সব খোলা, শপিংমল মার্কেট নয় কেনঃ ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন

0
18

খবর৭১ঃ
দুই ঈদ ও বৈশাখকে সামনে রেখে ব্যবসা বন্ধ থাকায় পথে বসার উপক্রম লাখ লাখ ব্যবসায়ী ও তাদের কর্মচারীদের। মঙ্গলবার যুগান্তরের কাছে এমন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, সবকিছু খোলা। গার্মেন্টস, ব্যাংক, শেয়ারবাজার এবং বইমেলা সবকিছু চলছে। নতুন করে গণপরিবহণও চালু হয়েছে। কিন্তু দোকান, মাকের্ট ও শপিংমল বন্ধ।

এটি কেমন বিচার। তিনি বলেন, গত বছর আমাদের বিশাল ক্ষতি হয়েছে। আশা ছিল, এবার তা কাটিয়ে উঠব। কিন্তু আবারও লকডাউন। যা সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। তার মতে, দেশের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মূলত দুই ঈদ এবং পহেলা বৈশাখে ব্যবসা করেন।

মোট মুনাফার বড় অংশই এই উৎসবের সময়ে আসে। কিন্তু এ সময়ে ব্যবসায় বড় ধাক্কা এসেছে। তিনি বলেন, বৈশাখ ও ঈদের পণ্য উৎসবের পর কেউ কিনবে না। বর্তমানে পাইকারি ব্যবসায়ীদের সময় চলছে।

কিন্তু পাইকারি ব্যবসা বন্ধ থাকায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়বে। তিনি আরও বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্য মার্কেট, শপিংমল বন্ধ রাখা হচ্ছে। কিন্তু ফলাফল হবে উলটো। কারণ, ব্যবসায়ীদের একটি অংশ ইতোমধ্যে রাস্তায় নেমেছেন।

এতে করোনা বেশি ছড়িয়ে যাচ্ছে। বরং এদেরকে দোকানে রাখলে করোনা সব জায়গায় ছড়াত না। এ কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট ও শপিংমল খুলে দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য সচল না-থাকলে সবকিছু ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অন্যান্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনে ঈদ ও পহেলা বৈশাখ। এ কারণে ব্যাংক ঋণ, ক্ষুদ্রঋণ, জমিবন্ধক অথবা দারদেনা করে এ খাতে বিনিয়োগ করেছেন তারা। কিন্তু মার্কেট বন্ধ থাকায় পড়েছেন তারা চরম বিপদে।

কতদিন এ অবস্থা চলবে স্পষ্ট নয়। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের হতাশাও বাড়ছে। ফলে ব্যবসা তো দূরের কথা, প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখাই কষ্ট। এ কারণে চরম ক্ষুব্ধ তারা। সারা দেশে বিভিন্নভাবে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদও করছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে এ খাতে ২ কোটির বেশি মানুষ জড়িত। ফলে সামাজিক দূরত্ব মেনে যারা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলতে চায়, তাদের সুযোগ দেওয়া উচিত।

মিরপুরের আর কে অ্যাপারেলসের মালিক কবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপারে বেশকিছু সাংঘর্ষিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে গার্মেন্টসগুলো খোলা রেখেছে। এখানে পণ্য উৎপাদন হয়। কিন্তু পাইকারি মার্কেট বন্ধ।

ফলে উৎপাদিত পণ্য ফ্যাশন হাউসগুলো কার কাছে বিক্রি করবে। শ্রমিকদের বেতন কোথা থেকে আসবে। অন্যদিকে যেসব পণ্য ঈদের জন্য বানানো হয়, ঈদের পর তা কেউ কিনবে না। বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খুলে দেওয়া উচিত। কারণ, এর সঙ্গে সঙ্গে লাখ লাখ লোকের রুটিরুজি জড়িত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here