ঘোড়াঘাটে চেতনা নাশক কেমিক্যালে অচেতন করে বাড়িতে চুরি: আন্তঃজেলা অজ্ঞান পার্টির ৫ সদস্য গ্রেফতার

0
32

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) থেকে মোঃ মোফাজ্জল হোসেনঃ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে আন্তঃজেলা চোর দলের নারী সদস্য সহ ৫ সদস্যকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করেছে এলাকাবাসী। এ ঘটনায় শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) ভুক্তভোগী সুজিত কুমার শুভ বাদী হয়ে ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে।

আটক চোররা হলো, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চেরাগপুর গ্রামের দারাজ উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৫), গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার পশ্চিম মির্জাপুর গ্রামের মৃত কলিম উদ্দিনের ছেলে মোজাম্মেল হক ফাটুল (৪১)।

অপর ৩ জন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার রিশিঘাট গ্রামের সাদেক আলীর ছেলে সাবু মিয়া (৩৮), মৃত মীর উদ্দিনের ছেলে তারা মিয়া (৪৮) ও ঘোড়াঘাট পৌরসভার শ্যামপুর লালমাটি এলাকার মৃত আবু বক্করের স্ত্রী চামেলী বেগম (৩৫)।

মামলার বাদী সুজিত কুমার শুভর এজাহার সুত্রে ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ২৯ ডিসেম্বর বুধবার দিবাগত রাত অনুমান ১১টায় ঘোড়াঘাট উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের কালিদাস মোহন্ত ও তার বাড়ির পরিবারের লোক জন ঘুমিয়ে পড়ে। ৩০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ভোর অনুমান ৪টার সময় সুজিত কুমার দেখতে পান তার বাবা-মায়ের ঘরের দরজা খোলা এবং ঘরে থাকা ডেসিং টেবিল সহ ওয়ারড্রপের ড্রয়ার সহ ঘরের বিভিন্ন আসবাব পত্র খোলা।
এ সব আসবাবপত্রের ভিতরে থাকা কাপড় চোপড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে এবং সেখানে থাকা ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ৫ ভরি স্বর্ণ সহ একটি মোবাইল নাই।

সুজিত কুমার সহ পরিবারের লোক জন আসে পাশে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে একটি সুত্র থেকে জানতে পারে যে,উপজেলার রিশিঘাট গ্রামের আঃ সাত্তারের পত্র মোঃ জাহিদুল ইসলামের বাড়ীতে কয়েকজন ব্যক্তি স্বর্ণ ভাগাভাগি করছে।এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে গিয়ে তাদেরকে আটক করে বাড়ীতে নিয়ে আসে তারা। চোর চক্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে, তারা চুরির কথা স্বীকার করে।

উপস্থিতি টের পেয়ে জাহিদুল ইসলাম সহ ২ জন পালিয়ে যায়। অজ্ঞান পার্টির অপর নারী সদস্য ঘোড়াঘাট পৌরসভার শ্যামপুর লালমাটি এলাকার মৃত আবু বক্করের স্ত্রী চামেলী বেগম ।
আটকদের দেখতে আসলে তাকে সন্দেহ জনক জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং তার কাছ থেকে ব্যাগে রাখা অচেতন করার কেমিক্যাল উদ্ধার করে। ওই কেমিক্যাল পরীক্ষা করার সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য সহ ৪/৫ অচেতন হয়। এ সময় ওই নারী চোর সদস্যকে আটক করে পরিবারের লোক জন। পরে আটকদের ঘোড়াঘাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান কবির বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন থেকে চুরির সাথে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি-ডাকাতি সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে।

চক্রটির নারী সদস্য প্রথমে টার্গেটকৃত বাড়ির লোকজনকে বিশেষ কেমিক্যাল প্রয়োগ করে অচেতন করে। পরে দলটির পুরুষ সদস্যরা রাতে চুরি সংঘঠিত করে। আসামীদেরকে শুক্রবার দুপুরে দিনাজপুর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামীদেরকে গ্রেফতারে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

ফটো ক্যাপশন : দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে কেমিক্যালের মাধ্যমে অচেতন করে চুরির ঘটনায় আটক আন্তঃজেলা চোর চক্রের সদস্যরা।

মোঃ মোফাজ্জল হোসেন
ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর
তাং- ৩১.১২.২০২১ইং
০১৭১৩৭২৪৬৪৮

ঘোড়াঘাটে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) থেকে মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদঃ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ্অভিযোগ উঠেছে। নিজ শয়নকক্ষ থেকে গলায় ওড়না পেচানো ঝুলন্ত অবস্থায় মমিনুর রহমান (২০) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ।

তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে এলাকায় না না গুঞ্জন উঠেছে। এলাকাবাসীর ধারনা তাকে হত্যা করে গলায় উড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।নিহত মমিনুর ঘোড়াঘাট উপজেলার পদুমহার গ্রামের মিস্টার আলীর ছেলে।

নিহত মমিনুরের বাবা মিস্টার আলী জানান,মিস্টার আলীর সাথে মমিনুরের মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে মমিনুরের মায়ের ঘোড়াঘাট উপজেলার সোনামুখি গ্রামে বিয়ে হয়।মমিনুর সে তার মায়ের সাথে থাকত।

সোনামুখি গ্রামের মহাসড়কের পাশে বাড়িতে থাকত। মমিনুর বড় হলে মমিনুর সহ আরও ২/৩ জন তার সৎ ফুফা আঃ সালামের সাথে ঢাকায় থাকত। তারা ঢাকায় রিক্সা চালাত এবং ফুফা আঃ সালাম তাদের নামে ঢাকায় লোন তুলে আত্মসাৎ করত।

তারা রিক্সা চালিয়ে ওই লোন পরিশোধ করত। ফুফা আঃ সালাম মমিনুর ওই ছেলেদের টাকা পয়সা দিতনা। রিক্সা না চালালে আঃ সালাম মমিনুরসহ ছেলেদের মারধর করত।

তারা আঃ সালামের নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে বাড়িতে চলে আসে। আঃ সালাম ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে মমিনুরকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং মমিনুরকে হাত পা বেঁধে শারীরিকভাবে নির্যাতন চালায়।
নিহতের মামাতো ভাই রুবেল ইসলাম জানান, নিহত হওয়ার ২ দিন আগে থেকে মমিনুরকে হাত পা বেঁধে মারধর করে মমিনুরের সৎ ফুপা আব্দুস সালাম। আব্দুস সালাম ও সৎ দাদি আমেনা বেগম গত মঙ্গলবার দুপুরে জোরপূর্বক ভাবে মমিনুরকে তার নিজ বাড়িতে আটকে রেখে পাশ্ববর্তী গ্রাম শৌলাতে খেলা দেখতে যান।

পরে রাত ১ টায় রুবেল তার মামাতো ভাইকে দেখতে এসে দেখেন যে, ঘরের দরজা জানালা সব বন্ধ। এ সময় সে ডাক চিৎকার দিয়ে গ্রামবাসীর সহযোগীতায় ঘরের দরজা ভেঙ্গে দেখেন ঘরের তীরের সাথে গলায় উড়না পেঁচানো অবস্থায় মমিনুরের দেহ ঝুলে থাকতে দেখতে পান।

স্থানীয় লোকজন থানায় খবর দিলে ২৯ ডিসেম্বর বুধবার দুপুর ১২টায় উপজেলার সোনামুখি গ্রামের মহাসড়কের পাশে নিজ বাড়ি থেকে মমিনুরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহ বহস্পতিবার দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহ বহস্পতিবার দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসলেই বোঝা যাবে এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা।তার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here