আগস্টে ৪৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫১৯ জন

0
19

খবর ৭১: সদ্য বিদায়ী আগস্ট মাসে দেশে ৪৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৫১৯ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় (১৭২ জন)। নিহতদের মধ্যে ৬৪ জন নারী এবং ৬৯টি শিশু রয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন নামে একটি বেসরকারি সংস্থার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ওই প্রতিবেদনটি সংবাদ মাধ্যমে পাঠায় সংস্থাটি।

৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্টে ১১টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত এবং ৬ জন নিখোঁজ হয়েছেন। আর রেল পথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৭২ জন, বাসযাত্রী ২১ জন, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রলি-লরি আরোহী ৪৫ জন, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-জিপ যাত্রী ২৯ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা-হিউম্যান হলার) ১০১ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-টমটম-ইটভাঙ্গার মেশিন গাড়ি) ২৩ জন এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-প্যাডেল ভ্যান আরোহী ১৯ জন নিহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৮৭টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৫২টি আঞ্চলিক সড়কে, ৭৯টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৩১টি শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ৯টি সংঘটিত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে ৭২টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২১১টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১১৩টি পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেওয়া, ৪৬টি যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১৬টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

ফাউন্ডেশনটি দেশে সড়ক দুর্ঘটনার ১০টি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছে। এগুলো হলো- ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; বেপরোয়া গতি; চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল; তরুণ ও যুবাদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

দুর্ঘটনা কমাতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন সরকারের কাছে ১০ দফা সুপারিশ জানিয়েছে।

সেগুলো হলো- দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বাড়ানো; চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা; বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করা; পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করা; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্ব রাস্তা (সার্ভিস রোড) তৈরি করা; পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করা; গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করা; রেল ও নৌ-পথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের ওপর চাপ কমানো; টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here