জাতীয়

দল বদলেছে, মানুষের ভাগ্য বদলায়নি: নাহিদ ইসলাম

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ০৭, ২০২৬ 0

এক দলের জায়গায় আরেক দল বসেছে, কিন্তু মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানী উত্তরার ফ্রেন্ডস ক্লাব মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা সাংগঠনিক বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু আগে জয় বাংলা বলে বক্তব্য শেষ করতেন, এখন জিন্দাবাদ বলে বক্তব্য শেষ করছেন। গোটা দেশ এভাবেই চলছে। শুধু জয় বাংলার পরিবর্তে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ হয়েছে। একটি দলের জায়গা আরেকটি দল বসেছে, কিন্তু মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।

বিএনপি সরকার গঠনের পর সারা দেশে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ বেড়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার কারণে নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। সারা দেশে নারী নিপীড়ন ও শিশু ধর্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এত কিছুর পরও সুশীল সমাজ ও নারী অধিকার কর্মীরা চুপ আছে—এমন অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সবাই চুপ থাকলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি চুপ করে থাকবে না। মানুষের অধিকার নিশ্চিতে এনসিপি সবসময় সরব থাকবে।

ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিভাগীয় নেতারা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
স্মার্টফোনের দাম ২,৫০০ টাকায় নামাতে চায় সরকার

সরকার স্মার্টফোনের দাম আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।   শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর হলিডে ইন হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালা: উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা জানান। ২০২৬ সালে এসেও দেশের ৫০ শতাংশ মানুষের হাতে স্মার্টফোন না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ডিভাইসের দাম সাশ্রয়ী ও সস্তা করা উচিত। ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায় একজন ফিচার ফোন কিনতে পারেন, আমাদের চিপেস্ট স্মার্টফোন হলো ৯০০০ থেকে ১০ হাজার টাকা। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলছি, মোবাইল অপারেটরের সঙ্গেও কথা বলছি। আমাদের টার্গেট ডিভাইস কস্ট (মোবাইল ফোনের) দাম ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় নিয়ে আসা। একজন কৃষক, দিনমজুর, রিকশাচালকও যেন স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারেন। এ বিষয়ে মোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার, খুচরা বিক্রেতা, বাংলাদেশ ব্যাংক ও মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানান। একইসঙ্গে সরকার প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ নীতি চালুর পরিকল্পনা করছে। এর আওতায় জন্মের পর থেকেই একটি শিশুর ডিজিটাল আইডি চালু হবে, যা ডিজিটাল ওয়ালেটের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এই ওয়ালেট ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে এবং দেশের ১৮ কোটি মানুষের জন্যই এ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেমিনারে উপদেষ্টা মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড সেবার বর্তমান অবস্থাকে একটি সমষ্টিগত ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করলেও এটিকে বড় সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে ভোক্তা, ব্যবসা ও অর্থনীতির বিকাশ এবং বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামীতে এফডিআই জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। টেলিকম খাতে উচ্চ কর কাঠামোর কারণে গ্রাহক ও অপারেটরদের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তাও পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। মোবাইল ফোন সেবায় করের হার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়কারী দেশ বাংলাদেশ। একজন সাধারণ গ্রাহক ১০০ টাকা রিচার্জ করলে মাত্র ৬২ টাকার সেবা পান, বাকি ৩৮ টাকা সরকার কর হিসেবে নিয়ে নেয়। এটি মোবাইল ফোন উৎপাদক, ভেন্ডর ও অপারেটর—সবার ওপরই চাপ সৃষ্টি করছে। শিল্পটি আর্থিকভাবে টেকসই না হলে ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি একটি ভারসাম্যপূর্ণ টেলিকম কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। এ সময় বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারীসহ টেলিকম খাতের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি প্রশ্নফাঁসের খবর ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’: ঢাকা শিক্ষা বোর্ড

ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তিনির্ভর সমষ্টিগত জ্ঞানচর্চাই ভবিষ্যৎ সভ্যতার কৌশলগত শক্তি

সংগৃহীত

মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম থাইল্যান্ডে জুলাই যোদ্ধাহতদের খোঁজ নিলেন

