জাতীয়

গণভোটের সামনে বাংলাদেশ : প্রত্যাশা, সংশয় ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ১৫, ২০২৫

 

বাংলাদেশ এক নতুন ইতিহাসের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে আয়োজন করা হচ্ছে বহুল আলোচিত গণভোট, যার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদে উত্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারপ্রস্তাবগুলো নিয়ে জনগণের চূড়ান্ত মতামত যাচাই করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে যে প্রশ্ন ঘোষণা করেছেন, সেটি মাত্র একটি হলেও এর ভেতর অব্যক্ত রয়েছে রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন, সাংবিধানিক কাঠামোর রূপান্তর, রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য এবং জনগণের ভবিষ্যৎ-আকাঙ্ক্ষার অসংখ্য সূক্ষ্ম জটিলতা। প্রশ্নটি হলো, জনগণ জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবগুলোর প্রতি সম্মতি দেবে কি না।

এই একটি প্রশ্নের মধ্যেই গুঁজে রাখা হয়েছে চারটি বড় প্রস্তাব, যেগুলোর প্রতিটিই স্বাধীনভাবে একটি সাংবিধানিক সংস্কার বিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গণভোটে সেগুলোকে একত্র করে উপস্থাপন করায় ভোটারের কাছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াটি হয়ে উঠেছে আরও জটিল। প্রস্তাবগুলোকে বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায়, সংস্কারের ইচ্ছা থাকলেও প্রশ্নগুলো যে সাধারণ মানুষের বোধগম্য হবে, সে নিশ্চয়তা নেই।

প্রথম প্রস্তাবটি নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠনের বিষয়ে। এখানে শব্দবন্ধগুলো জনগণের পরিচিত হলেও ‘জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়া’—এই অংশটি বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। কারণ সাধারণ ভোটার তো বটেই, অনেক সচেতন নাগরিকও সনদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানেন না। সনদটি পুরোপুরি প্রচারিত হয়নি; তার পদ্ধতি, দায়িত্ব ও প্রয়োগ কাঠামোও অনেকাংশে অস্পষ্ট। এমন পরিস্থিতিতে ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে আসলে কোন প্রক্রিয়াকে অনুমোদন-এটা কি গ্রামের কৃষক থেকে শহরের শিক্ষক পর্যন্ত সবাই বুঝতে পারবেন? গণভোটের প্রশ্ন যদি মানুষের অজ্ঞানতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে গণতন্ত্র সেখানে দুর্বলই হয়ে পড়ে।

দ্বিতীয় প্রস্তাবটি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠনের পরিকল্পনা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত বহন করে। উন্নত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দুই কক্ষ নীতি ও আইন প্রণয়নে ভারসাম্য রক্ষার ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ হবে ১০০ সদস্যের, এবং দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে সেই সদস্য সংখ্যা নির্ধারিত হবে। এতে ছোট দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে—এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দ্বিকক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া কতটা সহজ হবে? আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ক্ষুদ্র বিষয়েও মতের অমিল দূর করা কঠিন। একটি উচ্চকক্ষ ও একটি নিম্নকক্ষের মধ্যে নীতিগত বা মতাদর্শগত অমিল দেখা দিলে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হলে ভবিষ্যতে সাংবিধানিক পরিবর্তন আরও দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়ায় পরিণত হতে পারে। কিন্তু সাধারণ ভোটার কি দ্বিকক্ষের এই জটিল কাঠামো, এর ভূমিকা ও দায়বদ্ধতা সম্পর্কে অবগত? ‘উচ্চকক্ষ’ বা ‘দ্বিকক্ষ’—এসব শব্দ সাধারণ মানুষের কাছে এখনো বিমূর্ত। তারা যখন ভোট দিতে যাবেন, তখন কি জানবেন তাদের ভোটের প্রভাব কোথায় গিয়ে পড়বে? এই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই।

তৃতীয় প্রস্তাবে রয়েছে সবচেয়ে বিস্তৃত সংস্কারের তালিকা—নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা এবং আরও নানা কাঠামোগত রূপান্তর। শুনতে নিঃসন্দেহে এটি একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নীলনকশার মতো। কিন্তু এর বাস্তব প্রয়োগও প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো এসব বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। কিন্তু জনগণের ভোটের ওপর দাঁড়ানো নির্বাচিত সরকারকে এভাবে আগেই বাধ্যবাধকতার কাঠামোর মধ্যে বেঁধে ফেলা কি গণতন্ত্রের মানসিকতার সঙ্গে যায়? আবার বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার বা সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন এটিকে অনেকেই ক্ষমতার ভারসাম্যের অংশ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু সাধারণ ভোটার কি গ্রহণ করবেন? যাকে তারা কম পছন্দ করে ভোট দেয়নি, তাকেই আবার গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে? আরও বড় সমস্যা হলো, জুলাই সনদের ওই ৩০টি প্রস্তাব জনগণ কতটা জানেন? শহরের উচ্চশিক্ষিত ভোটার হয়তো খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করতে পারবে, কিন্তু গ্রামীণ বা কম-শিক্ষিত ভোটার কি জানবে এসবের সুফল-কার্যকারিতা? যদি তারা না জেনেই ভোট দেন, তাহলে গণভোট কার্যত জনগণের চেয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠবে।

