প্রথম ইনিংসে ৩৯৭ রানে থামলো শ্রীলঙ্কা

0
63

খবর৭১ঃ বাংলাদেশের মাটিতে অন্যরকম এক ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ। প্রথম ব্যাটার হিসেবে বাংলাদেশে ১৯৯ রানে আউট হলেন লঙ্কান অভিজ্ঞ ব্যাটার। সবমিলিয়ে বিশ্বের ১২তম ব্যাটার হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান আগে আউট হলেন তিনি।

১৯৯ থেকে ডাবল সেঞ্চুরির জন্য বড় শট খেলতে গিয়েছিলেন ম্যাথিউজ। কিন্তু নাইম হাসানের সেই ডেলিভারি তার ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে চলে যায় সাকিব আল হাসানের হাতে। ফলে ১৯৯ রানে থামতে হয় ম্যাথিউজকে।

নয় ঘণ্টা ৩৮ মিনিটের ম্যারাথন ইনিংসে ৩৯৭ বল খেলে ১৯ চার ও ১ ছয়ের মারে এ ইনিংস সাজিয়েছেন ম্যাথিউজ। তার ব্যাটে ভর করে অলআউট হওয়ার আগে ৩৯৭ রান করেছে শ্রীলঙ্কা। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন নাইম।

ম্যাথিউজের আগে ১৯৯ রানে আউট হওয়া অন্য ১১ জন হলেন মুদাসসর নজর, মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন, ম্যাথু এলিয়ট, সনাত জয়াসুরিয়া, স্টিভ ওয়াহ, ইউনিস খান, ইয়ান বেল, স্টিভ স্মিথ, লোকেশ রাহুল, ডিন এলগার ও ফাফ ডু প্লেসি। এছাড়া ১৯৯ রানে অপরাজিত থাকেন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার ও কুমার সাঙ্গাকারা।

আজ দিনের প্রথম সেশনের শেষ ভাগ ও দ্বিতীয় সেশনের শুরুর ভাগে মাত্র ২০ বলের মধ্যে ৪ উইকেট নিয়ে লঙ্কানদের দ্রুত অলআউটের যে সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন নাইম হাসান ও সাকিব আল হাসান, সেটি পুরোপুরি উবে গেছে বিশ্ব ফার্নান্দো ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজের নবম উইকেট জুটিতে। তবু সাকিবের বলে এসেছিল সুযোগ। কিন্তু মিড অনে সেটি ফেলে দেন মুশফিক। অথচ দ্বিতীয় সেশনের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। মধ্যাহ্ন বিরতির পর নেমে সাকিব প্রথম ওভারেই তুলে নেন জোড়া উইকেট। খাটো লেন্থের বলে পুল করতে গিয়ে বোল্ড হন রমেশ মেন্ডিস।

ঠিক পরের বলে লাসিথ এম্বুলদেনিয়া ফিরে গেলে ৮ উইকেটে ৩২৮ রানের দলে পরিণত হয় লঙ্কানরা। দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগালেও তা করতে পারেননি সাকিব। এরপর সেশনের বাকি সময়ে আর উইকেটের দেখা পায়নি বাংলাদেশ।

উইকেটের আশায় চায়নাম্যানের মতোও কয়েকটি ডেলিভারি করেন সাকিব। কিন্তু মেলেনি সফলতা। টুকটুক করে ধীরেসুস্থে দলীয় সংগ্রহ এগিয়ে নিতে থাকেন বিশ্ব ও ম্যাথিউজ। লেজের সারির ব্যাটার বিশ্বকে ফাঁদে ফেলার জন্য বারবার শর্ট বল করেও সফল হননি দুই পেসার শরিফুল ইসলাম ও খালেদ আহমেদ।

সেশন শেষ হওয়ার ঠিক আগে দিয়ে খানিক অধৈর্য্যই হয়ে যান বিশ্ব। বড় শট খেলতে গিয়ে টাইমিংয়ের গড়বড়ে ক্যাচ তুলে দেন মিড অনে। কিন্তু হাতের লোপ্পা ক্যাচটিও হাতে রাখতে পারেননি মুশফিক। ফলে বেঁচে যান বিশ্ব। বিরতির আগপর্যন্ত ৭৭ বল খেলে ১৭ রান করেন বিশ্ব।

কিন্তু বিরতির ঠিক আগে শরিফুল ইসলামের বাউন্সারে মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণে শেষ সেশনের শুরুতে ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি বিশ্ব। তার জায়গায় নামেন আসিথা ফার্নান্দো। লঙ্কানদের ১১ নম্বর ব্যাটারকে সরাসরি বোল্ড করে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফাইফার তুলে নেন নাইম।

অন্যদিকে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টেস্ট ইনিংস খেলতে থাকা ম্যাথিউজ এগোতে থাকেন ডাবল সেঞ্চুরির দিকে। ইনিংসের ১৫৩তম ওভারের পঞ্চম বলে ২ রান নিয়ে ১৯৯ রানে পৌঁছান ম্যাথিউজ। পরের বলে ফিল্ড সেটিংয়ে বেশ পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ।

শর্ট মিড উইকেটে থাকা সাকিবকে নেওয়া হয় স্কয়ার লেগে। মুমিনুল দাঁড়ান শর্ট মিডের ক্যাচিং পজিশনে। লং অন ও লং অফ ফিল্ডারকে আনা হয় ভেতরে। সুযোগ বুঝে উড়িয়ে মেরে ডাবল সেঞ্চুরি করতে চেয়েছিলেন ম্যাথিউজ।

কিন্তু বল তার ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে জমা পড়ে সেই বলেই স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো সাকিবের হাতে। হতাশায় নিজের মুখে ঢেকে ফেলেন ম্যাথিউজ। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেরা ইনিংস খেলা ম্যাথিউজকে অভিবাদন জানান বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। অপরপ্রান্তে বিশ্ব ১৭ রানেই অপরাজিত থেকে যান।

আগেরদিন করা ৪ উইকেটে ২৫৮ রান নিয়ে খেলতে আজকের সকালের শুরুটা দারুণ করেছিলেন দিনেশ চান্দিমাল ও ম্যাথিউজ। দুজনের জুটিতে তিনশ পেরিয়ে বড় সংগ্রহের আশাই দেখছিল শ্রীলঙ্কা। তবে একই ওভারে দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে খেলায় ফেরান নাইম হাসান।

দারুণ খেলে সেঞ্চুরির আশা জাগালেও ৬৬ রানে থেমেছেন রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়া চান্দিমাল। লেট কাট করতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন ৩ রান করা ডিকভেলা। একই ওভারে দুজনকে ফিরিয়েছেন নাইম। ম্যাথিউজও ফিরতে পারতেন দিনের চতুর্থ ওভারে।

খালেদের বলে খোঁচা দিতে গিয়ে মিস করেন তিনি। বল জমা পড়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে। কিন্তু আবেদন করেননি বোলার-ফিল্ডাররা। রিপ্লেতে দেখা যায় ব্যাটে হালকা ছোঁয়া লেগেছিল সেটি। কিন্তু আবেদন না করায় ১১৯ রানের মাথায় বেঁচে যান ম্যাথিউজ। সেখান থেকে আরও ৮০ রান করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here