পর্বতের চূড়ায় লেগে বিধ্বস্ত হয় রাশিয়ার বিমান, ১৯ মরদেহ উদ্ধার

0
15

খবর৭১ঃ রাশিয়ার বিধ্বস্ত বিমানের উদ্ধারকারী দলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,পর্বতের চূড়ার সঙ্গে সংঘর্ষে বিমানটি ধ্বংস হয়। তারা ১৯টি মরদেহ উদ্ধারের কথাও জানিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাশিয়ার ফার ইস্ট অঞ্চলের কামচাটকা উপদ্বীপে এন-২৬ নামে একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়। উড়োজাহাজটি কামচাটকার প্রধান শহর পেত্রোপাভলোভস্ক-কামচাটস্কি থেকে উপকূলীয় শহর পালানাতে যাচ্ছিল।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, উড়োজাহাজটির ২৮ আরোহীর মধ্যে ২২ জন সাধারণ যাত্রী ও ছয়জন ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে পালানার মেয়র অলভা মোখিরেভাও ছিলেন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বেলা ২টা ৪০ মিনিটে রওনা হওয়ার পর পালানা বিমানবন্দর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে থাকতে উড়োজাহাজটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন উড়োজাহাজটির অবতরণের ১০ মিনিট বাকি ছিল।

দেশটির সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দুর্ঘটনাস্থলে একটি হেলিকপ্টার ও কয়েকটি উদ্ধারকারী দল পাঠানোর পর রাত ৯টা ৬ মিনিটে উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষের সন্ধান মেলে।

রাশিয়ার বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানায়, উড়োজাহাজটি খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে। দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকা মেঘাচ্ছন্ন ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোও।

রাশিয়ার বিমান চলাচলবিষয়ক সংস্থা জানায়, ধ্বংসাবশেষগুলো বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে চার-পাঁচ কিলোমিটার দূরে উপকূলীয় এলাকায় পাওয়া গেছে।

উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার যে চিত্র দেখা গেছে, তাতে ওই বিমানটির কোনো যাত্রী বা ক্রু-এর জীবিত থাকার আশা নেই।

কামচাটকার গভর্নর ভ্লাদিমির সোলোদভ নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন রুবল (৪৭ হাজার ডলার) দেয়ার প্রতিশ্রুতিসহ প্রদেশজুড়ে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছেন।

রাশিয়ার এএন২৬ বিমানগুলো তৈরি করা হয়েছিল সাবেক সোভিয়েত আমলে, ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৮৬ সালের মধ্যে। সম্প্রতি যে বিমানটি দুর্ঘটনাকবলিত হয়েছে সেটি প্রস্তুত করা হয়েছিল ১৯৮২ সালে।

এর আগে ২০১২ সালে এন-২৬ মডেলের অপর একটি উড়োজাহাজ কামচাটকার একটি জঙ্গলে বিধ্বস্ত হয়ে ১০ জন নিহত হয়। ওই উড়োজাহাজের দুই পাইলটই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে সে সময় তদন্তে বেরিয়ে আসে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here