শীতে সর্দি ফ্লু ও করোনা সংক্রমণে করণীয়

0
58
শীতে সর্দি ফ্লু ও করোনা সংক্রমণে করণীয়

খবর৭১ঃ

কোভিড-১৯ বিশ্বমারী অগ্রসর হচ্ছে অবাধে, শীত পড়ছে, তাই আর একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা এখন ফ্লু ঋতু।

এ দুটি একত্র হলে ঘটতে পারে ‘টুইনডেমিক’ বলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কোভিড-১৯ রোগী ক্রমে বাড়ছে আর সঙ্গে ফ্লু প্রকোপ।

ঠান্ডা-সর্দি, ফ্লু ও কোভিড-১৯ ঘটায় যে ভাইরাসগুলো সেগুলো শ্বাসযন্ত্রকে অসুস্থ করে। তিনটি অসুখের কয়েকটি উপসর্গ প্রায় একই রকমের তাই কিসে অসুস্থ হলেন তা বোঝা অনেক সময় কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। তাই এ তিনটি অসুখের উপসর্গের সাদৃশ্য ও ভিন্নতা জানা ভালো।

ঠান্ডা-সর্দি

* উপসর্গগুলো আসে পর্যায়ক্রমে।

* সচরাচর উপসর্গ : নাক বন্ধ, হাঁচি, নাক দিয়ে জল ঝরা।

* উপসর্গ সপ্তাখানেক থাকে প্রথম তিন দিন ছোঁয়াচে।

* ডাক্তার দেখানোর তেমন প্রয়োজন নেই। উপসর্গের জন্য ওষুধ।

ফ্লু

* উপসর্গগুলো আকস্মিকভাবে জোরেশোরে আসে, ঠান্ডা-সর্দি থেকে অনেক গুরুতর।

* সচরাচর উপসর্গ : খুব বেশি জ্বর, মাথাধরা, শরীর ব্যথা ও ক্লান্তি।

* ২-৫ দিনের মধ্যে উপসর্গ উপশম হয়। তবে এক সপ্তাহও লাগতে পারে।

* ঘরে থাকা উচিত আর জ্বর সেরে গেলেও আরও একদিন গৃহবাস যাতে অন্যদের সংক্রমিত না হয়।

* ডাক্তারের পরামর্শে এন্টিভাইরাল উপসর্গ গুরুতর ও দীর্ঘ হলে।

* হতে পারে জটিলতা, উপসর্গ শোচনীয় হচ্ছে মনে হলে, বা সেই সঙ্গে ডায়াবেটিস, হাঁপানি বা গর্ভবতী হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

কোভিড-১৯

* কোভিড ১৯-এর মুখোমুখি হওয়ার ২-১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ প্রকাশ পায়।

* সচরাচর উপসর্গ : জ্বর ও শীত শীত লাগা, কফ-কাশ, ক্লান্তি, পেশি ও শরীরে ব্যথা, মাথাধরা, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট।

* সঙ্গে থাকতে পারে বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, নতুন করে স্বাদচেতনা লোপ, ঘ্রাণশক্তি লোপ।

* কারও কারও উপসর্গ নাও হতে পারে, কারও হবে মৃদু উপসর্গ কারও হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয়। কোভিড থেকে সেরে উঠলেও উপসর্গ থেকে যেতে পারে।

* হতে পারে জটিলতা : উপসর্গ শোচনীয় হলে বা ৬০ ঊর্ধ্ব হলে বা অন্যান্য ক্রনিক অসুখ থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

যেহেতু অনেক উপসর্গ কোভিড-১৯ ও ফ্লু প্রায় একই রকম তাই এ দুটিকে পৃথক করে বোঝা অনেক সময় কঠিন, টেস্ট না করে বোঝা মুশকিল। মনে দ্বিধা থাকলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন, উপসর্গগুলো জানান বা টেলিমেডিসিনের সাহায্য নিন।