ছবি: সংগৃহীত
আজ বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস, ম্যালেরিয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে দেশের ১৩ জেলা

দেশে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তন এবং জলবায়ুগত প্রভাবের কারণে মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি। বিশেষ করে পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে পরিস্থিতি বেশি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে ৪৬০ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে ১৫৩ জন এবং প্রতিদিন পাঁচজনের বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।   বর্তমানে বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজারসহ দেশের ১৩টি জেলা ম্যালেরিয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বান্দরবান, যেখানে প্রথম তিন মাসেই ২১৪ জন শনাক্ত হয়েছেন। রাঙামাটিতে ১৭৯ জন, কক্সবাজারে ৪৯ জন, খাগড়াছড়িতে ১৩ জন এবং চট্টগ্রামে ৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন।   এই বাস্তবতায় আজ (২৫ এপ্রিল) দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস-২০২৬। এবারের প্রতিপাদ্য—“Driven to End Malaria: Now We Can. Now We Must।” প্রতিপাদ্যের মূল বার্তা হলো নতুন প্রযুক্তি, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং জরুরি পদক্ষেপের মাধ্যমে ম্যালেরিয়া নির্মূলে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসময় ম্যালেরিয়া ছিল বাংলাদেশের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। তবে সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগ, স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় গত দেড় দশকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৪ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে স্থানীয়ভাবে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা।   তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে মোট ১০ হাজার ১৬২ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন এবং ১৬ জনের মৃত্যু হয়। যদিও এই সংখ্যা আগের তুলনায় নিয়ন্ত্রিত, তবুও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন করে ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।   তাদের মতে, বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, দীর্ঘসময় পানি জমে থাকা এবং অপরিকল্পিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা—এসব কারণে মশার বংশবিস্তার দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে ঘন বন, পাহাড়ি জলাধার এবং দুর্গম বসতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।   অন্যদিকে, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও জঙ্গলে চলাচল, অস্বাস্থ্যকর বসবাস এবং চিকিৎসা গ্রহণে অনীহা—এসব কারণে তারা বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত হলেও সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়ায় মৃত্যুঝুঁকিও বাড়ছে।   জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু ওষুধ বা চিকিৎসা নয়—মশা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মসূচি, উন্নত নগর পরিকল্পনা, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া ম্যালেরিয়া নির্মূল সম্ভব নয়। তারা বলছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

মেধাভিত্তিক সৃজনশীল মানবসম্পদ গঠনে সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

গ্যাসচালিত পরিবহনে বেশি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা : সড়কমন্ত্রী

ফাইল ছবি

লোডশেডিং শিগগিরই কমবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস

ছবি: সংগৃহীত
সংসদে ঐক্য, রাজপথে সংঘাত—ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ বিশ্লেষকদের

জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যখন ঐক্যের সুর শোনা যাচ্ছে, ঠিক তখনই রাজপথে মুখোমুখি অবস্থানে তাদের দুই ছাত্র সংগঠন—ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। চলমান এই উত্তেজনা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা তৈরি করছে।   চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে দেয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সংঘর্ষের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে পাবনা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও। সর্বশেষ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফটোকার্ড শেয়ার করা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।   এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে বলেন, সংসদে সমঝোতার কথা বললেও মাঠে সহিংসতা উসকে দেওয়া হচ্ছে—যা জনগণ মেনে নেবে না।   এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান মনে করেন, অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা তাৎক্ষণিক উত্তেজনা থেকেই এসব সংঘাতের সূত্রপাত হচ্ছে। তবে এসব ঘটনায় মূল রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র সংগঠনগুলোকে সহিংসতার পথ পরিহার করে শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রমে মনোযোগী হতে হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে মূল দলগুলোর ‘সাংগঠনিক অভিভাবক’ হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখা জরুরি।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সালিশ বৈঠকে সংঘর্ষ, ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নিহত

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে জমি দখলের অভিযোগে অন্তঃসত্ত্বা নারীর সংবাদ সম্মেলন, নিরাপত্তা দাবি

ছবি: সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জ হাসপাতালে টিকা ‘সংকট’ বিতর্কে সিভিল সার্জনসহ ৩ জন বরখাস্ত

0 Comments