নারী নেতৃত্বে টেনে ধরা যাচ্ছে করোনার লাগাম

0
152
নারী নেতৃত্বে টেনে ধরা যাচ্ছে করোনার লাগাম

খবর৭১ঃ
করোনা ভাইরাস থমকে গেছে বিশ্ব। চীন থেকে উৎপত্তি হলেও যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ফ্রান্স, স্পেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মৃত্যুর মিছিলের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ভাইরাস। প্রাণঘাতী ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলছে লকডাউন। শুধু সাধারণ মানুষই নয় দেশগুলোর সরকার প্রধানরাও হিমশিম খাচ্ছে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে। লকডাউন না মানলে কঠোর শাস্তিও দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ফোর্বস ম্যাগাজিন দাবি করছে, বিশ্বের যে সব দেশে করোনার লাগাম টেনে ধরতে পেরেছে সেগুলোর নেতৃত্বে রয়েছে নারীরা।

ম্যাগাজিনটিতে উদাহরণস্বরূপ তাইওয়ান, আইসল্যান্ড , নিউজিল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্কের কথা বলা হয়েছে। অনেকেই হয়তো এসব দেশের নাম দেখে বলতে পারেন ছোট দেশ তাই সহজেই করোনা প্রতিরোধ করা গেছে। এ আর এমন কি? তবে ফোর্বসের তালিকায় জার্মানির মত বড় দেশের নাম রয়েছে। সেখানকার নেতৃত্বে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারী হিসেবে পরিচিত অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের পার্থক্যটা দেখলেই বোঝা যায়, নারী নেতৃত্বে কতটা লাগাম টানা গেছে করোনা ভাইরাসের । জার্মানি করোনা মোকাবিলায় যেভাবে কাজ করেছে একই আয়তন ও জনসংখ্যার যুক্তরাজ্য দ্বীপরাষ্ট্র হয়েও তা করতে পারেনি। নারী নেতৃত্বে থাকা দেশগুলোর কৌশল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্যের কারণেই তারা করোনা ঠেকাতে সফল হয়েছেন।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম দিকেই সত্যটা প্রকাশ করেছিলেন জার্মানির অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। জার্মানিতে করোনা প্রকোপ শুরু হওয়ার প্রথম দিকে মার্কেল বলেছিলেন,অন্তত ৭০ ভাগ মানুষ এতে আক্রান্ত হবে। আর এ জন্য সবাইকে গুরুত্ব দিয়ে করোনা ভাইরাসকে বিবেচনা করার আহ্বানও জানান জার্মানি ভাইস চ্যান্সেলর। এর ফলও পেয়েছে জার্মানি। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় জার্মানিতে আক্রান্তের সংখ্যা কম ও মহামারি নিয়ন্ত্রণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, খুব শিগগিরই জার্মানিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।

দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে করোনার প্রকোপ ঠেকিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে অন্যতম ছিল তাইওয়ান। দেশটিতে লকডাউনের কোন প্রয়োজন হয়নি। জানুয়ারি মাসের শুরুতেই করোনার বিস্তার ঠেকাতে লকডাউন ঘোষণার বদলে আক্রান্তদের চিহ্নিত করে আলাদা করাসহ মোট ১২৪ ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন’র এক প্রতিবেদনে তাইওয়ানের উদ্যোগকে ‘করোনা মোকাবিলায় বিশ্বে শ্রেষ্ঠ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। করোনা সংকট জয় করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রায় এক কোটি ফেস মাস্ক সরবরাহ করেছে দেশটি।

একইরকম ভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে করোনা মোকাবিলায় দক্ষ নেতৃত্বের কারণে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অ্যার্ডেন। অ্যার্ডেনের নেতৃত্বে সংক্রমণের শুরুতেই নিউজিল্যান্ডে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। দেশটিতে ছয় জন আক্রান্ত হওয়ার পরপরই বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের বাধ্যতামূলকভাবে আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে বিদেশি যাত্রীদের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। দেশটিতে করোনায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন নয়জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৩৬৬ জন। ফোর্বস ম্যাগাজিন বলছে, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী করোনার ভয়াবহতা ও লকডাউনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জাতিকে বোঝাতে সফল হয়েছেন। আর এ কারণেই জনগণ তার নির্দেশ অনুযায়ী সমস্ত নিয়ম কানুন মেনে চলেছে।

করোনায় প্রযুক্তির উৎকৃষ্ট ব্যবহার দেখিয়েছে আইসল্যান্ড। দেশটি সকল নাগরিকের বিনামূল্যে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছে। দেশটির নারী প্রধানমন্ত্রী ক্যাটরিন ইয়াকোবস্টডিটির নেতৃত্বে দেশটিতে প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা জানতে ঝুঁকিতে থাকা সকল মানুষের করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। আক্রান্তের সংস্পর্শে আসাদের খুঁজে বের করতে প্রযুক্তির সাহায্যে শক্তিশালী ব্যবস্থা চালু করেছে।জানা গেছে, জনসংখ্যার অনুপাতে দেশটি ইতিমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি মানুষের করোনা পরীক্ষা করেছে। করোনার জন্য তাইওয়ানের মতো আইসল্যান্ডেও লকডাউনের প্রয়োজন হয়নি।

প্রযুক্তি ব্যবহার করে সচেতনতা তৈরির দৃষ্টান্ত রেখেছে ফিনল্যান্ডও। গত বছরের ডিসেম্বর দেশটিতে নির্বাচিত হয়েছেন বিশ্বে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হন সানা মেরিন। নেতৃত্বে আসার পরপরই করোনাভাইরাস সংকট মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করেন তিনি। প্রযুক্তির সাহায্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনলাইন করোনার বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন শুরু করেন তিনি।

নাগরিকদের প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে করোনার লাগাম টেনে ধরেছে নরওয়ে। ঘরবন্দি শিশুদের মানসিক অবস্থার কথা ভেবে বিশ্বে প্রথম শিশুদের জন্য বিশেষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এর্না সোলবার্গ। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই সংবাদ সম্মেলনে কেবল শিশুরাই ফোন করতে পারত। আতঙ্কে থাকা শিশুদের অনুপ্রেরণা ও সচেতন করে তুলতে এমন আয়োজন করেন নরওয়ের নারী প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্বব্যাপী মহামারির এমন পরিস্থিতিতে নারী নেতৃত্বে যখন করোনার লাগাম টেনে ধরতে সক্ষম হয়েছে। ঠিক সেই সময় ট্রাম্প, মোদি, পুতিনের মত রাষ্ট্র নেতারা লকডাউন, সংবাদমাধ্যমকে দোষারোপ, আইনের ভুল প্রয়োগ করে করোনার বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here