শীতে কাঁপছে দেশ জনজীবন বিপর্যস্ত

0
54
দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শৈত্য প্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে

খবর৭১ঃ
মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অব্যাহত আছে। উত্তর জনপদের পাশাপাশি গোটা দক্ষিণ এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

ওইসব এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতে দারুণ কষ্টে আছে বস্ত্রহীন মানুষ। ডায়রিয়া, সর্দি-কাশিসহ শীতজনিত নানা রোগ দেখা দিয়েছে। বেশি সমস্যায় বয়স্ক ও শিশুরা। হাসপাতালগুলোয় এসব রোগীর সংখ্যাই বেশি।

আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, রংপুর বিভাগ এবং গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, ফেনী, পাবনা, নওগাঁর বদলগাছি, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ভোলা ও বরিশালে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

সাধারণত ব্যারোমিটারের পারদ ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়, ৬-৮ ডিগ্রির মধ্যে নেমে এলে মাঝারি ও ৪-৬ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়।

রোববার রাতে সংস্থার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। শনিবার রাজারহাটে ছিল ৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর তেঁতুলিয়ায় ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিন শ্রীমঙ্গলেও তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রিতে নেমে যায়। ঢাকায় এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আগের দিন ছিল ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ অঞ্চলের অধিকাংশ জায়গায় তাপমাত্রা ১১ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে বিরাজ করছে। এসব এলাকায় সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পার্থক্যও কম।

সাধারণত উভয় পর্যায়ের তাপমাত্রার পার্থক্য যত কম থাকে শীতের অনুভূতি তত বেশি থাকে। কেননা, এ ধরনের পরিস্থিতিতে দিনের বেলায় সূর্য ততটা উত্তপ্ত করতে পারে না সংশ্লিষ্ট এলাকা। মেঘের উপস্থিতিতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

তখন সেখানে শীতের প্রকোপ বেড়ে যায়। তবে মেঘ কেটে গেলে সূর্যকিরণ পৌঁছে ভূপৃষ্ঠে। তখন কমে শীতের তীব্রতা। বিরাজমান শীত পরিস্থিতি আরও দু’দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

এবার শুক্রবার শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। ওইদিন তেঁতুলিয়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

হবিগঞ্জের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন জানান, শীতের প্রকোপ তাদের এলাকায়ও কম নয়। শ্রীমঙ্গলে আবহাওয়া অধিদফতরের তাপ পরিমাপক স্টেশন আছে। যে কারণে সেখানকার শীতের তথ্য জানা যাচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, শীতকালে তাপমাত্রা নেমে যাবে এবং শীত অনুভূত হবে-সেটাই স্বাভাবিক।

তাছাড়া এখন পৌষ মাস চলছে। বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার সময় এটা। তিনি বলেন, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকার পশ্চিমাংশে অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

পরিস্থিতির উন্নতি হলে শীতও কমে যেতে পারে। তবে মধ্যমৌসুমে ফের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকতে পারে। যানবাহন চলাচলে সাবধানতা অবলম্বন না করলে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামে বইছে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া। বিকাল থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত কাহিল হয়ে পড়ছে মানুষ।

গত দু’দিন ধরে দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে কুড়িগ্রামে। ফলে শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী লোকজন রয়েছে চরম বিপাকে। কনকনে ঠাণ্ডায় বিপাকে পড়েছে ছিন্নমূল মানুষ।

কৃষি শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের সঙ্গে যুক্ত শ্রমজীবীরা ঠাণ্ডা আর ঘন কুয়াশার মধ্যেও কাজে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। নদীভাঙনের শিকার রিকশাচালক ইব্রাহিম আলী বর্তমানে কুড়িগ্রাম রেল স্টেশনে খোলা জায়গায় প্লাস্টিকের বস্তা টানিয়ে ঝুপড়ি ঘরে সন্তানদের নিয়ে থাকছেন। আক্ষেপ করে তিনি জানালেন, ‘হামাকগুলাক কাঁইয়ো দেখে না।

মেম্বর-চেয়ারম্যানরা খোঁজখবর নেয় না। সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রহিম আহমেদ রিপন জানান, কুড়িগ্রামে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

সরকারিভাবে যেসব শীতবস্ত্র দেয়া হয়, সেটিও অপ্রতুল। কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক সুবল চন্দ্র সরকার জানান, চলতি মাসে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

এদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুল হাই সরকার জানান, জেলার জন্য বরাদ্দ ৩৫ হাজার পিস কম্বল ৯ উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মন্ত্রণালয় থেকে ৬ লাখ করে ৯টি উপজেলায় ৫৪ লাখ টাকা শীতবস্ত্র ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। শুকনা খাবার বরাদ্দ মজুদ রয়েছে ৯ হাজার প্যাকেট এবং হতদরিদ্রের জন্য আরও এক লাখ কম্বল বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

শেরপুর প্রতিনিধি জানান, শেরপুরের জনপথ ভোরে এবং রাতে কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে। বইছে হিমেল হাওয়া।

শীতজনিত রোগে ছুটছেন হাসপাতালে। শীতের পুরনো কাপড়ের দোকানে বেচাকেনা বেড়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here