ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর হামলার পরপরই মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যর দেশগুলো তাদের আকাশ সীমানা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যর দেশগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা করে এমন এয়ারলাইন্সগুলো ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দিয়েছে। ২৮ই ফেব্রুয়ারি বিকাল থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। তাই তিনদিনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ৭৪টি ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল হওয়াতে মধ্যপ্রাচ্যগামী হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
অনিশ্চয়তার মধ্যদিয়ে সময় পার করছেন। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে থাকা যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নাই। বিমানবন্দরের সামনে যাত্রী ও স্বজনরা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। তবে বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলো রিসিডিউল করে যাত্রীদের পর্যাপ্ত সময় দেয়া হবে। একইসঙ্গে পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্ভোগে পড়া যাত্রীদের সার্বক্ষণিক সেবা দিতে হট লাইন চালু করা হয়েছে। এর বাইরে একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৭৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ২৮শে ফেব্রুয়ারি রাত পর্যন্ত মোট ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এর মধ্যে ছিল এমিরেটসের ১টি, গালফ এয়ারের ১টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ১টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৩টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ৬টি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১১টি ফ্লাইট। গতকাল সারাদিনে বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা ৪০টি। এদিন জাজিরা এয়ারওয়েজের ২টি, এমিরেটসের ৫টি, গালফ এয়ায়ের ২টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ২টি, সালাম এয়ারের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৮টি, কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ৪টি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এছাড়া এখন পর্যন্ত ২রা মার্চ সোমবারের ১১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, এমিরেটসের ৫টি এবং গালফ এয়ারের ২টি ফ্লাইট রয়েছে। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি নাই এমন দেশগুলোতে কিছু এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এছাড়া ইউরোপ আমেরিকাসহ অন্যান্য অঞ্চলে সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট (শুধুমাত্র দোহা, দুবাই এবং আবুধাবী ব্যতীত) নির্ধারিত সময়ে যাত্রা করবে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। বিমান থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো একবার্তায় বলা হয়, সব যাত্রীকে নির্ধারিত সময়ের চার ঘণ্টা আগে এয়ারপোর্টে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।
গতকাল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোববার থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা এবং ওমানের মাসকাটে ফ্লাইট নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। যাত্রীদের নির্ধারিত ফ্লাইট সূচির চার ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত হতে অনুরোধ জানিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবী, শারজাহ ও কাতারের রাজধানী দোহায় ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। আরব আমিরাত ও কাতারে ফ্লাইট চলাচল উপযোগী হওয়া মাত্রই যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যগামী আটকে পড়া যাত্রীদের ২৪ ঘণ্টার সেবা দিতে ‘হটলাইন’ চালু করা হয়েছে। যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, ইরান-ইসরাইল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলো রিসিডিউল করে যাত্রীদের পর্যাপ্ত সময় দেয়া হবে। একইসঙ্গে পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সেরও কিছু রুটের পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় পুনরায় ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলো রিসিডিউল (সময় পরিবর্তন) করা হয়েছে। সিভিল এভিয়েশন চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা কাজ করছি। আশা করছি, সোমবারের মধ্যে স্থগিত ফ্লাইটের যাত্রীদের গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা সম্পন্ন হবে। দেশের