সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন

0
202

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর :
সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোখছেদুল মোমিনকে নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে (মিডিয়া) অসত্য, বিভ্রান্তিকর, বানোয়াট ও খবর প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সৈয়দপুর পৌরসভা কমিউনিটি সেন্টারে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মো.মোখছেদুল মোমিন। এতে লিখিত বক্তব্যে মোখছেদুল মোমিন বলেন, সৈয়দপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ পৌর সবজি মার্কেটের আধুনিকায়নে পুনঃনির্মাণের কাজ করছে। সম্প্রতি ওই পৌর সবজিবাজার নির্মাণকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। সেই সব ঘটনায় আমার কোন সম্পৃক্ততা না থাকলেও ওই সব ঘটনার সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ ৪৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে অসৎ উদ্দেশ্যে নিজের ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য সংগঠনকে কখনই ব্যবহার করিনি। অথচ ২/১টি সংবাদ মাধ্যমে আমাকে জড়িয়ে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বর্তমানে আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক জনপ্রিয়তায় ঈষার্ণিত হয়ে একটি অসাধু মহল আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে নানা কৌশলে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত ওই সভাপতি বলেন, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় চাকরির সুবাদে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়
রেলওয়ে শ্রমিকলীগের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ি। আমার বাবা প্রয়াত সামশুল হকও জড়িত ছিলেন রেলওয়ে শ্রমিক লীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিস্কার করে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন,বর্তমানে আমি রেলওয়ে শ্রমিক লীগ কারখানা সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টাসহ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। তিনি বলেন গত ২০১৯ সালের ২২ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আমি এককভাবে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী থাকলেও সভাপতি পদে সমঝোতা না হওয়ায় সেদিন কমিটি গঠন হয়নি। পরে অজ্ঞাত কারণে আমাকে বাদ দিয়ে সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ওই কমিটির সভাপতি আখতার হোসেন বাদল মারা গেলে সে সময় দলের কর্মকান্ড গতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারী আমাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেন। ওই দায়িত্ব পেয়ে গোটা উপজেলায় সংগঠণের অবস্থান মজবুত করাসহ দলের সকল কর্মকান্ড পরিচালনায় নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছি জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ১৭ বছর জাতীয় শ্রমিক লীগ সৈয়দপুর আঞ্চলিক শাখার যুগ্ম আহবায়ক এবং রেলওয়ে শ্রমিক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাষ্টের নির্বাচিত শ্রমিক প্রতিনিধি হিসেবে ১৬ বছর দায়িত্বে ছিলাম। তিনি বলেন,দীর্ঘ প্রায় ৪৫ বছর ধরে আমি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। অথচ অসাধু মহলের ইন্ধনে আমাকে নিয়ে নানা রকম অপপ্রচার চালানে হচ্ছে। এছাড়া আমার চাকরির পদবি নিয়েও কটূক্তি বলা হচ্ছে আমি রেল কারখানার খালাসি পদ থেকে সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছি। কিন্তু কখনও খালাসি পদে ছিলাম না। আমি মূলতঃ ১৯৭৭ সালে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস (শিক্ষানবিশ) পদে যোগদান করি। বিগত ২০১৭ সালে তৎকালীণ উপজেলা চেয়ারম্যান জাওয়াদুল হক সরকারের মৃত্যুতে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদটি শুন্য হয়। সেসময় আমি উপজেলা পরিষদের উপ নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ উপ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেন। তখন আমি চাকুরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহন করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। এর পরের নির্বাচনে জনগণ আমাকে আবারও উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান এভাবেই তুলে বলেন সাংবাদিকদের সাথে রয়েছে সুসম্পর্ক। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে রেলের জমি দখলের আনিত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তিনি বলেন, আমার ও আমার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের নামে রেলওয়ের যে জমি বরাদ্দ রয়েছে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বরাদ্দ নিয়ে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছি।
মোখছেদুল মোমিন বলেন, আমরা রাজনৈতিক দলের নেতারা বিভিন্ন সভা সমাবেশে নানা রকম বক্তৃতা দিয়ে থাকি। এমনি শহরে এক পথসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে ক্ষোভে কিংবা দুঃখে এক সাংবাদিক সম্পর্কে নেতিবাচক কিছু কথা বলেছি। তিনি এ জন্য সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। আর শহরে এক সাংবাদিকের গলায় জুতার মালা পড়ানো বিলবোর্ড লাগানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করার আহবান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দপুর পৌর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ইদ্রিস আলী, খাতামধুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজমল হোসেন, পৌর প্যানেল মেয়র শাহিন হোসেন, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী ও পৌর কাউন্সিল কাজী জাহানারা বেগম, বাঙ্গালীপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা: শাহাজাদা সরকার, উপজেলা আ.লীগের সহ সভাপতি নজরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর জোবায়দুর রহমান শাহীন, পৌর কাউন্সিলর ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম রয়েল, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আব্দুল মমিন সরকার, বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রভাষক আব্দুল হাফিজ হাপ্পু, উপজেলা যুব লীগের যুগ্ম-আহবায়ক আসাদুল ইসলাম আসাদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শরিফুল ইসলাম টিটো, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিফাত সরকারসহ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here