চতুর্থ প্রস্তাবটি সবচেয়ে বিমূর্ত। এতে বলা হয়েছে—রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অন্যান্য সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে। প্রশ্ন হলো—এই ‘অন্যান্য সংস্কার’ কী? কে নির্ধারণ করবে? কোন দলের প্রতিশ্রুতি কার্যকর হবে? জনগণ কি এ বিষয়ে কোনো ভূমিকা রাখবে? ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে ভোটার আসলে কোন অজানা সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মতি দিচ্ছেন? এই অস্পষ্টতা গণতান্ত্রিক কাঠামোকে বরং আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এখানেই গণভোটের বাস্তব সংকটগুলো সামনে আসে। প্রথমত, সাংবিধানিক পরিভাষা সাধারণ মানুষের বোধগম্য নয়। দ্বিকক্ষ, সংস্কার পরিষদ, অনুমোদন প্রক্রিয়া—এসব শব্দ যেন এক ধরনের প্রশাসনিক গোলকধাঁধা। দ্বিতীয়ত, এক প্রশ্নে চারটি ভিন্নমুখী কাঠামোগত প্রস্তাবের প্রতি হ্যাঁ বা না বলতে বলা হচ্ছে। যদি কোনো ভোটার দুটি বিষয়ে সম্মত এবং দুটি বিষয়ে অসম্মত হন, তাহলে তিনি কোন সিদ্ধান্ত নেবেন? রাজনৈতিকভাবে সচেতন মানুষও এখানে বিভ্রান্ত হবেন, প্রান্তিক জনগণের কথা তো বাদই দিলাম। তৃতীয়ত, জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট হওয়া যেমন সুবিধাজনক, তেমনি এতে রাজনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কা প্রবল হয়ে ওঠে। নির্বাচন প্রচারণার উত্তাপে গণভোটের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার প্রবণতা গণভোটেও একইভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।

এছাড়া সংবিধানের ১৪২(১) অনুযায়ী সংবিধানের নির্দিষ্ট অংশ পরিবর্তনের জন্য সংসদের অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতি গণভোট ডাকতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সংসদ গঠনের আগেই গণভোট আয়োজন কতটা সংবিধানসম্মত—এ বিষয়েও জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।

সবকিছুর শেষে মূল সত্যটি হলো—গণভোট তখনই অর্থবহ হয়, যখন জনগণ জানে তারা কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। প্রস্তাবগুলো যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, তাতে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ অনেকাংশে সংকুচিত হয়ে গেছে। গণভোটকে সফল করতে হলে এখন প্রয়োজন স্বচ্ছ ব্যাখ্যা, বোধগম্য ভাষা এবং ব্যাপক গণশিক্ষা। গ্রামীণ ভোটার থেকে শহরের তরুণ—সবার কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছাতে হবে প্রস্তাবগুলো কী, কেন প্রয়োজন, এবং এর ফল কী হবে। জুলাই সনদ ও গণভোট চাইলে নতুন রাজনৈতিক দিগন্ত খুলে দিতে পারে। কিন্তু যদি জনগণের বোঝাপড়া ছাড়া এটি কেবল রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়, তাহলে গণভোট পরিণত হবে সংখ্যার খেলা—যেখানে জনগণের কণ্ঠ নয়, প্রাধান্য পাবে কেবল রাজনৈতিক শক্তির হিসাব।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিটের ভাসমান টার্মিনাল।ফাইল ছবি
চার দিন পর চালু এলএনজি টার্মিনাল, বাড়ল গ্যাস সরবরাহ

সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ৪ নভেম্বর থেকে টানা চার দিন সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। এতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায় ৪০ কোটি ঘনফুটের বেশি। আজ শনিবার দুপুরে সামিটের টার্মিনাল চালু হয়েছে। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) থেকে আজ পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরুর কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণকাজ শেষে আজ বেলা ১টায় সামিটের এলএনজি টার্মিনাল গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। এর ফলে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে আগের মতো গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে সামিট। আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রূপান্তর করে পাইপলাইনে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির, অন্যটি সামিটের। পেট্রোবাংলা বলছে, দুটি টার্মিনাল মিলে গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা ১০৫ কোটি ঘনফুট। আজ বিকেল ৪টার দিকে সরবরাহ করা হয় ১০০ কোটি ঘনফুট। আর দেশীয় গ্যাস থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে ১৫৮ কোটি ঘনফুট। এতে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে হয়েছে ২৫৮ কোটি ঘনফুট। ৪ দিন ধরে সরবরাহ ছিল গড়ে ২১০ কোটি ঘনফুটের মতো। দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত।

নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি সম্ভব নয়: শামা ওবায়েদ

ছবি: সংগৃহীত

হাম উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু

ফাইল ছবি

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র‍্যালিতে প্রধানমন্ত্রী, নেতাকর্মীদের ঢল

