কলাপাড়ায় সাড়ে তিন কোটি টাকার ব্রীজ পার হতে হয় কাঠের মই দিয়ে

0
24

রাকিব হাসান পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ব্রীজ নির্মাণের কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে চলাচলের সুফল ভোগ করতে পারছে না এলাকাবাসী। এ উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব ও পশ্চিম মিঠাগঞ্জ সংযোগ ব্রীজের সড়কের কাজে অবহেলার অভিযোগ। মূল ব্রীজের কাজ শেষ হলেও দু-পাশের সংযোগ সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এতে বিপাকে পড়েছে বিদ্যালয় পড়–য়া শিক্ষার্থীসহ ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। পাশে কাঠের একটি সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে তাদের। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কয়েক দফায় আসলেও মিলছে না সঠিক সমাধান।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব মিঠাগঞ্জ ও পশ্চিম মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের সংযোগ ব্রিজটির কাজ চার বছর আগে শুরু হয়। ব্রীজ নির্মাণের জন্য নির্ধারিত সময়ও প্রায় শেষের পথে। অথচ মূল ব্রীজের কাজ শেষ হলেও অবহেলায় আটকে রয়েছে ব্রীজের সংযোগ সড়কের কাজ। ফলে চলাচলের সুবিধা ভোগ করতে পারছে না জনসাধারন। এদিকে নতুন ব্রীজের কাজ শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই পুরাতন ব্রীজটি ভেঙ্গে যায়। এতে কয়েকজন গুরুত্বর আহতসহ একজন পথচারীর প্রাণহানীর ঘটনাও ঘটে। সেই থেকে ওই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ চরম দূর্ভোগের মাধ্যমে যাতায়ত করে আসছে। পাশেই একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ সরকারী-বেসরকারী একাধীক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা রয়েছে। এসকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও রয়েছে চরম বিপাকে। জনগনের দূর্ভোগ লাগবে স্থানীয় চেয়ারম্যান তার নিজস্ব অর্থায়নে কাঠের একটি সাঁকো তৈরী করে দেন। সেই সাঁকো দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়রা এখন পর্যন্ত চলাচল করছে। এ সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দু-একটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে সেখানে। অথচ নতুন ব্রীজের কাজ অনেকদিন আগে সমাপ্ত হলেও আটকে রয়েছে দু-পাশের সংযোগ সড়কের মাটি ভরাটের কাজ। বিষয়টি নিয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কয়েকদফা সরেজমিনে দেখে গেলেও মিলছে না কোন সমাধান। ফলে স্থানীয়রা চরম হতাশার মধ্যে রয়েছে। ব্রীজের সংযোগ সড়কের কাজটি দ্রæত শেষ করার জন্য বিভিন্ন দফতরে ঘুরছে তারা।
স্থানীয় মো. আবুল হাসেম, আব্দুর রব হাওলাদার ও মটরসাইকেল চালক শহিদুল ইসলামসহ অনেকেই বলেন, ব্রীজের কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের মাটি ভরাটের কাজ অসমাপ্ত থাকায় ব্রীজটি দিয়ে কেহ চলাচল করতে পারছে না। পাশে কাঠের একটি সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সকলকে চলাচল করতে হচ্ছে। অথচ সংযোগ সড়কের মাটি ভরাটের কাজটি শেষ করলে আমরা এ ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতাম।

এ বিষয়ে মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী হেমায়েত উদ্দিন হিরন জানান, মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের যোগাযোগের প্রধান সংযোগ ব্রিজটি এমন দশা হওয়ায় প্রায় দশ হাজার মানুষেরদুর্ভোগ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দের দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়ক করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

এবিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিআরডি) কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ বলেন, বিষয়টি নিয়ে পটুয়াখালী এক্সেন স্যারের সাথে কথা হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রত এটির সমাধান হয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here