করোনাভাইরাস কি ফ্লু থেকেও মারাত্মক

হাম হলো সবচেয়ে ছোঁয়াচে রোগ। একজন হামের রোগী সংক্রমিত করতে পারেন ১২-১৮ জন লোককে। এ সংখ্যাকে বলে মৌলিক পুনঃজনন সংখ্যা বা Basic Reproduction Number Ro. রোগ কত সংক্রামক। জিকা জড় হল ৬.৬। কিছু ঋতুকালীন ফ্লু Ro=1.3। COVID 19 = Ro-2-2.5। ঋতুকালীন ফ্লু ও কোভিড-১৯-এর অনেক উপসর্গ একই রকম। জ্বর, কফ, অনেক সময় গায়ে ব্যথা ও ক্লান্তি।

অনেক সময় অগ্রসর হতে পারে নিউমোনিয়া হয়ে ফ্লু হলে সে রোগী একজন বা দু’জন লোককে অসুস্থ করতে পারে। দশ রাউন্ড শেষে অসুস্থ হতে পারে ৫৬ জন COVID-19=Ro-2 এটি অসুস্থ করতে পারে দু’জনকে। তবে ১০ রাউন্ডের পর অসুস্থ করতে পারে ২০৪৭ জনকে। এটি ভালো নয়। কোভিড-১৯ অত্যন্ত ভিন্ন রকমের। প্রতিবছর ফ্লুতে মারা যান ৬০ হাজার আমেরিকান।

কোভিড-১৯ সংক্রমণ হলে অসুস্থ হতে লেগে যায় ৫-৬ দিন হয়তো লাগতে পারে ১০ এমনকি ১৪ দিন। একে বলে রোগের সুপ্তিকাল। পুরো সময় রোগী থাকেন সংক্রামক।

ফ্লুতে রোগের সুপ্তিকাল ২ দিন এবং অসুস্থ হলে জানবেন সংক্রামক। কোভিড ১৯-এর বেলায় অসুস্থ হওয়া পর্যন্ত যতদিন ততদিন সংক্রমণ ছড়াতে থাকবেন রোগী অজান্তে।

ফ্লুতে অনেকে এমন আছেন যারা ফ্লুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে আছেন। কোভিড-১৯ একেবারে নতুন। এর বিরুদ্ধে কারও দেহে প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই। এ গ্রহের যে কোনো কারও করোনা সংক্রমণ হতে পারে। সংক্রমিত লোক অজান্তে ছড়াতে পারেন ভাইরাস, দাবানলের মতো তা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ জন্য এটি বিপজ্জনক। মাত্র ২ শতাংশ ফ্লু রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হতে পারে। ২০-৩১ শতাংশ, কোভিড রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। মৃত্যুহার ১-৩ শতাংশ ফ্লুতে মৃত্যুহার কম ০-১ শতাংশ। হয়তো এক সময় বিশ্বের ২০-৬০ শতাংশ সংক্রমিত হতে পারে ভাইরাসে। আছে দূষণ সামাজিক বিচ্ছিন্নতা। যতদূর সম্ভব দূরে থাকুন।

শীতকালের ঠান্ডা কীভাবে শরীরের উপকারে লাগে

শীতকাল মানেই ঠান্ডার চোটে জবুথবু হয়ে কম্বলের তলায় সেঁদিয়ে যাওয়া। আর সেই সঙ্গে হ্যাঁচ্চো হ্যাঁচ্চোর চোটে বাড়ি মাথায় তোলা। এ কথার মধ্যে কোনো ভুল নেই যে শীতকালেই আমাদের শরীর খারাপ হওয়ার আশঙ্কা সব থেকে বেশি থাকে। কারণ বছরের এ সময়ই আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একটু দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে নানাবিধ জীবাণুর আক্রমণ বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে ঠান্ডার উপদ্রোপ তো আছেই। এ কথাও ঠিক যে, নানাভাবে শীতের ঠান্ডা আমাদের শরীরের উপকারেও লেগে থাকে। যেমন-

