ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড; বিল পাস সংসদে

0
45
ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড; বিল পাস সংসদে
ছবিঃ সংগৃহীত

খবর৭১ঃ ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদেনারী শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল২০২০পাস হয়েছে আজ মঙ্গলবার মহিলা শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেসা সংসদীয় কমিটির সুপারিশ আকারে বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে পাস হয় বিলে বলা হয়েছে, ‘যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডেশব্দগুলোর পরিবর্তেমৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডেশব্দগুলো প্রতিস্থাপিত হবে

স্পিকার . শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিলটি পাসের সময় জনমত যাচাই বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়ে বিএনপির মো. হারুনুর রশিদ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং জাতীয় পার্টির মো. ফখরুল ইমাম শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, শুধু কঠোর আইন করলেই ধর্ষণ বন্ধ হবে না, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একইসঙ্গে আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। তারা বলেন, আইনটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে ইতিমধ্যে কার্যকর হলেও ধর্ষণ নারী নির্যাতন এখনো বন্ধ হয়নি

বিলের উদ্দেশ্য কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে সংসদে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারী শিশু ধর্ষণ একটি জঘন্য অপরাধ নারী শিশু নির্যাতনমূলক অপরাধসমূহ কঠোরভাবে দমনের উদ্দেশ্যে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন২০০০ প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু বিদামান আর্থসামাজিক সাংস্কৃতিক উন্নয়নের মধ্যে দেশে নারী শিশু ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটন সামাজিক গতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব সার্বিক সামাজিক উন্নয়নের ধারাকে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। তাই এমন অপরাধ দমনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এমতাবস্থায় আইনে সর্বোচ্চ দণ্ডের বিধান যুক্ত করতে এই বিলটি আনা হয়েছে

বিলটি পাসের আগে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি আলোচিত ধর্ষণ নারী নির্যাতনের ঘটনায় দেশজুড়ে ধর্ষণনির্যাতন বিরোধী আন্দোলন গড়ে ওঠে। আন্দোলনকারীরা ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবি জানান। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার আইনটি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। গত ১৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি সংশোধিত নারী শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করেন। এরআগে ১২ অক্টোবর অধ্যাদেশটি মন্ত্রীসভায় অনুমোদন হয়। আর বিলটি সংসদে উত্থাপিত হয় গত নভেম্বর

বিলটি পরীক্ষানিরীক্ষার পর মহিলা শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধীতেধর্ষিতাশব্দটির বদলেধর্ষণের শিকারশব্দ বসানোর সুপারিশ করে। গতকাল সোমবার সংসদে সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে ধর্ষিতা শব্দটি লিঙ্গ বৈষম্যের পরিচায়ক বলে বিভিন্ন সময় মত আসার প্রেক্ষাপটে মূল আইনের () ধারাসহ কয়েক জায়গায়ধর্ষিতাশব্দটি বাদ দিয়েধর্ষণের শিকারশব্দটি বসানোর সুপারিশ করা হয়

২০০০ সালের নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনের () উপধারায় বলা হয়, যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন। সংশোধিত আইনের খসড়ায় () উপধারায়যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডশব্দগুলোমৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডশব্দগুলো দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আইনের () () উপধারায় ছিলযদি কোনো ব্যক্তি কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করিয়া মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন। এই উপধারা সংশোধন করে খসড়ায়যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডএর পরিবর্তেমৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডশব্দগুলো যোগ করা হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ধর্ষণ ছাড়া সাধারণ জখমের ক্ষেত্রে অপরাধ আপসযোগ্য হবে। এছাড়া আগের আইনে ১৯৭৪ সালের শিশু আইনের রেফারেন্স ছিল। এখন সেখানে হবেশিশু আইন২০১৩

২০০০ সালের আইনের ৩২ ধারায় বলা ছিল, ‘এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের শিকার ব্যক্তির সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করিয় মেডিকেল পরীক্ষা সরকারি হাসপাতালে কিংবা সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে স্বীকৃত কোন বেসরকারি হাসপাতালে সম্পন্ন করা যাইবে

বিলে অপরাধের শিকার ব্যক্তির পাশাপাশিঅপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরমেডিক্যাল পরীক্ষা করার বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। ছাড়া ৩২ ধারার সঙ্গে ৩২() শিরোনামে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে বিলে। সেখানে বলা হয়, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির ধারা ৩২ এর অধীন মেডিক্যাল পরীক্ষা ছাড়াও, উক্ত ব্যক্তির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, ২০১৪ সালের ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইনের বিধান অনুযায়ী তার ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here