ফুটবল ইতিহাসের স্মরণীয় দিন হতে চলছে আজ

0
240

খবর ৭১: সারা বিশ্ব অধীর হয়ে আছে।রাশিয়া বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরু্ত্বপূর্ণ দিন আজ। রাতে খুবই বড় দুটি ম্যাচ। সেখানে এমন চারটি দল মাঠে নামছে, যারা সবাই চ্যাম্পিয়ন হবার মতো। কিন্তু বাস্তবতা এই যে, এখান থেকে দুটো দলকে বিদায় নিতে হবে। দুটো দলের জন্য আজকের রাতটা হবে খুবই কষ্টের। সব কিছু মিলিয়ে আমি বলব, আজ বিশ্ব ফুটবলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় দিন হতে চলেছে। আমি নিজেও ম্যাচ দুটোর জন্য অধীর হয়ে আছি। অন্য সবার মতো আমারও আগাম কষ্ট হচ্ছে, আহা, অত্যন্ত শক্তিশালী ‍দুটো দলকে আজ বিদায় নিতে হবে। যেন এক নিষ্ঠুর বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে বিশ্ব ফুটবল! সেই হৃদয়ভাঙা দল দুটি কারা?
আসলে বলাটা খুবই মুশকিল। দুটি ম্যাচই হবে শেয়ানে শেয়ানে লড়া‌ই। প্রথমে আর্জেন্টিনা ফ্রান্সের কথায় আসি। এই যে ফ্রান্সের মুখোমুখি হতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে, এর জন্য দায়ী ল্যাটিন আমেরিকার দলটিই। তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে আজ তাদের ফ্রান্সের মুখোমুখি হতে হতো না। তাদের খুব কষ্ট করে নক আউটে আসতে হয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্স গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচই জিতেছে।
তারপরেও আজকের ম্যাচে কিন্তু আমি কাউকে এগিয়ে রাখছি না। আবার কাউকে পিছয়েও রাখছি না। আবার কাইকে পিছিয়েও রাখছি না। আমি আগেই বলেছি, লড়াই হবে শেয়ানে শেয়ানে, অ্যানিবডি গেম। দুটি দলই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। আর্জেন্টিনার ফুটবল ঐতিহ্যের কথা সবার জানা। ম্যারাডোনা, মেসির মতো গ্রেট ফুটবলারের দেশ আর্জেন্টিনা। মেসি ছাড়াও বর্তামান আজেন্টিনা দলে হিগুয়াইন, ডি মারিয়াদের মতো তুখোড় ফুটবলার আছে। তারকার অভাব নেই ফ্রান্স দলেও।গ্রিসম্যান, পোগবার মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার রয়েছে ফরাসী দলে।
আজ থেকে শুরু আসল লড়াই। গ্রুপ পর্বের ম্যাচের থেকে নক আউটের পর্বের ধেলার ধরণ, রণ কৌশল হবে আলাদা। এখানে কোচের স্ট্র্যাটেজি হবে ঘুবই গুরুত্বপূর্ণ ও ভাইটাল। তিন ধরনের পরিকল্পণা থাকবে কোচের। ৯০ মিনিটের খেলার একটা ধরণ। ৯০ মিনিটেরে খেলা সমতায় শেষ হলে পরের ৩০ মিনিটের খেলার কৌশল । সেখানেও যদি মিমাংসা না হয় তাহলে টাইব্রেকারের কৌশল। নক আউট পর্ব বলে প্রথম ৯০ মিনিট সবাই ধরে খেলবে। আগে গোল না খাওয়া নিশ্চিত করতে চাইবে। এর ফাঁকে সুযোগ বুঝে আক্রমণ। আমি মনে করি, ফান্স দলটি খুব ব্যালেন্স এবং তারা ৯০ বা ১২০ মিনিট সমান তালে খেলার ক্ষমতা রাখে। এটা ফ্রান্সের জন্য পজিটিভ দিক। আর আর্জেন্টিনার পজিটিভ দিক হলে লিওনেল মেসি। তার দিকে সবসময় তাকিয়ে থাকে দল। গত ম্যাচেও তিনি দলকে উদ্ধার করেছেন। আজও যদি ব্যতিক্রম কিছু করতে পারেন তাহলে আর্জেন্টিনা হাসতে পারে। তবে আমি মনে করি, জয় পরাজয়ের সম্ভাবনা ফিফটি ফিফটি। ম্যাচটা হবে কঠিন, উপভোগ্য।
উরুগুয়ে-পর্তুগাল। আহ, আরেকটা কঠিন ম্যাচ। তবে পর্তুগালের ভাগ্য মন্দ কিনা আমি জানি না। কঠিন এক প্রতিপক্ষ তাদের সামনে। দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। এটা তো গেল অতীত। এখানকার দলটিরও পুরোপুরি সামার্থ আছে বিশ্বকাপ জেতার। তারা সমানতালে ৯০ মিনিট খেলার মতো দল। পুরো ব্যালেন্স দল। তাদের আছে কাভানি ও সুয়োজের মতো দুই ভয়ঙ্কর স্ট্রাইকার। প্রথমজন পিএসজিকে চ্যাম্পিয়ন করার পেছনে রেখেছেন বিরাট অবদান। ফরাসী লিগে হয়েছেন সর্বোচ্চ স্কোরার। আর সুয়ারেজের বড় অবদান ছিল বার্সেলোনার লা লিগা চ্যাম্পিন হওয়ার পেছনে। লা লিগাতে অন্যতম টপ স্কোরার ছিলেন সুয়োরেজ। সুয়োরেজ- কাভানি, খুবই বিপজ্জনক খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের জন্য। তারা মারাত্মক সুযোগ সন্ধানি স্কোরার।
পর্তুগালের রক্ষণভাগকে তাই অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে, সর্বদা সতর্ক, তৎপর থাকতে হবে। কোচ সেভাবেই নিশ্চিয়ই দল সাজাবেন, রণ নীতি গ্রহণ করবেন। গোল না খাওয়া নিশ্চিত করতে হবে আগে। আর রোনালদো আছেনই। প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন। পরের ম্যাচেও গোল পেয়েছেন। আর্জেন্টিনা যেমন মেসির দিকে তাকিয়ে, তেমনি রোনালদোর দিকে তাকিয়ে পর্তুগাল। রোনালকো যদি জ্বলে ওঠেন তাহলে তো হলোই। তবে সব দিক দিয়ে বিবেচনা করে আমি উরুগুয়েকেই এগিয়ে রাখব। কিন্তু তারপরেও বলছি, এ ম্যাচটির সম্ভাবনাও ফিফটি ফিফটি। যে কেউ জিততে পারে। এখানেও লড়াই শেয়ানে শেয়ানে। অ্যানিবডি গেম।
আব্দুস সালাম মুর্শেদী : সাবেক তারকা ফুটবলার

খবর ৭১/ই:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here