বাংলাদেশের মতো নির্বাচনের আগে জর্জিয়ায় মার্কিন ভিসানীতি ঘোষণা

0
21

বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে ঘোষিত ভিসানীতির মতো জর্জিয়ার জন্যও অনেকটা একই ধাঁচের বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী অক্টোবরে জর্জিয়ায় জাতীয় নির্বাচন। এর আগেই দেশটিতে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার জন্য দায়ী বা জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভিসানীতি ঘোষণা করলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের ঘোষণায় বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে ক্ষমতাসীন জর্জিয়ান ড্রিম পার্টি একটি ‘বিদেশি প্রভাব’ আইন তৈরি এবং পাস করেছে। এই আইন সংগঠন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার অনুশীলনকে দমন করবে। সেই সঙ্গে জর্জিয়ার নাগরিকদের সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে কলঙ্কিত এবং জর্জিয়ানদের উচ্চমানের তথ্য পাওয়ার মাধ্যমকে বাধাগ্রস্ত করবে।

এতে বলা হয়েছে, জর্জিয়ার নাগরিকরা যখন এই আইনের বিরোধিতা করেছে, তখন আমরা ভয় দেখানোর প্রচারণা ও ভিন্নমত দমনের জন্য সহিংসতা ব্যবহারের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেখেছি। ‘জাতীয় সুরক্ষা আইন’ এবং বৈধ ভিন্নমত দমন করার জন্য ব্যবহৃত দমনমূলক কৌশল – উভয়ই জর্জিয়ার গণতন্ত্র ও জনগণের মৌলিক স্বাধীনতার বিরোধী। এই আইন জর্জিয়ার দীর্ঘ-ঘোষিত লক্ষ্যের বিপরীতে, যা এর সংবিধানে প্রতিফলিত ইউরো-আটলান্টিক সংহতকরণ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিপরীতে।

এতে আরও বলা হয়েছে, জর্জিয়ার নতুন আইনের প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া হিসাবে স্টেট ডিপার্টমেন্ট দেশটির জন্য একটি নতুন ভিসা সীমাবদ্ধতা নীতি বাস্তবায়ন করছে। জর্জিয়ার গণতন্ত্রকে ক্ষুণ্ণ করার জন্য দায়ী বা জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে সহিংসতা বা ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নাগরিক সমাজ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা দমনের জন্য দায়ী ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

জর্জিয়ান সরকারকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেউ ক্ষুণ্ণ করলে অক্টোবরের নির্বাচন চলাকালীন এবং তার পরেও এই নীতির অধীনে বিধিনিষেধ দেওয়া হবে। যে কেউ ভিসার জন্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে। এ জাতীয় ব্যক্তিদের নিকটতম পরিবারের সদস্যরাও এই বিধিনিষেধের আওতায় আসতে পারেন।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট আরও বলছে, আমাদের আশা – জর্জিয়ার নেতারা খসড়া আইনটি পুনর্বিবেচনা করবেন এবং তাদের জাতির গণতান্ত্রিক ও ইউরো-আটলান্টিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপ নেবেন। আমরা যখন আমাদের দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক পর্যালোচনা করবো, তখন আমরা আমাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জর্জিয়ার পদক্ষেপগুলো বিবেচনায় নেব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here