জাতীয়

বিদ্যুৎ খাতে কালো তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার পাঁয়তারা

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশের (পিজিসিবি) অন্দরমহলে ভয়াবহ টেন্ডার কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁস হয়েছে। সরকারের শীর্ষ মহলের কৃচ্ছ্রসাধন ও আর্থিক সচ্ছতার নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পিজিসিবির এক শ্রেণির উচ্চপদস্থ অসাধু কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীর সিন্ডিকেট ‘কালো তালিকাভুক্ত’ প্রতিষ্ঠানকে নরসিংদীর মাধবপুর-মনোহরদী সাবস্টেশন স্থাপন প্রকল্পের আন্তর্জাতিক দরপত্রের কাজ পাইয়ে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

 

জানা গেছে, বিশ্ববাজারে সুনামের সঙ্গে কাজ করা হেভিওয়েট চীনা কোম্পানিগুলোকে কৌশলে প্রতিযোগিতার মাঠ থেকে তাড়িয়ে দিয়ে কালো তালিকাভুক্ত ‘এনার্জিপ্যাক বাংলাদেশ’কে একটি অখ্যাত কোম্পানির সঙ্গে ‘যৌথ উদ্যোগ’ বা জয়েন্ট ভেঞ্চারের ছদ্মবেশে পুনর্বাসিত করার সব নীলনকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই ষড়যন্ত্র ও দরপত্র কারসাজির ফলে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক সহযোগী দেশ চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ফাটল ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

পরিস্থিতির স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় রাষ্ট্রের একটি শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থা ইতোমধ্যে এই অনিয়মের অন্তরালে থাকা ‘মাস্টারমাইন্ড’দের মুখোশ উন্মোচনে এবং গোপন আন্ডার টেবিল কমিশনের অর্থ লেনদেনের খোঁজে মাঠে নেমেছে।

 

নিরাপত্তা সংস্থা ও বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পিজিসিবির বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে কার্যাদেশ পেয়ে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ভয়াবহ গাফিলতি, চরম আর্থিক নয়ছয়, রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা অগ্রিম লোপাট এবং বছরের পর বছর প্রকল্প ঝুলিয়ে রেখে জাতীয় গ্রিডকে অচল করে দেওয়ার অকাট্য প্রমাণ মেলে এনার্জিপ্যাকের বিরুদ্ধে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পিজিসিবি পরিচালনা পর্ষদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ‘৬১২/২০২৫’ নম্বর বোর্ড সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ‘এনার্জিপ্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড’কে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ বা ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

বোর্ডের গৃহীত ওই কঠোর ও আইনি আদেশ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৮ সালের আগে পিজিসিবির ছোট বা বড়—কোনো ধরনের সরকারি দরপত্রেই অংশ নেওয়ার ন্যূনতম আইনগত যোগ্যতা হারিয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, পর্ষদের এই সর্বোচ্চ আইনি ও নীতিগত নিষেধাজ্ঞাকে পিজিসিবির অভ্যন্তরীণ এক শক্তিশালী স্বার্থান্বেষী প্রকৌশলী সিন্ডিকেট বিন্দুমাত্র পাত্তা দিচ্ছে না।

 

গত বছরের ২৫ নভেম্বর প্রকাশিত মাধবপুর-মনোহরদী সাবস্টেশন প্রকল্পের আন্তর্জাতিক দরপত্রে এই নিষিদ্ধ কোম্পানিকেই পেছনের দরজা দিয়ে কাজ পাইয়ে দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। সরাসরি নিজের নামে অংশ নিতে আইনি ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকায়, প্রতিষ্ঠানটি ‘রিভারি পাওয়ার অ্যান্ড অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের তুলনামূলক নতুন এবং অভিজ্ঞতাহীন একটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোপনে হাত মিলিয়ে ‘জয়েন্ট ভেঞ্চার’ নামের এক অভিনব আইনি ও চতুর ছদ্মবেশ ধারণ করেছে। মূলত রিভারি কোম্পানিকে সামনে ‘ফ্রন্ট’ বা ঢাল হিসেবে দাঁড় করিয়ে পর্দার আড়াল থেকে পুরো প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং কারিগরি কলকাঠি নাড়ছে নিষিদ্ধ কোম্পানি এনার্জিপ্যাক। সরকারি ও বোর্ড নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এটি একটি সুনিপুণ ও চতুর অপকৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়।

 

