জাতীয়

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। 

 

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ মহসিন রশিদ এই রিট দায়ের করেন। 

 

রিট আবেদনে ১৯৭৩ সালের আইনটিকে ‘অপ্রচলিত’, ‘কার্যকারিতাহীন’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তা বাতিলের পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। 

 

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে রিট বিবাদী করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর সংঘটিত অপরাধের বিচারের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের এখতিয়ার দিয়ে ১৯৭৩ সালের এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য বা রেশিও লেগিস ছিল মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগীদের বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু পরবর্তীকালে সম্পাদিত শিমলা চুক্তি ও ত্রিপক্ষীয় দিল্লি চুক্তির মাধ্যমে সমস্ত যুদ্ধবন্দীদের নিঃশর্ত প্রত্যাবাসন ঘটে। ফলে এই আইনের অধীনে বিচারের সম্ভাবনা তখনই শেষ হয়ে যায়। 

 

রিটে আরও বলা হয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে অকার্যকর আইনটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুনরুজ্জীবিত করা হয় এবং তৎকালীন বিরোধী দলের নেতাদের টার্গেট করে ‘বিচারিক হত্যা’র মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নির্মূলে এটি ব্যবহার করা হয়। 

 

এই আইনের প্রয়োগ সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ (আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার) এবং ৩৫ অনুচ্ছেদের (বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ) স্পষ্ট লঙ্ঘন। তাছাড়া সংবিধানের ৯৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকরা কেবল হাইকোর্ট বিভাগেই আসন গ্রহণ করতে পারেন। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক দিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ পরিচালনা সংবিধান পরিপন্থি। কিন্তু তা করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে রিটে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়বে, মোবাইল বিলও দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   এখন থেকে একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য মাসিক ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশের প্রধান ১১ হাজার টাকা বেতন পাবেন। পাশাপাশি প্রত্যেক সদস্যকে প্রতি মাসে ১৫০ টাকা করে মোবাইল বিল দেবে সরকার। নতুন এ সিদ্ধান্ত আজ শনিবার থেকেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।   একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে দুজন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগ এবং তাদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।   ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব ঘোষণা দেন।   এর আগে সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে আজ শনিবার বেলা পৌনে ১২ টার দিকে তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের এই সমাবেশে যোগ দেন তিনি।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন সাড়ে সাত হাজার টাকা। এটি বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। আর গ্রাম পুলিশ প্রধানের মাসিক বেতন আট হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   এ ছাড়া গ্রাম পুলিশ সদস্যদের অবসরকালীন আনুতোষিক ভাতা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানের ক্ষেত্রে ৮০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রাম পুলিশ সদস্যদের যোগাযোগের সুবিধার্থে মোবাইল ফোন খরচ বাবদ ১৫০ টাকা মাসে দেওয়া হবে। পাশাপাশি থানায় যাতায়াত ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে ৩০০ টাকা যাতায়াত ভাতা পান। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে এ ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছে।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পদবি পরিবর্তন নয়, গ্রাম পুলিশের আর্থিক ও পেশাগত মর্যাদা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগে মহল্লাদার ও দফাদার হিসেবে পরিচিতদের এখন থেকে যথাক্রমে গ্রাম পুলিশ সদস্য ও গ্রাম পুলিশ প্রধান হিসেবে পরিচিত করা হবে।   প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে নতুন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নারী গ্রাম পুলিশের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করা হবে।   গ্রাম পুলিশের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সড়ক গ্রাম পুলিশের নামে নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ওই সড়কের দুই পাশে গাছ লাগানো হবে। গাছ বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।   এছাড়া গ্রাম পুলিশ সদস্যদের পাঁচ বছর পরপর সাইকেল দেওয়ার পরিবর্তে তিন থেকে সাড়ে তিন বছর পরপর নতুন সাইকেল দেওয়ার ব্যবস্থা করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৭, ২০২৬

ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ৭ নভেম্বর: ববি হাজ্জাজ

ছবি: সংগৃহীত

আর কেউ যেন এই দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী

নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর ফিরিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে’, বললেন বিজেপি এমপি

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।   আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি রাজধানীর জিয়া উদ্যানে যান।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দুই নেতার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ একা নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।    এ সময় তারা ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। মোনাজাতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। পরে সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।   ছবি : পিএমও ছবি : পিএমও   এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এ্যাড. রুহুল কবির রিজভী, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম (নূরুল ইসলাম মনি) সহ অন্যান্য নেতারা।   এদিকে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে বিএনপি। শনিবার বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে হেঁটে অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।   দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।   বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে দিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় অতিক্রম করবে। এরপর বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।   তারেক রহমানের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। শোভাযাত্রা সফল করতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপিসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

আজ ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

৬ ঘণ্টার জন্য টোল ছাড়াই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারের সুযোগ আজ

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য

১৯৭৫ সালের ৭ ই নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত একটি দিন। গভীর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা এবং সাংবিধানিক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে সেদিন দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা জাতির জীবনে যে পটপরিবর্তন ঘটিয়েছিল তা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও শৃঙ্খলা সুরক্ষায় এক যুগান্তকারি ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। সেদিন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সিপাহী-জনতা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল।    জাতীয় স্বাধীনতা,সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতা সুরক্ষার অনন্য প্রতীক ‘ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস।’ সেই দিন সিপাহী জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে দেশপ্রেমের যে বিরল নজীর স্থাপিত হয়েছিল তা আজো প্রেরণার উৎস হয়ে আছে। ইতিহাসের নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে দেশ আজ স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সামিল হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি উন্নত এবং কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করা। ৭ই নভেম্বর আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী একটি দিন যা আমাদের ইতিহাসকে বদলে দিয়েছিল।   ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান কোন সাধারণ সামরিক অভ্যুত্থান মাত্র ছিল না। এর তাৎপর্য ছিল অনেক গভীরে লুকায়িত। ৭ই নভেম্বর সিপাহী-জনতার সম্মিলনে যে অভুতপূর্ব অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল তা ছিল বিক্ষুব্ধ সাধারণ সিপাহী এবং বঞ্চিত জনতার অভুতপূর্ব সম্মিলনের কাহিনী। সেদিনের ঢাকা অভিমুখে সিপাহী-জনতার সেই ঐতিহাসিক মিছিল শুধু ক্ষমতার পালা বদলের লড়াই ছিল না, সেটি ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা,স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য গণপ্রতিরোধ।    দিনটি এখনো আমাদের মনে করিয়ে দেয়-জাতীয় সংকটকালে ঐক্যই হলো সবচেয়ে বড় শক্তি। সঙ্কটমুহূর্তে জাতি যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারে তাহলে যে কোন অপশক্তির তৎপরতা রুখে দেয়া সম্ভব। শেখ মুজিবুর রহমান সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করলেও ক্ষমতাসীন হয়ে তিনি রাজনৈতিক অধিকার, বাক স্বাধীনতা হরণ করেন। সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় বাকশাল গঠন করেন। মাত্র ৪টি সংবাদপত্র রেখে অবশিষ্ট সংবাদপত্রগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। রাষ্ট্র ক্ষমতা চিরস্থায়ীভাবে কুক্ষিগত করার এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষ ভালোভাবে গ্রহণ করেনি।    