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি আয়োজিত সার্বভৌমত্ব র‍্যালিতে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রায় নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। তাকে একনজর দেখতে এবং স্বাগত জানাতে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনাও দেখা গেছে।   শনিবার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত মঞ্চে উপস্থিত হন তিনি। সাড়ে ৩টার পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানে নেতৃত্বে শুরু হয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র‍্যালি।   শোভাযায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন শ্রমিক দল, কৃষক দল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো পল্টন এলাকা। ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় স্লোগানে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।   কাল থেকেই বিভিন্ন জেলা ও মহানগর থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন নেতাকর্মীরা। কারও হাতে দলীয় পতাকা, কারও হাতে ব্যানার ও ফেস্টুন। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও নিজ নিজ ব্যানার নিয়ে যোগ দিচ্ছেন সমাবেশে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মানুষের উপস্থিতি। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়ক ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকাতেও জমেছে নেতা-কর্মীদের ভিড়।   এ শোভাযাত্রায় ব্যতিক্রমী আয়োজনও নজর কেড়েছে। ঘোড়ার গাড়ি ও হাতিসহ ব্যানার, ফেস্টুনসহ বিশাল মিছিল নিয়ে এসেছেন নেতাকর্মীরা। নয়াপল্টনে এসব ঘোড়ার গাড়ি ও হাতির উপস্থিতি উৎসুক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। নেতাকর্মীদের ভিড়ের মধ্যে ব্যতিক্রমী এই আয়োজন শোভাযাত্রায় বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়াল সরকার, আজ থেকেই কার্যকর

ছবি: সংগৃহীত

গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়বে, মোবাইল বিলও দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ৭ নভেম্বর: ববি হাজ্জাজ

ছবি: সংগৃহীত
আর কেউ যেন এই দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে কেউ যেন দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার হরণ করে বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই হোক এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার।’   তিনি বলেন, ‘এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে হলে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে।’   আজ শনিবার ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থান-প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনা প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের মানুষ জাতীয় স্বার্থ ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনো আপস করেনি। সবকিছুর ঊর্ধ্বে তাদের কাছে বাংলাদেশ।’   দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গৌরবের দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহী - জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।’   প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চরম আকার ধারণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর দিবাগত রাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়।’ স্বাধীনতার ঘোষককে বন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করেছিল।     তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।’   পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে তারা বিভিন্নভাবে সংগঠিত হয়ে দেশকে পুনরায় তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা হয়েছিল।’   প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই অপশক্তির পরাজয় ঘটে এবং দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়। ফ্যাসিবাদ বিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে যারা হতাহত হয়েছেন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।’   তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও একইভাবে সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।’   তিনি বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে প্রমাণিত হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল দেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের দিন। বাংলাদেশ যতবার ৭ নভেম্বরের চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, ততবারই দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।’   তারেক রহমান বলেন, ‘দল, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—এ দেশের সব নাগরিকের গর্বিত পরিচয় একটাই, আমরা বাংলাদেশি। এই পরিচয়ই আমাদের ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছে। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করেছিল। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রাসঙ্গিক থাকবে।’   প্রধানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তিনি যেভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, ১৯৭১ সালেও একইভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে সম্মুখসমরে লড়াই করেছিলেন।’   তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘একটি জাতির ইতিহাস কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়; সঠিক ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সম্মিলিত ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। আজকের আয়োজনের বিশেষত্ব হলো, হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী ৭ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন।’   তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম যদি ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না। যে দেশের তরুণ প্রজন্ম জাতীয়তাবাদে অনুপ্রাণিত নয়, সে দেশের জনগণের ঐক্য সুদৃঢ় হতে পারে না।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জন একটি ঐতিহাসিক গৌরব। তবে সেই গৌরবের পতাকা সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব হলো স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ধারণ করে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করা।   অভিভাবক হিসেবে তরুণদের সব সম্ভাবনা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ আগামী নির্মাণে অঙ্গীকারবদ্ধ।’   দেশের জনগণের প্রতি প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের ঐতিহাসিক এই দিনে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের উচ্চারণ হোক-‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কেউ, সবার আগে বাংলাদেশ’।   প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদযাপন কমিটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), বাংলাদেশ স্কাউটস এবং সর্বোপরি দেশের জনগণকে এ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।   অনুষ্ঠানের শুরুতে নভেম্বর জাতীয় বিপ্লবও সংহতি দিবস উপলক্ষে একটি ঐতিহাসিক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।    ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী উপভোগ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের বিশেষ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেটকোরের (বিএনসিসি) ৩ হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য অংশ নেন।   অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সহ উপদেষ্টাবৃন্দ, জাতীয় সংসদ সদস্য, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, তিন বাহিনীর প্রধান, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিনিধি শিক্ষার্থী, তরুণ, বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৭, ২০২৬

নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর ফিরিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে’, বললেন বিজেপি এমপি

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

0 Comments