হবিগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও মানিক চৌধুরী পাঠাগার উন্মুক্ত

0
71
হবিগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও মানিক চৌধুরী পাঠাগার উন্মুক্ত

মঈনুল হাসান রতন হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষাসৈনিক প্রয়াত কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরীর ৮৭ তম জন্মবাষির্কীতে আজ রোববার উন্মুক্ত হচ্ছে ‘হবিগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও মানিক চৌধুরী পাঠাগার’।জাদুঘর ও পাঠাগার কর্তৃপক্ষ জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ ইচ্ছায় সরকারের এক কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরীর নিজস্ব ভূমির উপর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এ জাদুঘর ও পাঠাগার ভবন। এতে থাকছে মুক্তিযুদ্ধকালীন ৩২৭ টি স্মারক। জাদুঘর ভবনের নকশা করেন মুক্তিযোদ্ধা স্থপতি নূরুল করিম দিলু।২০১৮ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চ এ ভবণ নির্মাণ কাজের শুভ সূচনা করেন মরহুম কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরীর স্ত্রী বেগম রোকেয়া চৌধুরী। পঞ্চমতলা বিশিষ্ট জাদুুঘর ও পাঠাগারের ভবণ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ণ করে সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। ভবণের দ্বিতীয় তলায় থাকবে কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী’র নামে একটি অত্যাধুনিক পাঠাগার। এতে থাকবে দেশ বিদেশের বরেণ্য লেখকের বই। পাঠাগারটি ভ্রাম্যমাণ কার্যক্রমও চালাবে।

হবিগঞ্জ জেলার গ্রামে-গঞ্জে গিয়ে শিশুদেরকে পাঠ-অভ্যাসে অভ্যস্ত করতে ভূমিকা পালন করবে এ পাঠাগার। ভবনের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চমতলায় থাকবে হবিগঞ্জ ‘মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’। বাংলাদেশের সোনালী ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই হবে এ জাদুঘরের মূল লক্ষ্য।
মুক্তিযুদ্ধকালীন সংগৃহীত বিভিন্ন স্মারক ছাড়াও এ জাদুঘরে থাকবে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও সুনামগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন চিঠি, ব্যবহার্য দ্রব্যাদি ও তথ্যচিত্র। এছাড়াও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে চা-বাগানের শ্রমিকদের তীরধনুক ও যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণও এ জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে।এ প্রসঙ্গে হবিগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা মর্তুজ আলী বলেন, ‘হবিগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও মানিক চৌধুরী পাঠাগার মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিমধ্যে প্রিয় প্রাঙ্গণে পরিণত হয়েছে। এখানে আসলে ১৯৭১ সালের সিলেটের মুক্তিযোদ্ধাদের মনেপড়ে।’ মুক্তিযোদ্ধা রাজিয়া খাতুন বলেন, ‘কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরীর মেয়ে ২০০৪ সাল থেকে তাঁর বাবার স্বপ্নপূরণের জন্য বিভিন্ন বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি ও স্মারক সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন।’ সাবেক অধ্যক্ষ ও মানিক চৌধুরী পাঠাগারের সভাপতি ইকরামুল ওয়াদুদ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ বিষযক বইয়ে সমৃদ্ধ থাকবে এ পাঠগার। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আরো বেশী জানতে পারবে নতুন প্রজন্ম।’ জমিদাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধুর ওয়ারলেস পাঠানো স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি আমার বাবা কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী দীর্ঘ ৯ মাস বুকপকেটে রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মায়ের কাছে এ গল্প শুনে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি।’ জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আগামী ১০ জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে হবিগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও মানিক চৌধুরী পাঠাগারের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here