রাজধানীতে জমে উঠেছে পশুর হাট, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

0
12

খবর৭১ঃ পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শনিবার থেকে রাজধানীতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে পশুর বেচাকেনা। প্রথম দিনেই জমে উঠেছে হাটগুলো। পশুর দাম কিছুটা চড়া হলেও বিক্রির ধুম লেগেছে। তবে বেশির ভাগ পশুর হাটেই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত। ক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতা কিছুটা লক্ষ্য করা গেলেও পাইকারদের মধ্যে নেই স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই। তবে প্রতিটি হাটেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে মাইকিং অব্যাহত রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোরবানির পশু বিক্রির ব্যস্ততা বেড়েছে সব হাটেই। এরমধ্যে রাজধানীর গাবতলী গবাদি পশু বিক্রির হাটে ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। স্থায়ী হাটটিতে বিক্রি শুরু হয়েছে আরও এক সপ্তাহ আগে থেকেই। শুক্রবার ঈদের আগে শেষ ছুটির দিনে ক্রেতার ঢল দেখা গেছে হাটটিতে। শনিবার সকাল থেকে ছিল একই চিত্র। বিকাল নাগাদ ক্রেতা আনাগোনা আরও বেড়েছে।

দিনভর হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে চলেছে দরদাম। বিক্রেতার চাহিদার সঙ্গে ক্রেতার দরদামে মিললে কিনে নিচ্ছেন পছন্দের পশুটি। একের পর এক বিক্রীত গরু এসে জমা হচ্ছে হাসিল ঘরের সামনে।

বিক্রির বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে হাসিল ঘরের সংখ্যা। গতকাল পর্যন্ত হাসিল ঘরের সংখ্যা ছয়টি। এবার মোট নয়টি হাসিল ঘর করার কথা ছিল গাবতলী হাট ইজারাদারের। সেখানে শনিবার হাসিল ঘর করা হয়েছে ১১টি।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার সকাল থেকে ক্রেতা আনাগোনা বেড়েছে। বিক্রিও হয়েছে আশানুরূপ। শনিবার সকাল থেকে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেই সময় কাটছে তাদের।

কুষ্টিয়ার মেহেরপুর থেকে পাঁচটি গরু নিয়ে এসেছেন বিক্রেতা জামাল। তিনি বলেন, ‘গতকাল সকালে হটে গরু নামিয়েছি। কাল সারাদিনে একটি বেচলেও আজ সকাল থেকে তিনটি গরু বেচে ফেলেছি। বাজারে মোটামুটি ক্রেতার চাপ ভালোই আছে। বাকি গরুটারও দরদাম হচ্ছে, হয়তো আজই বেচে ফেলতে পারবো।’

গরু বিক্রি করে খুশি কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক খুশি। চাহিদার মতো দাম পেয়েছি। চারটি গরুতে মোটামুটি ভালোই লাভ হয়েছে।’

অনেকে কয়েক দিন আগে গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। কেউ আজ এসে পৌঁছেছেন, কেউবা এখনো পথে। শনিবার সকালে গাবতলী হাটে এসে পৌঁছেছেন ব্যাপারি মাহফুজ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আজ সকালে ৯টি গরু নিয়ে হাটে পৌঁছেছি। এখনো বিক্রি হয়নি। তবে দামদর চলছে, ক্রেতা আসছে। আশা করি বিক্রি হবে।’

এদিকে ক্রেতারা জানান, হাট ভরা গরু, মহিষ, ছাগলসহ সব রকম কোরবানি উপযোগী পশু থাকলেও দাম অনেকটা বেশি।

মিরপুর থেকে গাবতলী হাটে কোরবানির পশু কিনতে এসেছেন আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এবার দাম কিছুটা বেশি। তবে আমি আমার বাজেটের মধ্যে ভালো গরু পেয়েছি। তাই দেরি না করে নিয়ে নিলাম। এখন বাসায় নিয়ে যাব।’

এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনুশৃঙ্খলা বাহিনী। সেই সঙ্গে জাল টাকা শনাক্তের জন্য হাটে রাখা হয়েছে দুটি বুথ।

স্থায়ী হাটটির পাশাপাশি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নিয়ন্ত্রিত অস্থায়ী হাটগুলোতেও কুরবানির পশু বিক্রির ব্যস্ততা চোখে পড়েছে। দুই সিটি মিলিয়ে অস্থায়ী হাট বসার কথা ছিল ২৩টি। এরমধ্যে কোভিড-১৯ মহামারির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনটি হাট বন্ধ ঘোষণা করে দক্ষিণ সিটি। এখন দক্ষিণে নয়টি ও উত্তরে ১০টি অস্থায়ী হাট চলমান রয়েছে। আরও দুদিন আগে থেকেই এসব হাটে কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোরবানি উপযোগী পশু বিক্রি শুরু হয়েছে আজ থেকে।

উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় অস্থায়ী হাট বসেছে নয়টি। হাটগুলো হলো: বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং (আফতাবনগর) ব্লক-ই, সেকশন-৩-এর খালি জায়গা, কাওলা শিয়ালডাঙ্গাসংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তরখান মৈনারটেক শহীদনগর হাউজিং (আবাসিক) প্রকল্পের খালি জায়গা, উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টর এলাকায় অবস্থিত বৃন্দাবন থেকে উত্তর দিকে বিজিএমইএ পর্যন্ত খালি জায়গা, ভাটারা (সাইদনগর) অস্থায়ী পশুর হাট, বসিলা ৪০ ফুট এলাকা এবং ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন ৩০০ ফুট সড়কসংলগ্ন উত্তর পাশের সালাম স্টিল লিমিটেড ও যমুনা হাউজিং কোম্পানি এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন খালি জায়গা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here