পদত্যাগে ‘প্রস্তুত’ ইসি মাহবুব

0
22

খবর৭১ঃ
দেশের বিশিষ্ট ৪২ নাগরিকের পক্ষ থেকে পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বানের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, দেশের উপকার হলে তিনি যেকোনো সময় পদত্যাগ করতে প্রস্তুত আছেন।

সোমবার বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

বরাবরের মতো নিজের মতামত তুলে ধরতে গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন মাহবুব তালুকদার।

পরে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, রাষ্ট্রপতির কাছে দেশের বিশিষ্ট ৪২ নাগরিক আবেদন করেছেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল গঠন করে আপনাদের বিষয়ে তদন্ত করার জন্য। আর আপনাদের কাছে তারা আহ্বান জানিয়েছেন, এই অবস্থায় আপনাদেরকে পদ থেকে সরে যাওয়ার জন্য।

জবাবে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘আমরা তো একটা প্রসেসের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনার হয়েছি। এখন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল যদি আমাদের ব্যাপারে গঠিত হয়, তাহলে আমাদের তো কোনো বক্তব্য নেই।’

আলোচিত এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘দাবি যদি করে থাকেন, তাহলে আমি ব্যক্তিগতভাবে পদত্যাগ করলে যদি লাভ হয়, দেশের যদি কোনো উপকার হয়, তাহলে আমি যেকোনো মুহূর্তে পদত্যাগ করতে প্রস্তুত।’

নির্বাচন ভবনে ‘নির্বাচন কমিশনের পঞ্চম বর্ষের প্রারম্ভে আমার বক্তব্য’ শিরোনামে এক লিখিত বক্তব্যে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল দেখে আমার ধারণা হচ্ছে, নির্বাচন নির্বাসনে যেতে চায়। নির্বাচন অর্থ অনেকের মধ্য থেকে ভোটের মাধ্যমে বাছাই। কিন্তু সে অবস্থা আজকাল পরিলক্ষিত হয় না। প্রশ্ন জাগে, নির্বাচন কি এখন পূর্বে নির্ধারিত?’

নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য না হলে, কোনো বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র আপন মহিমায় বিকশিত হতে পারে না বলেও মনে করেন তিনি।

মাহবুব বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশনের আজ চার বছর পূর্ণ হলো। পেছনের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে আমাদের আত্মবিশ্লেষণ প্রয়োজন। প্রায় সব নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে আমরা তৃপ্তি বোধ করি। কিন্তু নির্বাচন বিষয়ে আমাদের সব দাবি জনগণের উপলব্ধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।’

বর্তমানে নির্বাচন এককেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘এককেন্দ্রিক নির্বাচন বহুদলীয় গণতন্ত্রের উপাদান হতে পারে না। যেহেতু নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না, সেহেতু নির্বাচনের প্রতিটি আইনকানুন ও আচরণবিধি কঠোরভাবে পালনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে পরিপালন ও সংরক্ষণ করতে হয়। কিন্তু নির্বাচন প্রক্রিয়া যথাযোগ্য সংস্কার না করার কারণে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা এখন গভীর খাদের কিনারে। এই সংস্কার নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করে না। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলো ও সংশ্লিষ্ট সকলের সমঝোতা প্রয়োজন।’

আগামী মে মাস থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে ব্যাপক পরিসরে কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘এই নির্বাচনেও সহিংসতার আশঙ্কা করি। আচরণবিধি লঙ্ঘন ও হানাহানি বর্তমানে নির্বাচনের অনুষঙ্গ হয়ে গেছে। কোনো অনভিপ্রেত ঘটনাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। কারণ কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা মিলে একটি অবিচ্ছিন্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাই প্রাণহানির অভিশাপ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার পথ অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের উদ্যোগ কেন কার্যকর হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ আবশ্যক।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here