ঝিনাইদহের ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধ প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

0
35

রাব্বুল ইসলাম, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহ শহরের কাঞ্চনপুর মধ্যপাড়ার বাসিন্দা নাজমুল হক। কৃষিব্যাংক শাখার দ্বিতীয় মূখ্য কর্মকর্তা হিসাবে একাধিক শাখা থেকে ১ কোটি ২৩ লাখ ৭০ হাজার ৯৫৯ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় বর্তমানে তিনি মাগুরা জেলা কারাগারে রয়েছেন। গত সোমবার ২৩ আগস্ট অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে। কৃষি ব্যাংকের মাগুরা শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ রেজাউল হক জানান, নাজমুল মাগুরায় প্রধান শাখায় কর্মরত ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তার হিসাবে ৩৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৪ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে গত সোমবার রাতে নাজমুল হককে সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

মামলার এজাহারে জানা যায়, বিভিন্ন শাখায় চাকরির সময়ে সময়ে নিজ নামে অ্যাকাউন্ট খুলে সুবিধামতো সময়ে নাজমুল হক বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তাৎক্ষণিক অনুসন্ধানে মাগুরা ও ঝিনাইদহ শাখা থেকে পর্যায়ক্রমে তিনি ১ কোটি ২৩ লাখ ৭০ হাজার ৯৫৯ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঝিনাইদহ কৃষি ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ রুবায়েত হাসান জানান, নাজমুল হক ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ঝিনাইদহ শাখায় একই পদে কর্মরত থাকাকালে বিভিন্ন সময়ে তাঁর অ্যাকাউন্টে ৮৫ লাখ ৮৭ হাজার ২২৫ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তদন্ত টিম রওনা হয়েছে। নাজমুল হকের সব কর্মস্থলে অনুসন্ধান না করলে প্রকৃতভাবে কত টাকা আত্মসাৎ হয়েছে তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব না।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জয়নাল আবেদীন জানান, যেহেতু সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। তাই দুদকের পরামর্শে অভিযুক্ত নাজমুল হককে আটক করে কোর্টে পাঠানো হয়।

ঝিনাইদহের মুখ্য আঞ্চলিক কর্মকর্তা (ডিজিএম) এনায়েত করিম জানান, নাজমুল হকের অর্থ আত্মসাতের কর্মকান্ডে তারা বিব্রত এবং হতবাক হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে যাবতীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের পাশাপাশি তার কর্মকালীন বিগত সকল শাখায় খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, শৈলকুপা শাখায় ১৯-০৫-২০১৪ থেকে ২৭-১১-২০১৬ পর্যন্ত সিনিয়র অফিসার দ্বিতীয় কর্মকর্তা হিসাবে তার কর্মকালীন কোন আর্থিক অনিয়ম পাওয়া যায়নি। তবে শৈলকুপা কৃষিব্যাংক শাখায় কর্মকালীন ২৪-০৬-২০১৫ তারিখে শাহিনুর রহমান জীবন নামের এক মোবাইল ব্যবসায়ীর সাথে তিনি ভয়ঙ্কর চেক প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ করেন। সে সংক্রান্তে ঝিনাইদহ আদালতে শৈল/সিআর ২৪১/১৬ একটি মামলা চলমান আছে।

তবে পরবর্তিতে ঝিনাইদহ এবং বর্তমানে মাগুরা অফিসে দায়িত্বপালন কালে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ফাঁস হয়েছে।
অপরদিকে এই ব্যাংক কর্মকর্তা নাজমুল হকের বিগত কর্মকালীন সকল শাখায় গভীরভাবে দুদকের অনুসন্ধান চালাচ্ছে। দুদক যশোর অফিসের উপ-পরিচালক নাজমুস সাদাত বলেন কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা নাজমুল হকের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের কারনে দুদকে মামলা দায়েরের প্রস্তুুতি চলছে। সুধি মহলে প্রশ্ন উঠেছে বাৎসরিক অডিট কর্মকর্তাদের নজর এড়িয়ে একজন কর্মকর্তা একাধিক শাখায় সরকারি অর্থ আত্মসাত ঘটনা স্বাভাবিক নয়। এর সাথে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার সম্ভাবনাও কম নয় বলে শহরে নানা গুঞ্জন উঠেছে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানার সেকেন্ড অফিসার কামাল হোসেন বলেন, সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় কৃষিব্যাংক কর্মকর্তা নাজমুল হকের বিরুদ্ধে জিডি গ্রহণ করে মামলা করতে দুদকে পাঠানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here