ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়াই লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

0
68

স্বাধীনতার আদর্শে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়াই তার সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

রবিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের একটাই লক্ষ্যই ছিলো বাংলাদেশে আবার চেতনা ফিরিয়ে আনবো। স্বাধীনতার আদর্শে দেশকে গড়ে তুলবো। ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসাবে।

তিনি বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের যে সুযোগটা পেয়েছি। এর পূর্বে আমরা স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীও উদযাপন করার সুযোগ পেয়েছিলাম। এই জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। যারা ভোট দিয়ে নির্বাচন করে সেবার করার সুযোগ আমাকে দিয়েছে বলেই আজকে আমাদের এই সৌভাগ্য হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন ছিলো ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আমরা ২০২১ সালেই উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। দেশের কোনো মানুষ…। আজকে আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ দিয়েছি। সব ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য বিনা পয়সায় ঘর তৈরি করে দিচ্ছি। সেদিন খুব বেশি দেরি না, যেদিন দেশের একটি মানুষও ঠিকানাবিহীন, ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না। অত্যন্ত তাদের বেঁচে থাকার একটু সুযোগ আমরা করে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা।

বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র নাকি নেই। গণতন্ত্র নাকি ধ্বংস করে ফেলেছি। গণতন্ত্র নাকি ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের গণতন্ত্রের ডেফিনেশনটা কী? যাদের জন্ম জনগণের মধ্য থেকে হয়নি, জন্ম হয়েছে সেনা ছাউনিতে ক্ষমতা দখলকারী পকেট থেকে। তারা এখন আমাদের গণতন্ত্র শেখায়।

তিনি বলেন, কাদের মুখে গণতন্ত্রের ছবক শুনতে হয় সেটাই বড় কথা। যাদের জন্ম হয়েছে অগণতান্ত্রিকভাবে, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের মধ্যদিয়ে। সেই ধরনের ক্ষমতা দখলকারী অবৈধভাবে তাদের হাতে বিএনপির জন্ম। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সেনা প্রধান থেকে ক্ষমতা দখল করে রাষ্ট্রপতি হয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতা নিষ্কণ্টক করার জন্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সেনা সদস্যদের হত্যা করেছে। কত পরিবার তাদের আপনজনের লাশটিও পায়নি। হাজার হাজার সেনা সদস্যদের যারা হত্যা করেছে তাদের থেকে আজ আমাদের গণতন্ত্রের ছবক শিখতে হবে এটাই জাতির দুর্ভাগ্য।

সামরিক সরকারকে সুপ্রিম কোর্ট যে অবৈধ ঘোষণা করেছে সেটা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এটা আমার মুখের কথা নয়। উচ্চ আদালত থেকেই জিয়াউর রহমান ও এরশাদের ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা দিয়েছে। কারণ সংবিধান ও সামরিক আইন-রুলস ভঙ্গ করে নিজেদেরকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতা দখল করেছি। তারপর হ্যাঁ-না ভোট, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, দল গঠন করে পুরো রাজনীতিতে অবতরণ। প্রথমে ক্ষমতার উত্তরণ তারপর রাজনীতিতে অবতরণ। তারা আসে রাজনীতিবিদদের গালি দিয়ে পরে আবার নিজেরাই উর্দি খুলে রাজনীতিবিদ হয়ে যায়।

অনেকে দেশের উন্নয়ন দেখে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের চোখে কোনো উন্নয়নই নাকি দেশে হয়নি। তাদের যদি চোখ খারাপ থাকে আমার কিছু বলার নেই। এখন বলতে হয় আমরা তো একটি আই ইন্সস্টিটিউট করে দিয়েছি। যারা বক্তৃতা দেয় উন্নয়ন হয় না, চোখে দেখে না। আমার মনে হয় তাদের চোখ একটু পরীক্ষা করা দরকার। তাহলে হয়তো দেখতে পারে উন্নয়ন হয়েছে কী না?

পদ্মা সেতুসহ বিভিণ্ন উন্নয়নকাজের ফিরিস্ত তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি অনেকে আছে দেশে কোন উন্নতি দেখে না। তাদের যদি চোখ খারাপ থাকে আমার কিছু বলার নেই। কেন দেখে না? সেটা হচ্ছে দেখার ইচ্ছে নেই তাই দেখে না। কিন্তু উন্নয়নের কর্মসূচি সুপারিকল্পতভাবে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। ইশতেহারে যে ঘোষণা দিয়েছি- তা একে একে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

বিএনপিসহ যারা সরকারের উন্নয়ন চোখে দেখে না তাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের চোখে পড়ে না যে শতভাগ বিদ্যুৎ। ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ তো বিদ্যুৎ ছাড়া চলতে পারে না। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ তারাও নিচ্ছে। এটা উন্নতি নয়। আজকে পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র এগুলো চোখে পড়ে না। এগুলো উন্নয়নের লক্ষণ নয়। দারিদ্র হার হ্রাস পেয়েছে সেটা তাদের চোখে পড়ে না। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা তাদের চোখে উন্নয়ন নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here