চীনা কোম্পানিগুলোকে ‘কাগুজে’ বানানোর অপচেষ্টা

সাবস্টেশন প্রকল্পের দরপত্রে পাঁচটি কনসোর্টিয়াম বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ১ নম্বরে রয়েছে এনার্জিপ্যাক ও রিভারির বিতর্কিত যৌথ কনসোর্টিয়াম। আর বাকি চারটিই হচ্ছে বিদ্যুৎ অবকাঠামো নির্মাণে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ও চীনের প্রথম সারির স্বনামধন্য রাষ্ট্রীয় কোম্পানি। এগুলো হলো—সিসিসিই-সিএমসি-ইটিইআরএন কনসোর্টিয়াম (CCCE-CMC-ETERN Consortium), সেপকো-১ ও জিক গ্রুপ (SEPCO-1 & ZIC), শ্যানডং টাইকাই পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং (Shandong Taikai Power Engineering) এবং টিবিইএ কোম্পানি লিমিটেড (TBEA Co. Ltd.)।

 

জানা গেছে, দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় যেকোনো মূল্যে কালো তালিকাভুক্ত এনার্জিপ্যাককে একতরফা টেকনিক্যাল ও ফাইন্যান্সিয়াল সুবিধা দিতে বাকি চারটি চীনা কোম্পানিকে ‘কাগুজে প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে প্রমাণের অপচেষ্টা চালাচ্ছে পিজিসিবির ভেতরের ওই অসাধু কর্মকর্তা চক্র। মূল্যায়ন কমিটির একটি অংশ উপর মহলে এবং মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের কান ভারী করতে সুকৌশলে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে যে, চীনা কোম্পানিগুলোর দাখিল করা টেকনিক্যাল নথিপত্র নাকি অত্যন্ত দুর্বল, ত্রুটিপূর্ণ এবং তারা ‘টেকনিক্যালি নন-রেসপন্সিভ’ বা অযোগ্য। উদ্দেশ্য একটাই—মূল্যায়ন শেষে যেন মাঠের সব হেভিওয়েট আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীকে কৌশলে আউট করে দিয়ে শুধু এনার্জিপ্যাক ও রিভারির জোড়াতালির কনসোর্টিয়ামকেই একমাত্র যোগ্য হিসেবে টিকিয়ে রাখা যায়। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে এই চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের সক্ষমতা ও আর্থিক ভিত্তি উচ্চমানের। মূলত দেশীয় এই কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ পাইয়ে দিয়ে বিশাল অঙ্কের গোপন পার্সেন্টেজ ভাগাভাগি করতেই বিদ্যুৎ ভবনে এই অদৃশ্য জাল বিছানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

এনার্জিপ্যাক বারবার ডুবিয়েছে জাতীয় গ্রিডকে

এনার্জিপ্যাকের কাজের অতীত ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি রাষ্ট্রীয় কোষাগার এবং জাতীয় গ্রিডের জন্য একটি বড় ধরনের ‘শ্বেতহস্তী’তে পরিণত হয়েছিল। ঢাকা ও ওয়েস্টার্ন জোন ট্রান্সমিশন গ্রিড প্রকল্পসহ দেশের অন্তত তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কাজ বছরের পর বছর ফেলে রেখেছিল তারা। বারবার সময় ও প্রকল্পের রহস্যময় ব্যয় বাড়িয়েও কাজ শেষ না করায় গত জানুয়ারিতে পিজিসিবি বাধ্য হয়ে এনার্জিপ্যাকের সঙ্গে ওই তিনটি মেগা চুক্তি বাতিল করে দেয়।

 

এখানেই শেষ নয়। ২০২১ ও ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত তাদের অধীনে থাকা আরো চারটি গ্রিড উপকেন্দ্র ও ক্যাপাসিটর ব্যাংক স্থাপন প্রকল্পের কাজে স্থবিরতা এবং প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থ নয়ছয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সেগুলোর চুক্তিও বাতিলের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কাশিমপুর, বোর্ডবাজার ও রাজেন্দ্রপুর সাবস্টেশনের কাজ বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রেখে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ও জাতীয় গ্রিডের নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়ার অপরাধেই মূলত তাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

 

প্রশ্ন উঠেছে, যে কোম্পানি রাষ্ট্রীয় প্রজেক্ট মাঝপথে ফেলে পালিয়ে যেতে পটু, সেই কোম্পানিকে কোনো অদৃশ্য ইশারায় আবারও কোটি কোটি টাকার নতুন সাবস্টেশন গিলে খাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে কি না।

