে তাদের মূল দাবি ছিল, জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচনের একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা। তিনি বলেন, ওই দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ১৯৯৪ সাল থেকে জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন শুরু করে। সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, রাজনীতিতে সমঝোতা ও নমনীয়তা না থাকলে তা জনগণের রাজনীতি হয়ে উঠতে পারে না। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ইউরিয়া ও টিএসপি সারের উৎপাদন বাড়াতে ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে তিনটি নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের সার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দেশের কৃষি খাতে সারের চাহিদা মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে তিনটি নতুন সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত কারখানাগুলোর মধ্যে ভোলায় ইউরিয়া, চট্টগ্রামে টিএসপি এবং নরসিংদীর পলাশে ইউরিয়া ফরমালডিহাইড উৎপাদনের প্রকল্প রয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) সূত্রে জানা গেছে, ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রামে বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি এবং নরসিংদীর পলাশে বছরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) উৎপাদন সক্ষমতার কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিসিআইসি কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে সরকার প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারে ২৩ হাজার টাকা, টিএসপি সারে ৪৯ হাজার ১৭০ টাকা এবং ডিএপি সারে ৯৮ হাজার ৮৪০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। সারের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি ভর্তুকির চাপ বিবেচনায় নিয়ে নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি বিদ্যমান সার কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং আধুনিকায়নের বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বাসসকে বলেন, দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। ভোলায় প্রস্তাবিত ইউরিয়া সার কারখানা নির্মাণ করা হলে দেশের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, কারিগরি প্রস্তুতি, অর্থায়ন এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক এবং জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, টেকনাফের একটি দুর্গম পাহাড়ে মানবপাচারের উদ্দেশ্যে অপহৃত শতাধিক বাঙালি ও রোহিঙ্গা নাগরিককে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী গ্রামের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরাও অংশ নেন। অভিযান শুরুর পরপরই মানবপাচারকারীরা গুলিবর্ষণ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হন ১ বীর (১ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট)-এর সৈনিক মোহাম্মদ তিতাস শেখ (২৭)। বৃহস্পতিবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গুরুতর আহত তিতাস শেখকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), রামুতে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযানস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক এবং জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযান চলছিল। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থল এবং আশপাশের এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। এদিকে যৌথ বাহিনীর ওপর হামলায় সেনাসদস্য নিহতের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরে বিক্ষোভ করেন ছাত্র-জনতা। এ সময় তাঁরা টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন সাঈদ বলেন, এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। টেকনাফ থেকে মানবপাচার নির্মূল করতে হবে এবং অপরাধীদের আশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ ছাড়া শুক্রবার বিকেলে উখিয়ায় ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা বিএনপি। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরোয়ার জাহান চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, সেনাসদস্য নিহতের প্রতিবাদে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলো বিক্ষোভ মিছিল করবে। একই সঙ্গে উখিয়া-টেকনাফকে মাদক ও মানবপাচারমুক্ত করার দাবি জানান তিনি। সেনাসদস্যের মৃত্যুতে আইএসপিআর গভীর শোক প্রকাশ করেছে। শোকবার্তায় বলা হয়, দেশমাতৃকার সেবায় কর্তব্যরত অবস্থায় তরুণ এই সেনাসদস্যের আত্মত্যাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। একই সঙ্গে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।