সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভার উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অনেকে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন এমপি আবু জাহির

0
56
সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভার উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অনেকে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন এমপি আবু জাহির

মঈনুল হাসান রতন হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেছেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মো. আবু জাহির এমপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ বাসভবনে সংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এ দাবি করেন। এমপি আবু জাহির বলেন- হবিগঞ্জ জেলার আপামর জনগনের বহুল প্রত্যাশিত হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য বিগত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাশ হয়েছে। আইনটির ৩ দফা ও ১নং উপ দফায় বলা হয়েছে ‘এই আইনের বিধান অনুযায়ী হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (HABIGANJ AGRICULTURAL UNIVERSITY)নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হইবে।

তিনি বলেন- আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন ২০০৮ইং সালে, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে পরপর তিনবার হবিগঞ্জ-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ দিয়েছেন। পরপর তিনটি নির্বাচনে আমার এলাকার জনগণ বিপুল ভোটে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। এরপর থেকেই আমার নির্বাচনী এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। যার ফলশ্রুতিতে আমার নির্বাচনী এলাকায় বিদ্যমান বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন নতুন কলেজ ও হাইস্কুল প্রতিষ্ঠাসহ অবকাঠামো নির্মাণ করে দেই। এছাড়াও গ্রামীণ রাস্তাঘাট নির্মাণ, ঘরে ঘরে শতভাগ বিদ্যুৎ এবং স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছি। যার ফলশ্রুতিতে হবিগঞ্জের ব্যবসা বাণিজ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ও গতির সঞ্চার হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার ছাত্র ছাত্রীর পদচারনায় জেলা সদর মুখরিত হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন- আমি দ্বিতীয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর জেলা আওয়ামীলীগের নেত্রীবৃন্দকে নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হবিগঞ্জে আমন্ত্রন জানানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করি। আওয়ামীলীগের পক্ষে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হবিগঞ্জ জেলায় আমন্ত্রন জানালে তিনি তা সাদরে গ্রহন করেন। বিগত ২৯ নভেম্বর ২০১৪ইং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হবিগঞ্জে আসেন। ওইদিন বিকালে স্থানীয় নিউ ফিল্ডে জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে হবিগঞ্জের ইতিহাসে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসভা আয়োজন করা হয়। সেখানে হবিগঞ্জের উন্নয়নের জন্য চারটি দাবী প্রস্তাব করার জন্য প্রস্তুত করি। দাবীগুলো হচ্ছে ১। হবিগঞ্জে একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন ২। শায়েস্তাগঞ্জকে উপজেলায় উন্নীত করন ৩। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ৪। বাল্লা স্থল বন্দর স্থাপন।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে আমার পেশকৃত দাবীগুলির প্রতি একমত পোষন করে তা বাস্তবায়নে লাখো জনতার সমাবেশে প্রতিশ্রুতি দেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি আদায়ের পর তা বাস্তবায়নের জন্য মাঠে নামী। মাসে মাসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে আমি সার্বক্ষনিক যোগাযোগ স্থাপন করি। এর ফলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে ৩১তম শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ, হবিগঞ্জ অনুমোদন দেয়। বিগত ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারী ৫০ জন ছাত্র ছাত্রী নিয়ে হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল ভবনে শুরু হয়েছে। অপর দিকে উক্ত কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত স্থানের সম্ভাব্যতা যাচাই কাজ চলছে। এদিকে বিগত ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এক আদেশে শায়েস্তাগঞ্জ থানাকে উপজেলায় উন্নীত করে। বর্তমানে ঐ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চুনারুঘাট উপজেলায় বাল্লা স্থলবন্দরের কাজও চলমান।আপনারা জেনে খুশি হবেন, সারা বাংলাদেশে এতদিন মাত্র ছয়টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল এখন থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা মহান জাতীয় সংসদে বিলটি পাস করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সপ্তম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নামে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে যাচ্ছি। আশা করছি অচিরেই হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগসহ অন্যান্য কাজ শুরু হবে।এমবি আবু জাহির বলেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত ২০১৪ইং সালের ২৯ নভেম্বর জেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত জনসভায় যে চারটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার সবকটি তিনি পুরন করেছেন। বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের মধ্যে হবিগঞ্জ জেলায় ব্যাপক উন্নয়ন দেখে আজ অনেকেই ইর্ষান্বিত।

আমরা লক্ষ্য করছি হবিগঞ্জ জেলার বিশেষ করে আমার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। আশা করি হবিগঞ্জের আপামর জনগনের সামনে দৃশ্যমান উন্নয়ন নিয়ে কেউ বিভ্রান্তি ছড়াতে পারবে না। যে কোন বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের জবাব দিবে জনগণই। সমাজের অগ্রসর শ্রেণি হিসাবে আপনাদের কলম উন্নয়ন বিরোধী যে কোন অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে বলে আশা করি।এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রবীণ আওয়ামীলীগের নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরীসহ আ’লীগ নেতৃবৃন্দ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here