ঘুমের ঘাটতি দূর করে

কাজের চাপ হোক কী স্ট্রেস, নানা কারণে আজকের যুব সমাজের চোখে একেবারেই ঘুম নেই। ফলে শরীর এবং মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত পরিমাণে রেস্ট না পাওয়ার কারণে বাড়ছে নানাবিধ রোগের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা। সেই সঙ্গে বাড়ছে ইনসমনিয়ার মতো সমস্যাও। এমন পরিস্থিতিতে শীতকাল অনেকটা আশীর্বাদের সমান। কারণ ঠান্ডার কারণে শরীরের অন্দরে তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ঘুম আসতে সময় লাগে না। গবেষণায় দেখা গেছে ঘুমানোর সময় ঘরের তাপমাত্রা যদি ১৫.৫-১৯ ডিগ্রির মধ্যে থাকে, তাহলে সব থেকে ভালো ঘুম হয়। শীতকাল অনিদ্রায় ভুগতে থাকা রোগীদের জন্য কতটা উপকারী মৌসুম।

ক্ষিদে বাড়ে

শীতকালে আমাদের ক্ষিদে বেড়ে যায়। ফলে ভালো-মন্দ খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। আর এ কথা তো সবাই জানেন, ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়। ফলে ভেতর থেকে শরীর শক্তিশালী হয়ে ওঠে, সেই সঙ্গে রোগভোগের আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

ওজন হ্রাস পায়

অতিরিক্ত ওজনের কারণে যদি চিন্তায় থাকেন, তাহলে সেই চিন্তা দূর হওয়ার সময় এসে গেছে। ঠান্ডার সময় শরীর প্রতি মুহূর্তে নিজেকে গরম রাখার চেষ্টা চালিয়ে যায়। এ কাজটা শরীর করে থাকে চর্বি গলানোর মধ্যে দিয়ে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত মেদ বার্ন হতে শুরু করায় ওজন কমতে শুরু করে। শীতকালে আমাদের শরীরে জমতে থাকা খারাপ ফ্যাট বা ব্রাউন ফ্যাট গলতে শুরু করে। ওজন কমতে একেবারেই সময় লাগে না। শীতকালে আরেকভাবে ওজন কমে থাকে। ঠান্ডার সময় আমাদের কাঁপুনি হয়েই থাকে। এমনটা হওয়ার সময় প্রচুর পরিমাণে চর্বি ঝরতে শুরু করে। প্রায় ১ ঘণ্টা শরীরচর্চা করলে যে পরিমাণ চর্বি ঝরে, সেই একই পরিমাণ ঝরে প্রায় ১৫ মিনিট কাঁপুনি হলেও।

শরীরের প্রদাহ কমে

ঠান্ডার মৌসুমে শরীরের অন্দরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমতে থাকে। ফলে যে কোনো ধরনের যন্ত্রণা কমতে একেবারেই সময়ই লাগে না। অর্থাৎ শীতকালে যেমন ব্যথা লাগার আশঙ্কা বাড়ে, তেমনি যন্ত্রণাও কমে তাড়াতাড়ি।

মানসিক অবসাদ দূর হয়

ঠান্ডার সময় আমরা বাড়ি থেকে সহজে বেরোতে চাই না। ফলে অনেকটা সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাটানোর সুযোগ মেলে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্ট্রেস কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ব্রেন পাওয়ারও বৃদ্ধি পায়।

মশাবাহিত রোগের প্রকোপ কমে

ঠান্ডায় মশারা এত মাত্রায় কাবু হয়ে পড়ে যে ডেঙ্গি, চিকুনগুনিয়া এবং ম্যালেরিয়ার প্রকোপ স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পায়।

ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে

শীতকাল মানেই আমাদের ত্বকের বারোটা বেজে যাওয়া! বাস্তবে কিন্তু ঠান্ডার সময় ত্বকের নানাভাবে উপকার হয়। যেমন ধরুন শীতকালে ত্বকের অন্দরে থাকা শিরা-ধমমিতে রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়। ফলে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই স্কিনের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটতে শুরু করে। তাই ত্বকের আর্দ্রতা হারানো ছাড়া আর কোনো স্কিনের সমস্যা কিন্তু শীতকালে হয় না!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here