বিয়ের দুই মাস পর নববধূ আত্মহত্যা

0
37
বিয়ের দুই মাস পর নববধূ আত্মহত্যা

মঈনুল হাসান রতন হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় অভিমানে ঘরের সিলিং-এ ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন নববধূ। শুক্রবার রাতে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দরগা গেইট এলাকার তাজপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।জানা গেছে, নিহত নববধূর নাম সীমা আক্তার। সে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আউশপাড়া গ্রামের আব্দুস শহীদের মেয়ে। অপরদিকে বর একই উপজেলার ভাদৈ গ্রামের সাইফুল আলম। বিয়ের পর সংসার সাজানোর আগে সীমার ইচ্ছা ছিল মাস্টার্স শেষ করার। কিন্তু তার স্বামী সাইফুল আলম এতে রাজি হননি। তাই অভিমানে ঘরের সিলিং-এ ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন সীমা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাইফুল তাজপুর গ্রামে নানাবাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন। শুক্রবার রাতে ঘরের দরজা বন্ধ এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে মাধবুপর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বাথরুমের দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে এবং সীমার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে সাইফুল পলাতক রয়েছে। ঘটনার কিছুক্ষণ পর হবিগঞ্জ থেকে সাইফুল আলমের দুই বোন ওই বাড়িতে আসলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাদেরকে আটক করে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তবে সীমা আক্তারের বাবা আব্দুস শহীদের অভিযোগ, বিয়ের সময় সাইফুলকে মোটরসাইকেলসহ প্রচুর জিনিসপত্র দিলেও তিনি সীমাকে প্রায়ই যৌতুকের জন্য নির্যাতন করতেন। যৌতুক না পেয়ে সীমাকে হত্যা করে তার লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানো হচ্ছে বলে দাবি তার। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করবেন বলে জানান তিনি।

মাধবপুর থানার ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা। হত্যা করা হলে লাশের গায়ে চিহ্ণ পাওয়া যেত এবং ঘরের ভিতর দিয়ে দরজা বন্ধ থাকার কথা নয়। মূলত সীমা মাস্টার্স পড়তে চাইলে স্বামীর সম্মতি না পেয়ে অভিমান থেকে এই আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here