বাইরে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারা যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই সার্বক্ষণিক খোঁজ নিচ্ছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সরাসরি মনিটর করছেন। যাত্রীদের ইফতারসহ যাবতীয় দেখভালের বিষয়ে তিনি আমাদের নিয়মিত নির্দেশনা দিচ্ছেন। আমরা অত্যন্ত সফলভাবে যাত্রীদের সব সুবিধা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি। যাত্রীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি যেহেতু পরিবর্তনশীল, তাই যাত্রীরা যেন বিমানবন্দরে আসার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স বা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সঠিক সময় জেনে নেন।
এদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থির পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন। এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দূতাবাসগুলোকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
দুর্ভোগে যাত্রীরা:
সরজমিন হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, বিমানবন্দরের টার্মিনালগুলোর সামনে শত শত যাত্রী লাগেজসহ মালপত্র নিয়ে অপেক্ষা করছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন তারা। যাত্রীদের সঙ্গে তাদের আত্মীয়স্বজনরাও অপেক্ষা করছিলেন। তবে ওইসব যাত্রীদের কারও কারও ফ্লাইট বাতিল হয়নি, তারা কাঙ্ক্ষিত ফ্লাইটের জন্য কয়েকঘণ্টা আগেই পৌছে অপেক্ষা করছিলেন বিমানবন্দরে। ফ্লাইট বাতিল হওয়া যাত্রীরা জানেন না, কবে নাগাদ তাদের ফ্লাইট চালু হবে কিংবা আদৌ তারা যেতে পারবেন কিনা।
অন্যদিকে, বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের নোটিশ ঝুলছিল টার্মিনালের মূল ফটকের পাশে। সেখানে ফ্লাইট বন্ধের বিষয়ে যাত্রীদের জানানো হয়েছে। যাত্রীদের মধ্যে উদ্বিগ্নতা দেখা গেছে। বেশির ভাগ যাত্রীই ঢাকার বাইরে থেকে এসেছেন। ফলে ঢাকায় থাকা নিয়েও সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়ে যান তারা। মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক জনশক্তি হিসেবে রপ্তানি করা হয়। ফ্লাইট বাতিল হওয়াদের বেশির ভাগই ছিল বিভিন্ন পেশার শ্রমিক ও দক্ষ জনশক্তি। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ এর স্ক্রিনে দেখা গেছে- বর্হিগমন ফ্লাইটের মধ্যে চালু ছিল জেদ্দা, কুয়ালালামপুর, মাসকাট, মদিনাগামী ফ্লাইট; ইজিপ্টএয়ারের কায়রো; ইন্ডিগোর মুম্বই চেন্নাইগামী ফ্লাইট; সাউদিয়ার মদিনাগামী; ইউএস বাংলার মদিনা, দুবাই; ইন্ডিগোর কলকাতা; এমিরেটস এয়ারলাইন্সের দুবাইগামী ফ্লাইট।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সমর্থকদের সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা ঘিরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের এক চিঠিতে রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার ও সব জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সব ইউনিটকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইশতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এই চক্রটি জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা ও সদস্য, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র এবং শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে গোয়েন্দা তথ্যে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। এ প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানান, সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) পিতা-মাতা ও স্বামী-স্ত্রীর নাম বাংলার পাশাপাশি এখন থেকে ইংরেজি বানানেও যুক্ত করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পাশাপাশি নিজের ডাকনামসহ নিবন্ধন ফরমে বাবা-মায়ের ডাকনামও যুক্ত হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইসির এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক সাইফুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এনআইডিতে ইংরজিতে নামের বানান না থাকায় সেবাগ্রহীতাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। আবার অনেকে এনআইডি সংশোধনের সময় মিথ্যার আশ্রয়ও নেন। তাই বাবা-মা এবং স্বামী ও স্ত্রীর নাম ইংরেজিতে যোগ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ডাকনামও যুক্ত করা হতে পারে। এ বিষয়ে অনুবিভাগের আইন-বিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে এনআইডির ২ নম্বর ফরমে তথ্য দেওয়ার সময় ইংরেজিতে বাবা-মা বা স্বামী-স্ত্রীর নাম লিপিবদ্ধ করার ঘর নেই। সেটাই এখন যোগ হবে। তবে এই তথ্য ইসির সার্ভারে থাকবে, এনআইডিতে দৃশ্যমান থাকবে না। সাইফুল ইসলাম