 

বিদ্যুৎমন্ত্রীর দপ্তরে চীনা কোম্পানির চিঠি

পিজিসিবির ভেতরের এই ষড়যন্ত্র ও আন্তর্জাতিক টেন্ডার ম্যানিপুলেশনের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর দপ্তরে চিঠি দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান সিএমসি। গত ১১ মে মন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে চীনা কোম্পানিটি এই টেন্ডার প্রক্রিয়ার চরম অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ান তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ এবং অবিলম্বে এর প্রতিকার চেয়েছে।

চীনা কোম্পানির চিঠির মূল নির্যাস হলো—বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিষিদ্ধ কোম্পানি কোনোভাবেই জয়েন্ট ভেঞ্চারেও অংশ নিতে পারে না। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীদের নথিপত্র উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিকৃত করা হচ্ছে। এই টেন্ডার প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করে উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

চিঠিতে পরিষ্কার ভাষায় উল্লেখ করা হয়, যে কোম্পানির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের একাধিক মেগা চুক্তি বাতিলের রেকর্ড রয়েছে এবং যাকে খোদ পিজিসিবির বোর্ড তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে, তাকে জয়েন্ট ভেঞ্চারের ছদ্মবেশে রাতারাতি ‘যোগ্য’ ঘোষণা করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যা বোর্ডের নীতিগত সিদ্ধান্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, এই উদ্দেশ্যমূলক ও পাতানো মূল্যায়ন চূড়ান্ত করার আগেই যেন সাবস্টেশন প্রকল্পের সব প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করা হয় এবং নিরপেক্ষ স্বাধীন উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

চীনের এই চিঠির পর বিদ্যুৎ ভবনের টেন্ডার সিন্ডিকেটের মধ্যে ব্যাপক তোড়জোড় ও তোলপাড় শুরু হলেও পিজিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তারা রহস্যময় নীরবতা পালন করছেন।

 

দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের ঝুঁকি

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই আন্তর্জাতিক প্রকল্পে এমন জালিয়াতির ঘটনায় খোদ বিদ্যুৎ বিভাগের সৎ ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তারা চরম বিব্রত। ওই বিভাগের উচ্চপদস্থ একাধিক কর্মকর্তা আমার দেশ-এর কাছে নিজেদের বিব্রতকর পরিস্থিতির কথা প্রকাশ করেন।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, উদ্দেশ্যমূলকভাবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত চীনের প্রথম সারির কোম্পানিগুলোকে বাদ দিয়ে কালো তালিকাভুক্ত অভ্যন্তরীণ প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হলে তা বিশ্বদরবারে অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা দেবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মেগা অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে চীনের যে বিশাল বিনিয়োগ প্রবাহ রয়েছে, তা আগামীতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাছাড়া এডিবি ও বিশ্বব্যাংকের মতো উন্নয়ন সহযোগীরা যদি মনে করে যে বাংলাদেশের দরপত্র প্রক্রিয়ায় কোনো স্বচ্ছতা নেই এবং এখানে বোর্ডের নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কালো টাকার সিন্ডিকেটই শেষ কথা, তবে তারা ভবিষ্যতে এই খাতে নতুন করে অর্থায়ন করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।

 

এই আন্তর্জাতিক টেন্ডার কারসাজির বিষয়ে জানতে পিজিসিবির প্রধান প্রকৌশলী (পিঅ্যান্ডডি) সরদার মোহাম্মদ জাফরুল হাসানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমি সংশ্লিষ্ট নই।’

 

অন্যদিকে এনার্জিপ্যাকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রবিউল আলমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য প্রশ্ন পাঠানো হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হুমায়ুন রশিদেরও একই প্রক্রিয়ায় বক্তব্য নেওয়ার জন্য পাঠানো হলে তিনি এসএমএসের মাধ্যমে লিখিত জবাবে এনার্জিপ্যাক কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘এনার্জিপ্যাক ১০ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক নিয়োগ দিয়েছে এবং একজন চীনা কর্মচারীও নেয়নি। আর এটি ভারতের কাছে কোয়ালিফাইড ট্রান্সফরমার রপ্তানিকারক।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
যেকোনো মূল্যে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করব: প্রধানমন্ত্রী

