১৬ জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে কলঙ্কময় দিন

0
34

খবর৭১ঃ  ১৬ জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে কলঙ্কময় দিন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, সেদিন কোনো কারণ ছাড়াই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তাকে গ্রেফতার করেছিলো কারণ তারা জানতো দেশের জনগণ শেখ হাসিনার সঙ্গে আছে। তাকে কারারুদ্ধ করে রাখলে দেশের মানুষ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলবে না। দুর্নীতির কারণে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার কতটা হাস্যকর ছিলো তা আজ প্রমাণিত হয়েছে।

শনিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই বঙ্গবন্ধু কন্যাকে গ্রেফতার কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিলো না। ২০০১ সালের নির্বাচনের সাথে এর যোগসূত্র আছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্যাস রফতানির প্রস্তাব দিয়েছিলো। তখন শেখ হাসিনা পরিস্কারভাবে বলেছিলেন, দেশে গ্যাস ৫০ বছরে রিজার্ভ থাকলে রফতানি করবো। এরপর থেকে আমাদের প্রতি পশ্চিমাদের বিরূপ মনোভাব আছে। ১৯৭১ সালোর মহান মুক্তিযুদ্ধেও পশ্চিমা রাষ্ট্রটি বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো। বাঙালিরা তাদের পরাস্ত করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলো। পাকিস্তানের পাশাপাশি পশ্চিমা শক্তি এই পরাজয় মেনে নিতে পারেনি। যার কারণে দেশ স্বাধীনের সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে জীবন দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০১ সালের নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের কাছে পরাজিত হয়েছিলো।বিএনপি নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগ নাকি ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থেকে লুটপাট করেছে। দেশকে জঙ্গিদের অভয়ারণ্য করেছে। যার কারণে দেশের মানুষ তাদেরকে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। আওয়ামী লীগ সবসময় গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে, এর বাইরে যায়নি।

২০০৭ সালে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারে গোটা জাতি অবাক হয়েছিলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন শেখ হাসিনা। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ থাকলে খালেদা জিয়া তাকে ছেড়ে দিতেন না। শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য খালেদা জিয়া চেষ্টা করেছেন। গ্রেনেড হামলা করে বারবার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি জানতো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয়। ১ কোটি ২০ লাখ ভূয়া ভোটার বানিয়েছিলো। যেকোনোভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে ইয়াজদ্দিনকে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে। বিএপি জানতো তাদের অপকর্মের কারনে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সম্ভব ছিলো না। কিন্তু জনগণের কারনে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এর বিকল্প ব্যবস্থা করে রেখেছিলো পশ্চিমা বিশ্ব।

নোবেলবিজয়ী ড. ইউনুস কোথায় শান্তি স্থাপন করেছিলেন এমন প্রশ্ন রেখে হানিফ বলেন, ড. ইউনুসের সুদের ব্যবসায় সর্বশান্ত হয়েছে। ইউনুসকে প্রধান করে পাপেট সরকারের বিকল্প ব্যবস্থা করে রেখেছিলো। মাইক্রো-ক্রেডিট অর্থনীতি নিয়ে কাজ করা ইউনুসকে মহাশক্তিধর রাষ্ট্র ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল দিয়েছে। কারণ শান্তিতে নোবেল দিতে বিচার বিশ্লেষণ লাগে না।

শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে জড়িত নেতা-কর্মীদের স্মরণ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য আওয়ামী লীগের যেসব ত্যাগী নেতা-কর্মীরা লড়াই, সংগ্রাম করে করেছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। প্রয়াত আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।

ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয় আছে উল্লেখ করে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ড. ইউনূসরা জীবিত আছে। এখনো ষড়যন্ত আছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসুক তারা চায় না। কারণ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশ উন্নয়ন, অগ্রগতিতে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে।আওয়ামী লীগের প্রতি তাদের ভীতি আছে। বিএনপি-জামায়াতের অব্যাহত ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। যেকোনো ষড়যন্ত্র রাজপথে প্রতিহত করে আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়বো।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, এডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি।

আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here