বেনাপোল কাস্টম হাউসে ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি ২ হাজার ১৪৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা

0
54

শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল প্রতিনিধি : বেনাপোল কাস্টম হাউসে ২০২০-২১ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ২ হাজার ১৪৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। বছরটিতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ২৪৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। রাজস্ব আয় হয়েছে ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা। তবে, করোনাসহ নানান প্রতিবন্ধকতায় এবারে বিশাল অংকের রাজস্ব আয়ে ঘাটতি বলে মন্তব্য করেছেন কাস্টম কর্তৃপক্ষ।

এর পূর্বেও ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বেনাপোল কাস্টমসে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছিল ৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। এছাড়া বন্দর ও কাস্টমসের নানান অনিয়ম, শুল্কফাঁকি ও অব্যবস্থাপনায় অনেক ব্যবসায়ী এ বন্দর ছাড়ায় গত ৭ /৮ বছর ধরে এ বন্দরের কাস্টম হাউসে রাজস্ব ঘাটতি হয়ে আসছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

তথ্য অনুযায়ী ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বেনাপোল কাস্টমসে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছিল ৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ঘাটতি ১১৪৫ কোটি টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ঘাটতি ১৭৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। তবে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রাজস্ব বেশি আদায় হয়েছিল ৪৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা, আবার ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ঘাটতি ২০৩ কোটি টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ঘাটতি ৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা, ২০১৩-১৪ তে ঘাটতি ১৩৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, ২০১২-১৩ তে ঘাটতি ৪৫২ কোটি ৮৯ লাখ এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে ঘাটতির পরিমান ছিল ১৯৪ কোটি টাকা।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ¦ মফিজুর রহমান সজন বলেন, গেল দুই বছর করোনার কারনে ব্যবসায়ীরা ভারতে যেতে না পেরে চাহিদা মতো পণ্য আমদানি করতে না পারায় রাজস্ব আয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে বাণিজ্যি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে যে সকল অবকাঠামো বেনাপোল বন্দর ও কাস্টমস হাউসে থাকার কথা তা অনেকটাই নাই এখানে। এতে লোকশানের কবলে পড়ে অনেকে এপথে বাণিজ্য বন্ধ করেছেন, অনেকে অন্যবন্দর দিয়ে ব্যবসা করছেন। যেকারণে বেনাপোল বন্দর কয়েক বছর ধরে রাজস্ব ঘাটতির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, বেনাপোল কাস্টমসে আমদানি পণ্যের গুণগত মান পরীক্ষনের প্রয়োজণীয় সব ব্যবস্থ্যা নেই। এতে খুলনা ও ঢাকা থেকে পরীক্ষা করাতে মাসের অধিক সময় লেগে যায়। খুলনা বা ঢাকা থেকে পণ্যের পরীক্ষণে একদিকে যেমন অনেক সময় অপচয় হয় তেমনি বন্দরে আটকে থাকা পণ্যে ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক ভাবে মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি বেনাপোল কাস্টমস হাউসে বিএসটিআই ও বিএসআইয়ের শাখা স্থাপনের দাবী আজও বাস্তবায়ন না হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী এ বন্দর ছেড়ে চলে গেছেন অন্যপথে। ধির্ঘ সময় ধরে রাজস্ব আয় কমার ক্ষেত্রে এটিও একটি বড় কারণ বলে মন্তব্য করেন এ ব্যবসায়ী।

আমদানি কারক পিয়াস ইন্টারন্যাশনালের সত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বেনাপোল বন্দর থেকে সরকার প্রতিবছর প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করে থাকে। তবে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষ জনক না। আমদানি কারকদের নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে বন্দরে পণ্য পাহারা দিতে হয়। এছাড়া বন্দর থেকে পণ্য চুরি ও বারবার বন্দর অভ্যন্তরে রহস্যজনক অগ্নিকান্ডের ঘটনায় অনেক ব্যবসায়ী এখান থেকে ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়ে ব্যবসা বন্ধ করেছেন। এছাড়াও এ বন্দর দিয়ে বৈধ পথে মাদক দ্রব্য বেড়ে যাওয়ায় ঝামেলা এড়াতে ভদ্র ব্যবসায়ীরা অনেকে অন্য বন্দরে চলে গেছেন। এসব কারনে পর পর ৮ থেকে ৯ বছর ধরে এ বন্দরে আমদানি পণ্য থেকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চাহিদা মত রাজস্ব আহরণ করতে পারছেন না।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক(ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে ইতিমধ্যে অনেকগুলো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পণ্যাগারের জন্য জমি অধিগ্রহন, নতুন পণ্যগার নির্মান ও বন্দর এলাকায় রাস্তাঘাটের উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। এছাড়া বন্দরে আরো জমি অধিগ্রহণ ও পণ্যের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজ চলমান বলেও জানান তিনি।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার ড. নেয়ামুল কবীর জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টম হাউসের রাজস্ব আয় হয়েছে ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা। করোনার বিরুপ প্রভাবে এবারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জণ করা সম্ভব হয়নি, তবে রাজস্ব আয়ের পরিমান কমলেও গ্রোথ ছিলো অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া বেনাপোল কাস্টম হাউস সঠিক নিয়মে সক্রিয় হয়ে রাজস্ব আহরনে কাজ করছেন, যেসকল ব্যবসায়ীরা অনিয়ম করার চেষ্টা করেছেন তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ জরিমানা ও বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here