বাকি টাকা দিতে গ্রিনলাইনকে ২২ মে পর্যন্ত সময় দিলেন হাইকোর্ট

0
38

খবর ৭১: রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ফ্লাইওভারের ওপর গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসচাপায় পা হারানো প্রাইভেটকারচালক রাসেল সরকারকে বাকি ৪৫ লাখ টাকা দিতে (অন্তত আংশিক) ২২ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

গ্রিনলাইন পরিবহনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১৫ মে) বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সময় দেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খোন্দকার শামসুল হক রেজা ও আইনজীবী উম্মে কুলসুম স্মৃতি। গ্রিনলাইনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অজি উল্লাহ।

১০ এপ্রিল রাসেল সরকারকে পাঁচ লাখ টাকার চেক দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে বাকি ৪৫ লাখ টাকা দিতে গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষ এক মাস সময় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

বুধবার গ্রিনলাইনের পক্ষে আবার সময় আবেদন করা হয়। এসময় আদালত গ্রিনলাইনের আইনজীবী অজি উল্লাহকে উদ্দেশ্য করে বলেন, টাকা দিয়েছেন? জবাবে অজি উল্লাহ বলেন, চিকিৎসার জন্য খরচ দিচ্ছি। আদালত বলেন, বাকি টাকা (৪৫ লাখ) দিয়েছেন? কথা ছিল একমাসের মধ্যে বাকি টাকা দেবেন। টাকা তো দেননি। আর চিকিৎসার খরচ তো আলাদা ডাইরেকশন ছিল। সব চিকিৎসা খরচ দেবেন। টাকা দেননি কেন?

এসময় অজি উল্লাহ বলেন, টাইম চেয়েছি। আদালত বলেন, একবার চাইলেন, সময় তো দিলাম। চার আনা পয়সাও পে না করে সময় চাইলেন। আপনাদের (গ্রিনলাইন) কি ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে? আমরা কি রিসিভার নিয়োগ দিয়ে দেবো? একেবারে খালি হাতে চলে আসলেন। এটা কি করে হয়! সামনে কোর্টের অবকাশ (ভ্যাকেশন) আছে। তার আগে আদেশ পালন (কমপ্লাই) করেন। ২২ মে তারিখ রাখলাম। চিকিৎসার খরচতো দিবেনই, যদি পার্ট হয় (আংশিক) তাও দেন।

আদেশের পরে শামসুল হক রেজা বলেন, তারা একটা হলফনামা দিয়ে বলেছে তাদের মালিক অসুস্থ। সে জন্য সময় দরকার। সে প্রেক্ষাপটে আমাদের বক্তব্য ছিল যেহেতু ওনাদের ব্যবসা বাণিজ্য চলছে…অতএব যে কোনো লোকের মাধ্যমে বা ম্যানেজারের মাধ্যমে চেক বা টাকা দিতে পারে। ওদের আইনজীবী সময় চেয়েছেন। এরপর আদালত ২২ তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। ওই তারিখের মধ্যে বাকি টাকা পরিশোধ করবেন।

সময় কেন চেয়েছেন এ প্রশ্নের জবাবে শামসুল হক রেজা বলেন, বলেছেন ওনাদের মালিক বৃদ্ধ অসুস্থ।

পুরো টাকা নাকি অংশ বিশেষ দিতে বলেছেন আদালত এ প্রশ্নের জবাবে শামসুল হক রেজা বলেন, আদালত বলছে যে পুরো টাকারই আদেশ তারপরেও পার্টলি দিলে আমরা (আদালত) বিবেচনায় নেবো।

গতবছরের ২৮ এপ্রিল মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে কথা কাটাকাটির জেরে গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসচালক ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাইভেটকার চালকের ওপর দিয়েই বাস চালিয়ে দেন। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারের (২৩) বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এ ঘটনায় হাইকোর্টে রিট আবেদনটি দায়ের করেন সংরক্ষিত আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতি। এ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ১৪ মে রাসেলকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।

সম্প্রতি রাসেলের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত বাস কর্তৃপক্ষ তার কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি। পরে গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার আদেশের পাশাপাশি রাসেলের অন্য পায়ে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে এবং কাটাপড়া বাম পায়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃত্রিম পা লাগানোর খরচও গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে দিতে বলা হয়েছিল। এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গিয়ে ৩১ মার্চ বিফল হয় গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষ।

এদিকে হাইকোর্ট বিভাগ ৩ এপ্রিলের মধ্যে টাকা পরিশোধ করে ৪ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে টাকা না দেওয়ায় ৪ এপ্রিল কোম্পানির ম্যানেজারকে দুপুর ২টার মধ্যে হাইকোর্টে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার হাজির হয়ে গ্রিনলাইনের মালিক দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য রয়েছেন বলে আদালতকে অবহিত করেন। একইসঙ্গে মালিক ৯ এপ্রিল ফিরবেন বলে জানান। এরপর আদালত তাদের আদেশ বাস্তবায়ন করে ১০ এপ্রিল (বুধবার) প্রতিবেদন দিতে বলেন।

১০ এপ্রিল মালিক হাজির হন। ওইদিন ওদের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, একমাস সময় চাচ্ছেন সময় দিচ্ছি। এই এক মাসের মধ্যে টাকা দিয়ে দেবেন। এরপরে আর কোনো কথা নেই। এই এক মাসের মধ্যে বাকি ৪৫ লাখ টাকা দিয়ে দেবেন, এক। দুই নম্বর হলো, ওকে (রাসেল সরকার) ট্রিটমেন্টের জন্য ইমিডিয়েটলি যেখানে ভর্তি করা প্রয়োজন সেখানে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here