ঘামে দুর্গন্ধ হওয়ার কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

0
35

খবর৭১ঃ অফিসে কিংবা বাসায় ঘামের দুর্গন্ধের কারণে কেউ কাছে আসতে চান না। কথা বলার ইচ্ছাটুকুও আর থাকে না। শরীরের ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ে অনেকেই বিড়ম্বনায় পড়েন। পারফিউম বা ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেও মেলে না মুক্তি। তাতে হয়তো সাময়িকভাবে গন্ধ দূর হয়, কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরেই আবার আগের রূপে ফিরে আসে। গায়ের গন্ধের নেপথ্যে থাকে অনেকগুলো কারণ যেমন খাওয়াদাওয়া, জীবনযাত্রার ধরণ, একজন ব্যক্তি পুরুষ না মহিলা কিংবা কোনও ব্যক্তি বিশেষ কোনও ওষুধ খান কি না।

গবেষকরা জানিয়েছেন, যে শরীরে দুর্গেন্ধের জন্য দায়ী হচ্ছে বিও এনজাইম। এই বিও এনজাইম এক ধরনের বিশেষ ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে থাকে। আর এই ব্যাকটিরিয়া বাসা বাঁধে আমাদের বাহুমূলে। সে কারণে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়।

শরীর পুষ্টিহীন হলে ঘামে দুর্গন্ধ হতে পারে। এছাড়া শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে ঘাম থেকে বাজে গন্ধ হয়। আবার কিছু পারফিউম রয়েছে যেগুলোতে ব্যাকটেরিয়া দূরকারী উপাদান থাকে না। সেসব ব্যবহারের করলে শরীরে ব্যাকটেরিয়া বেশি বৃদ্ধি পায়। যে কারণে তৈরি হয় দুর্গন্ধ। সিনথেটিক কাপড়ের পোশাক পড়লেও শরীরে দুর্গন্ধের কারণ হতে পারে। যদি ঘামে প্রচুর গন্ধ হয় তবে রেয়ন ও পলিয়েস্টারের তৈরি কাপড় এড়িয়ে চলাই ভালো।

যাদের ঘামের দুর্গন্ধ থাকে তাদের অস্বাস্থ্যকর বলে মনে করা হয়। অনেক বেশি বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ ঘামের মধ্যে থাকলে এ ধরনের গন্ধ হয়। এক থেকে দু’দিন এমন গন্ধ হলে চিন্তার কারণ নেই। তবে এ ধরনের গন্ধ অনেক দিন ধরে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ঘামের অতিরিক্ত ঘ্রাণের কারণে ঘামের অত্যধিক নিঃসরণ ঘটে। এটি ব্রোমিড্রোসিস নামে পরিচিত। এগুলো আপনার ত্বকে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়াগুলো ঘাম ভেঙে দেয় এবং একটি অদ্ভুত গন্ধ বের হয়। যে লোকেরা প্রচুর ঘাম হয় তারা এই চিকিত্সা ব্যবস্থাটি অনুভব করতে পারেন। ব্রোমিড্রোসিস দুই প্রকার হয়। একক্রাইন- ব্রোমিড্রোসিস হাত, পা এবং মাথা থেকে শরীরের গন্ধ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। এই অবস্থার জন্য ইক্রাইন গ্রন্থি দায়ী। অ্যাপোক্রাইন- বিশেষজ্ঞদের মতে, অত্যধিক ঘাম হওয়ার কারণে এপোক্রাইন গ্রন্থি এই অবস্থার জন্য দায়ী।

বিভিন্ন রোগ যেমন ডায়াবেটিস, থাইরয়েডে ইত্যাদি থেকেও ঘামের দুর্গন্ধ হতে পারে। লিভারের কর্মহীনতা, কিডনিতে ব্যর্থতা এবং হরমোনের ওঠানামাও শরীরের ঘামের দুর্গন্ধের কারণ। এন্টিডিপ্রেসেন্ট ড্রাগস, আয়রন সাপ্লিমেন্টস এবং জিঙ্ক সাপ্লিমেন্টগুলোর কারণে অতিরিক্ত ঘাম হয় ও দুর্গন্ধ হয়।

ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে অনেকে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার বাদ দেন তালিকা থেকে। এ জাতীয় খাদ্যের অভাব হলে ঘামে দুর্গন্ধ হয়। স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার ঘামের বাজে গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে।

বিজ্ঞানীদের মতে, শরীরে যে ব্যাকটেরিয়া রয়েছে তার মধ্যে মাত্র কয়েকটি দুর্গন্ধের জন্য দায়ী। এই ব্যাকটেরিয়ার বৈজ্ঞানিক নাম স্টেফালোককাস হমিনিস। এই ব্যাকটেরিয়া যে প্রোটিনটি ব্যবহার করে, নতুন প্রজন্মের স্প্রে, রোল-অন ডিওডোরেন্টে তা প্রতিরোধী উপাদানই হবে দুর্গন্ধের নতুন অস্ত্র।

প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপায়ে ঘামের দুর্গন্ধ দূর করবেন যেভাবে

একটি পাত্রে সামান্য গরম পানি নিয়ে তাতে মধু মিশিয়ে রাখুন। গোসল শেষে মধুমিশ্রিত পানি গায়ে ঢেলে নিন। বেকিং সোডা পেস্ট বানিয়ে বগলে লাগিয়ে নিন।

দুই টেবিল চামচ ধনেপাতা দুই কাপ পানিতে জ্বাল দিতে থাকুন। পানি এক কাপের মতো হয়ে এলে নামিয়ে নিন। এবার ঠান্ডা করে এই পানিটুকু খেয়ে নিন।

পুদিনাপাতা-সিদ্ধ পানি খেলেও ঘামের দুর্গন্ধ দূর হবে।

এক কাপ পানিতে আধা চা চামচ মেথি সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। এই পানিটুকু সকালে খালি পেটে খেয়ে নিন। এতে করে ঘামের দুর্গন্ধ দূর হবে।

পানির সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে গোসল করুন। এটি দীর্ঘক্ষণ দেহকে ঘামের দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা করে।

নিমপাতার ব্যবহারে ঘামের দুর্গন্ধ রোধ করা যায় সহজেই। ঘামের দুর্গন্ধ হওয়ার জন্য শরীরে যে ব্যাকটেরিয়া দায়ী, তার বৃদ্ধি ঠেকাতে নিমপাতা খুব উপকারী। গোসলের সময় নিমপাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে ব্যবহার করলে শরীরের টক্সিন রোধ হয় এবং ঘামের দুর্গন্ধ দূর হয়।

অ্যালোভেরার শাঁস ঘামের দুর্গন্ধ কমাতে সহায়তা করে। টানা এক মাস প্রতিদিন এক টেবিল চামচ অ্যালোভেরার শাঁস খেলে শরীরে ঘামের গন্ধ কমে যায়।

এ ছাড়া প্রচুর পানি পান করতে হবে। রোদে বের হতে হলে ছাতা, হ্যাট ব্যবহার করবেন। শরীরে ঘামের বাজে দুর্গন্ধ দূর করার জন্য বাতাস পরিবহনযোগ্য পরিষ্কার পাতলা পোশাক পড়া দরকার। নিয়মিত গোসল করুন। প্রয়োজনে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here