অপশাসনের কারণে ১৯৭৪ সালে দেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়। পরবতীতে বিভিন্ন গবেষণায় প্রমানিত হয়েছে যে, সেই সময় দেশে খাদ্যাভাব খুব একটা প্রকট ছিল না। কিন্তু বিতরণ ব্যবস্থাপনায় চরম দুর্নীতি এবং অনিয়মের কারণে খাদ্য সাধারণ মানুষের নিকট পৌঁছুতে পারেনি।   ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বপরিবারের নিহত হলে দেশ চরম অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে পতিত হয়। অভ্যুত্থানকারীগণ আওয়ামী লীগ নেতা খোন্দকার মোস্তাক আহমদকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব প্রদান করেন। কিন্তু দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশঙ্খলা দেখা দেয়। সেনাবাহিনীর ‘চেইন অব কমান্ড’ ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়।    এমনি এক অবস্থায় ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। সেনা প্রধান জিয়াউর রহমানকে পদচ্যুৎ এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে গৃহবন্দী করা হয়।   খালেদ মোশাররফ নিজেকে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, এএইচএম কামারুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেই সময় ৩ নভেম্বর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত দেশ কার্যত কোন সরকার ছিল না। রাষ্ট্রপতি পদ থেকে খোন্দকার মোস্তাক আহমদকে সরিয়ে দিয়ে বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।     ৩রা নভেম্বরের সামরিক অভ্যুত্থান সেনাবাহিনীর সাধারণ সদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। সাধারণ সেনা সদস্যরা খালেদ মোশাররফের সামরিক অভ্যুত্থান সমর্থন করেনি। তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ৬ নভেম্বর গভীর রাতে অর্থাৎ ৭ নভেম্বর প্রথম প্রহরে সেনানিবাসে সাধারণ সিপাহীরা বিদ্র্রোহ ঘোষণা করে। ‘সিপাহী সিপাহী ভাই ভাই, সিপাহীর উপরে অফিসার নাই’ এমন শ্লোগানে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট উত্তপ্ত করে তোলা হয়।    এই সময় সিপাহীরা বন্দীদশা থেকে জেনারেল জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে আনেন। সৈনিকদের মাঝে জিয়াউর রহমান অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। সাধারণ সৈনিকরা মনে করেছিল,জিয়াউর রহমানই একমাত্র ব্যক্তি যিনি সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারবেন। ৩ রা নভেম্বরের সামরিক অভ্যুত্থানের নায়ক খালেদ মোশাররফ, কর্নেল খন্দকার নাজমূল হুদা এবং লে: কর্নেল এ টি এম হায়দার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত ১০ম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে আশ্রয় নিতে গেলে সেখানেই তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।     ৭ নভেম্বরের পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে এসে জেনারেল জিয়াউর রহমান অল্প সময়ের মধ্যেই সেনাবাহিনীতে ‘চেইন অফ কমান্ড’ ফিরিয়ে আনেন। ৭ নভেম্বরের পর জিয়াউর রহমান প্রাধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করলে ২১ এপ্রিল জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।    এরপর ১৯৭৮ সালের ৩ জুন সরাসরি জনগণের ভোটে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। জিয়াউর রহমানের উপর সিপাহী-জনতার আস্থা ছিল, কারণ তিনি ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার। তাঁর ব্যক্তিগত সততা ছিল প্রবাদপ্রতীম। এসব কারণে তিনি ছিলেন সিপাহী-জনতার আস্থার প্রতীক। তিনি সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছিলেন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে।       ৭ই নভেম্বরের সফল সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমাদের রাষ্ট্রীয় পরিচয় নিশ্চিত হয়। জিয়াউর রহমান বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে গ্রহণ করেন। ফলে জাতি হিসেবে আমাদের যে পরিচয় সঙ্কট ছিল তা দূর হয়। স্বাধীনতার পর সমস্ত উৎপাদনযন্ত্রকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার ফলে এক সময়ের লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে থাকে। প্রতিষ্ঠানগুলি দুর্নীতি আর অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়।    ৭ই নভেম্বরের পর সময়ের বাস্তবতার প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বিরাষ্ট্রীয়করণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গৃহীত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নীতি ছিল যুগের চেয়েও অগ্রগামী, বাস্তবসম্মত এবং অত্যন্ত কার্যকর ও ফলপ্রুসু। এ সময় মুক্তবাজার অর্থনীতি অনুসরণ করা হয়। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলেই প্রথম বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি শুরু হয়। তাঁর একটি অনন্য কীর্তি হচ্ছে এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) স্থাপন করা। বাংলাদেশের পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির ক্ষেত্রে ইপিজেডের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।    প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দক্ষিণ এশিয়ার সন্নিহিত এলাকায় অবস্থিত দেশগুলোকে নিয়ে একটি কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান সার্ক গঠনের জন্য প্রাথমিক যোগাযোগ শুরু করেছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যুর কারণে সেই উদ্যোগ কিছুটা থমকে যায়। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ার ৭টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সম্মেলনে সার্ক গঠন করা হয়। কিন্তু একটি প্রভাবশালী রাষ্ট্র শর্ত দেয় যে,সার্কে কোন দ্বিপাক্ষিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা যাবে না। এই শর্ত মেনে নেয়ার কারণে সার্ক গঠনের মূল উদ্দেশ্যই বিঘ্নিত হয়েছে।     জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় মৌলনীতিতে ধর্ম নিরপেক্ষতার স্থলে সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস যুক্ত করেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ সংবিধানে যুক্ত করা হয়। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশালের পরিবর্তে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করা হয়। বিশ্বে মাত্র কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় শাসনভার হাতে পাবার পর স্বেচ্ছায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। তাদের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছিলেন অন্যতম।     জিয়াউর রহমান একমুখি পররাষ্ট্র নীতি থেকে সরে এসে ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়’ এই নীতির বাস্তব প্রতিফলন ঘটান। এই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরবসহ ইসলামী দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা হয়। জিয়াউর রহমানের সময়ে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে জনশক্তি রপ্তানি শুরু হয়। বর্তমানে জনশক্তি রপ্তানি খাত হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত।    জিয়াউর রহমানের সময়ে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের চমৎকার দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক সম্পর্ক তৈরি হয়। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান মুসলিম দেশগুলোর দ্বিপাক্ষিক সমস্যা সমাধানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন। তিনি ইরাক-ইরান যুদ্ধে বন্ধে মধ্যস্থকতাকারীর ভূমিকা পালন করে প্রশংসিত হন।    ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের পর দেশের রাজনীতিকে শহর থেকে গ্রামমুখি করা হয়। খাল খনন কর্মসূচি, গ্রামীণ আদালত গঠনের মাধ্যমে উন্নযন কর্মকাণ্ডে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একের পর এক গ্রাম ঘুরে বেড়িয়েছেন পদব্রজে। তিনি কৃষক-শ্রমিকের সঙ্গে মিশেছেন একান্ত আপন জনের মতো। তিনি বলেছিলেন, শহরের বিলাসবহুল ভবনে বসে গ্রামের মানুষের কল্যাণ চিন্তার দিন শেষ। গ্রামের মানুষের কল্যাণ চিন্তা করতে হলে গ্রামে যেতে হবে। গ্রামের মানুষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মেলামেশা করে তাদের দু:খকষ্ট জানতে হবে।     ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর যে ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান ঘটে তার চেতনা আমাদের বারবার দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ৭ই নভেম্বরের কোন বিকল্প নেই। ১৯৭৫ সালের ৭ ই নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের ৫ই অগস্টের অভ্যুত্থানের চেতনাকে হৃদয়ে ধারন করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এখনো বাংলাদেশকে নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের চলছে।    আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থ অনেক বড়। তাই সর্বাবস্থায় দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যই আগামী দিনের প্রত্যাশা। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি তাহলে আমাদের অগ্রযাত্রা কেউ রুখতে পারবে না।     লেখক: সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রফেসর এমিরিটাস, ঢাবি: ও বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত।   সূত্র : বাসস

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থান: যেভাবে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে ওঠেন জিয়াউর রহমান

ছবি: সংগৃহীত

৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র চেনার দিন: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই: ডেপুটি স্পিকার

0 Comments