বলেন, সদ্য বিদায়ী এনআইডির মহাপরিচালক এ এ এস এম হুমায়ুন কবীরের দায়িত্ব পালনকালে এ বিষয়ে কমিশনে ফাইল উপস্থাপন করা হয়েছিল। কমিশন সেটা অনুমোদন করে এবং এ-সংক্রান্ত আইন-বিধি নির্ধারণের কাজ চলছে। ইসি সূত্র জানায়, এ ছাড়া ভোটার হতে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তির সুপারিশের ঘরও যুক্ত হবে এনআইডি ফরমে। বিশিষ্ট ব্যক্তি বলতে স্কুল শিক্ষক, চিকিৎসক কিংবা সমাজে পরিচিতি আছে–এমন যে কেউ হতে পারেন। এতে ভিনদেশিরা প্রতারণার মাধ্যমে ভোটার হতে পারবেন না এবং ভোটার তালিকা ও নাগরিকদের তথ্যের শুদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে। পাঠ্যপুস্তকে এনআইডির গুরুত্ব তুলে ধরতে ইসির চিঠি এদিকে, এনআইডি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পাঠ্যপুস্তকে এর গুরুত্ব অন্তর্ভুক্ত করতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) চিঠি দিয়েছে ইসি। বিষয়টি নিশ্চিত করে এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এনআইডির গুরুত্ব এবং এ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত চিঠি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে পাঠানো হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। ইসির মতে, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকা নিয়ে এখনও অনেকে সচেতন নন। তারা জানেনই না কীভাবে আবেদন করতে হয়, কীভাবে এটির কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়, এনআইডির গুরুত্ব কতটুকু। তাছাড়া, তথ্যের ভুল থাকলে এক ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ বিষয়ে তরুণ প্রজন্ম যাতে আগে থেকে সচেতন হতে পারে– সে কারণে এনআইডি ও ভোটার তালিকার যাবতীয় কার্যক্রম এবং গুরুত্ব পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ক্ষমতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার থাকলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন চিহ্নিত আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি বড় অংশ। মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী জনবল হিসেবে যাদের অনেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সরাসরি মন্ত্রী ও সচিবদের হস্তক্ষেপে নিয়োগ পান। কেউ কেউ রয়েছেন তাদের নিকটাত্মীয়। এদের বিষয়ে নাম-পদবিসহ পরিচয় উল্লেখ করে একাধিকবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো এ তালিকার প্রথম সারির প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা সিনিয়র সচিবের দপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ শাখায় কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া অনেকে এখন বিদেশি মিশনে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ পাওয়ার জন্য তদবিরে ব্যস্ত বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৫ বছরে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে দলীয় ক্যাডার ও কর্মীর মতো আচরণ করেছেন, মন্ত্রণালয়ের মধ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আলোচনা সভায় নেতৃত্ব দিয়েছেন—তারা এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে আছেন। কেউ কেউ অবসরে গেলেও তাদের সহযোগীরা বহাল তবিয়তে। কেউ খোলস পাল্টে নিরপেক্ষ অথবা রাতারাতি বিএনপি সাজার অপচেষ্টায় লিপ্ত। কেউ আবার আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বিএনপি-সংযোগ বের করে প্রভাব বিস্তার করছেন। তারা বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে সাবেক দুই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বেশ কয়েকজন দলবাজ সচিব তাদের সরাসরি তদবিরে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে গেছেন। যারা এখন মন্ত্রণালয়ের অনেক স্পর্শকাতর শাখায় কর্মরত। যাদের মাধ্যমে গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এদিকে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাংগঠনিক কাঠামোভুক্ত পদে নিয়োগের জন্য গত শনিবার মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। শূন্য হওয়া সাতটি পদের জন্য পরীক্ষা দিতে ৩০ জন প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকে ডাকা হয়। তবে বাস্তবতা হলো—তাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মহলের তদবিরে চাকরি পাওয়া এবং আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে চিহ্নিত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দলমত-নিরপেক্ষ পেশাদার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব দলবাজ ও দুর্নীতিগ্রস্ত আওয়ামী দোসরদের চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।