সিনহা হত্যায় প্রধান আসামি লিয়াকতের দায় স্বীকার

0
59
সিনহা হত্যায় প্রধান আসামি লিয়াকতের দায় স্বীকার

খবর৭১ঃ কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা রাশেদ খান হত্যা মামলায় দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী। তিনি মামলাটির প্রধান আসামি। তার গুলিতেই সিনহা নিহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

রবিবার দুপুর ১২টায় কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে তোলা হয় লিয়াকত আলীকে। বিকাল সাড়ে চারটার দিকে জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হয়। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা জবানবন্দি গ্রহণ শেষে লিয়াকত আলীকে জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাবের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতেই লিয়াকতকে আজ আদালতে তোলা হয়। আদালতের কাছে পুলিশের এই কর্মকর্তা সত্যটাই তুলে ধরেছেন বলে আশা প্রকাশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের একদিন পরই লিয়াকত আলীকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আদালতে তুলে র‌্যাব।

গত শুক্রবার তৃতীয় দফায় বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই লিয়াকত আলী, এএসআই নন্দদুলাল রক্ষিতের তৃতীয়বারের মতো তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

এর আগে গত ২৬ আগস্ট আলোচিত এই মামলায় ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন অন্যতম আসামি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্য কনস্টেবল আব্দুল্লাহ। জবানবন্দিতে তিনি জানান, ঘটনার দিন মনে হয়েছে ইন্সপেক্টর লিয়াকত শিকারের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। লিয়াকত আলীসহ মামলাটিতে দুই আসামি দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিলেন।

গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর এপিবিএনের তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। গত ৫ আগস্ট এ ঘটনায় কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহা মো. রাশেদ খানের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এতে টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ পুলিশের নয়জনকে আসামি করা হয়।

এই মামলায় এখন পর্যন্ত পুলিশের সাতজন, এপিবিএনের তিনজন এবং স্থানীয় তিনজন বাসিন্দা (পুলিশের মামলার সাক্ষী) গ্রেপ্তার হয়েছেন। ১৩ আসামির সবাই কারাগারে আছেন। দফায় দফায় তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে র‌্যাব। আদালতের নির্দেশে র‌্যাব মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here