ছাতকে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত অর্ধশতাধিকঃ ২ জন ইউপি সদস্যসহ আটক ২২

0
32

হাবিবুর রহমান নাসির ছাতক:

ছাতকে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় খুরমা উত্তর ইউনিয়নের আমেরতল গ্রামে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সোমবার সকালে ঘন্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারী-পুরুষসহ অর্ধ শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ছাতক-দোয়ারা (সার্কেল) বিল্লাল হোসেন, ছাতক থানার (ভারপ্রাপ্ত ওসি) মিজানুর রহমান। ঘটনাস্থলে ছাতক থানা পুলিশ ও দাঙ্গা পুলিশের দুটি টিম মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত উপজেলার খুরমা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন নৌকা প্রতীক নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক বিল্লাল আহমদ। তার চাচাতো ভাই আওয়ালীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী অ্যাভোকেট মনির উদ্দিন মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। এই নির্বাচনে তৃতীয় বারের মত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বিল্লাল আহমদ।

নির্বাচন নিয়ে দুই প্রার্থীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিলো। ফেইসবুকে লেখালেখি নিয়ে রোববার সন্ধ্যায় মনির উদ্দিনের ভাতিজা রুবেল আহমদ ও বিল্লাল আহমেদের ভাগ্নে আব্দুল আলিম নামের দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার সকাল ৮ টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ছুলফি, ঝাঁটা, দা, লাঠি নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন।সংঘর্ষে পথচারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৫০/৬০ জন আহত হয়েছেন। আহত সাহেদ আহমদ (২৪), আতিক হাসান (২৬), বদরুল (২৫), হায়দার আলী (৩৫), পারভীন আক্তার(৪০), মরিয়ম বেগম (৫৫), মুক্তার (২৩), আমির আলী (৫৫), আবুল (৬০), রাসেল (৩০), মারুফ আহমদ (২৫), ছুরুক মিয়া (৪৫), ছায়েদ আহমদ (২৮), লিটন মিয়া (৩২), হানিফ আলী(৫০), রজব আলী (৫৩) জলাল মিয়া (৩২), শরিয়ত আলী (৪০), রুমান উদ্দিন (৩০)সহ আহতদের ছাতক হাসপাতাল ও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি কর হয়েছে। গুরুতর আহত ৭ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যান্য আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নবনির্বাচিত ২ জন ইউপি সদস্য সহ ২২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকৃতদের মধ্যে রয়েছেন খুরমা উত্তর ইউনিয়নের নব নির্বাচিত সদস্য কয়ছর আহমদ ও চরমহল্লা ইউনিয়নের সদস্য জসিম উদ্দিন। তাদের পরিবারের দাবি তারা সালিশ করতে গিয়েছিলেন। পুলিশ সন্দেহ করে তাদের আটক করেছে। ছাতক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েক জনকে ও আটক করেছে পুলিশ।থানা পুলিশ জানিয়েছে, সবাইকে ভেজা কাপড়পরা অবস্থায় আটক করা হয়েছে। এলাকার লোকজন দাবী করেছেন নিরপরাদ কেউ যেনো এ ঘটনায় হয়রানীর শিকার না হয়। তারা সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার, এএসপি সার্কেল ছাতক-দোয়ারা ও ছাতক থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে এ দাবী করেছেন। ছাতক থানার (ভারপ্রাপ্ত ওসি) মিজানুর রহমান সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ছাতক-দোয়ারা সার্কেল বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here