সামাজিক মাধ্যমের ছবি নিয়ে তৈরি হচ্ছে ভুয়া পর্ন

0
73
সামাজিক মাধ্যমের ছবি নিয়ে তৈরি হচ্ছে ভুয়া পর্ন

খবর৭১ঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সারা বিশ্ব থেকে এক লক্ষেরও বেশি নারীর ছবি সংগ্রহ করে সেগুলো দিয়ে ভুয়া নগ্ন ছবি তৈরি করা হচ্ছে এবং অনলাইনে তা শেয়ার করা হচ্ছে বলে এক রিপোর্টে জানা যাচ্ছে। এসব ছবির ফলে অনেকের জীবনে অমানিশা নেমে আসছে।

ইন্টেলিজেন্স কোম্পানি সেনসিটির তৈরি এই রিপোর্টটি আরো জানাচ্ছে যে এসব বিবস্ত্র নারীর অনেকেই অল্পবয়সী।কিন্তু যারা এসব করছে তারা প্রায়ই একে শুধুমাত্র ‘বিনোদন’ হিসেবে বর্ণনা করে থাকে। এধরনের একটি সফটওয়্যার পরীক্ষা করে ফলাফল আশানুরূপ পায়নি বিবিসি।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, অনলাইন থেকে নারীদের ছবি সংগ্রহ করে প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদেরকে নগ্ন করা হয়। সেনসিটি দাবি করছে, প্রযুক্তি ব্যবহার করে নারীদের নগ্ন বানানোর কাজ চলছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রায়ই সেলেব্রিটিদের নিয়ে ভুয়া পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ক্লিপ তৈরি করা হয়।

সেনসিটির প্রধান নির্বাহী জর্জিও পাত্রিনি বলছেন, সেলেব্রিটিদের ছেড়ে সামাজিক মাধ্যম থেকে সাধারণ মানুষের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও কিংবা ছবি তৈরির সংখ্যা এখন বাড়ছে।

বিবিসি কয়েকজনের অনুমতি নিয়ে তাদের ছবির ওপর পরীক্ষা চালিয়েছে। কিন্তু কোন পরীক্ষার ছবিই বাস্তবসম্মত দেখায়নি।

তবে এমন প্রযুক্তির এক ব্যবহারকারী বিবিসিকে বলেছেন, ‘এটা হচ্ছে শুধুই বিনোদন এবং এতে কারও কোন ক্ষতি করা হচ্ছে না। এটা দিয়ে কেউ কাউকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারবে না। কারণ এসব ছবির মান বাস্তবসম্মত না।’

সেনসিটি তার রিপোর্টে বলছে, ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের একই মাস পর্যন্ত প্রায় ১,০৪,৮৫২ নারীর ছবির অপব্যবহার করা হয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে একটি বইয়ের লেখক নিনা শিক বিবিসিকে বলেন, ‘আমাদের বর্তমান আইন ব্যবস্থা এই সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের ফলে আমাদের সমাজ ব্যবস্থাও এত দ্রুত বদলে যাচ্ছে যে কল্পনা করা যায় না। এসব প্রযুক্তিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে আমাদের সমাজ সে সম্পর্কে এখনও মনস্থির করে উঠতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘এসব ভুয়া পর্নের যারা শিকার হয়েছেন, তাদের জীবনের ওপর এর প্রভাব একেবারেই বিধ্বংসী। তারা এতটাই অমর্যাদা আর অসম্মানের মুখোমুখি হন যে তাদের জীবন একেবারে ওলটপালট হয়ে যায়।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here