যেকোনো মূল্যে দেশের সার্বভৌমত্ব ও বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার বিকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বিএনপির র‌্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের পর থেকে যে মহল বাংলাদেশে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানুষের অধিকার, ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করত...জনগণ তাদের পরাজিত করেছে। আবারও তারা ষড়যন্ত্র নিয়ে মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আসুন, আজ এই জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, যেকোনো মূল্যে আমরা আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করব। এটাই হোক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রতিজ্ঞা।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রিয় ভাই ও বোনেরা, যত দিন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন এই বিপ্লবের র‍্যালি চলমান থাকবে।’ দিবসটি উপলক্ষে বিকাল ৩টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে র‌্যালি শুরু হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা অংশ নেন। র‌্যালিটি কাকরাইল, হেয়ার রোড, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট ও বিজয় সরণি অতিক্রম করে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা।

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

নভেম্বরেই দুটি ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, বৃষ্টি নিয়ে দুঃসংবাদ

কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিটের ভাসমান টার্মিনাল।ফাইল ছবি

চার দিন পর চালু এলএনজি টার্মিনাল, বাড়ল গ্যাস সরবরাহ

ছবি: সংগৃহীত।

নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি সম্ভব নয়: শামা ওবায়েদ

ছবি: সংগৃহীত
হাম উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম উপসর্গে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম উপসর্গ এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৪৯ জন।   শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯৮৮ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ০৭ নভেম্বর পর্যন্ত মোট হামরোগীর সংখ্যা দুই লাখ ৩৭ হাজার ৭০২ জন।   গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৬১ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ০৭ নভেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ২৪ হাজার ৩৫৫ জন।   গত ১৫ মার্চ থেকে ০৭ নভেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই লাখ ১১ হাজার ৮৬৫ জন।   একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন দুই লাখ তিন হাজার ২৫৭ জন।   গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট এক হাজার ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ০৭ নভেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৭, ২০২৬
ফাইল ছবি

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র‍্যালিতে প্রধানমন্ত্রী, নেতাকর্মীদের ঢল

সংগৃহীত ছবি

গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়াল সরকার, আজ থেকেই কার্যকর

ছবি: সংগৃহীত
গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়বে, মোবাইল বিলও দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   এখন থেকে একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য মাসিক ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশের প্রধান ১১ হাজার টাকা বেতন পাবেন। পাশাপাশি প্রত্যেক সদস্যকে প্রতি মাসে ১৫০ টাকা করে মোবাইল বিল দেবে সরকার। নতুন এ সিদ্ধান্ত আজ শনিবার থেকেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।   একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে দুজন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগ এবং তাদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।   ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব ঘোষণা দেন।   এর আগে সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে আজ শনিবার বেলা পৌনে ১২ টার দিকে তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের এই সমাবেশে যোগ দেন তিনি।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন সাড়ে সাত হাজার টাকা। এটি বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। আর গ্রাম পুলিশ প্রধানের মাসিক বেতন আট হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   এ ছাড়া গ্রাম পুলিশ সদস্যদের অবসরকালীন আনুতোষিক ভাতা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানের ক্ষেত্রে ৮০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রাম পুলিশ সদস্যদের যোগাযোগের সুবিধার্থে মোবাইল ফোন খরচ বাবদ ১৫০ টাকা মাসে দেওয়া হবে। পাশাপাশি থানায় যাতায়াত ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে ৩০০ টাকা যাতায়াত ভাতা পান। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে এ ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছে।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পদবি পরিবর্তন নয়, গ্রাম পুলিশের আর্থিক ও পেশাগত মর্যাদা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগে মহল্লাদার ও দফাদার হিসেবে পরিচিতদের এখন থেকে যথাক্রমে গ্রাম পুলিশ সদস্য ও গ্রাম পুলিশ প্রধান হিসেবে পরিচিত করা হবে।   প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে নতুন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নারী গ্রাম পুলিশের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করা হবে।   গ্রাম পুলিশের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সড়ক গ্রাম পুলিশের নামে নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ওই সড়কের দুই পাশে গাছ লাগানো হবে। গাছ বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।   এছাড়া গ্রাম পুলিশ সদস্যদের পাঁচ বছর পরপর সাইকেল দেওয়ার পরিবর্তে তিন থেকে সাড়ে তিন বছর পরপর নতুন সাইকেল দেওয়ার ব্যবস্থা করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৭, ২০২৬

ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ৭ নভেম্বর: ববি হাজ্জাজ

ছবি: সংগৃহীত

আর কেউ যেন এই দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী

নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর ফিরিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে’, বললেন বিজেপি এমপি

0 Comments