সৈয়দপুরে সরকারি খাস ও পরিত্যক্ত জমি উদ্ধার

0
44
জমি উদ্ধারের পর পাতাকুঁড়ি বিনোদন পার্কের সামনে সৈয়দপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার ( ভূমি) পরিমল কুমার সরকারসহ অন্যান্যদের দেখা যাচ্ছে।

মিজানুর রহমান মিলন,সৈয়দপুর(নীলফামারী)প্রতিনিধি:

সৈয়দপুরে প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের সরকারি খাস, পরিত্যক্ত ও পাউবোর নালার জমি উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকারের নেতৃত্বে পাতাকুঁড়ি নামক একটি বিনোদন পার্কের ভিতরে থাকা দখলকৃত ওই জমি উদ্ধার করা হয়। এ সময় উদ্ধারকৃত জমিতে লাল নিশান স্থাপন করা হয়। এছাড়াও সরকারি খাস,পরিত্যক্ত ও পাউবোর জমি অবৈধভাবে দখল করে তাতে একটি বিনোদন পার্ক গড়ে তোলায় এবং ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ না করায় তা তালা লাগিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়।
উপজেলা ভূমি অফিস সুত্র জানায়, সৈয়দপুর পৌরসভা এলাকার কয়া মৌজায় মোট সাড়ে ২৩ শতক সরকারি খাস, পরিত্যক্ত ও পাউবোর পচা নালার জমি রয়েছে। এর মধ্যে ১১৯ দাগে ৪ শতক সরকারি পরিত্যক্ত এবং ৩২৯ , ৩৪৫ ও ৩৪৭ দাগে ১২ শতক সরকারি খাস এবং পাউবোর পচানালার সাড়ে ৭ শতক জমি রয়েছে। সৈয়দপুর শহরে বিশিষ্ট ঠিকাদার ও জাপা (এ) নেতা আলহাজ্ব মো. জয়নাল আবেদীন উল্লিখিত সরকারি খাস, পরিত্যক্ত এবং পাউবোর পচা নালার ওই জমি দখল করাসহ মোট ৫ দশমিক ১৫ একর জমিতে ৪/৫ বছর আগে সেখানে পাতাকুঁড়ি নামে একটি বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলেন। আর তার পাতাকুঁড়ি বিনোদন পার্কের জমির বাণিজ্যিক হিসেবে গেল বাংলা গত ১৪২৩ থেকে ১৪২৫ সন পর্যন্ত তিন লাখ ২৫ হাজার ২২৫ টাকা বকেয়া জমির ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়া রয়েছে। উল্লিখিত পরিমাণ বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য পৌর ভূমি অফিস থেকে বিনোদন পার্কের ভূমি মালিককে কয়েক বার নোটিশ প্রদান করা হয়। এরপরও তিনি ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ না করায় পাতাকুঁড়ি বিনোদন পার্কের স্বত্ত্বাধিকারী আলহাজ্ব মো. জয়নাল আবেদীনের নামে পৌর তহশিলদার অফিস থেকে একটি সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করা হয়। যার নম্বর তহশীল সার্টিফিকেট মামলা নম্বর ৩৪/১৮-১৯ইং। গতকাল বুধবার সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকারের নেতৃত্বে পাতা কুঁড়ি বিনোদন পার্কের মালিক কর্তৃক দখল করা সরকারি জমি উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে সৈয়দপুর উপজেলা ভূমি অফিস থেকে ওই জমি মাপজোক শেষে সীমানা নির্ধারণ করে সেখানে লাল নিশান স্থাপন করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত জমির বাজারমূল্য ২৫ লাখ টাকা বলে জানা গেছে। জমি উদ্ধার অভিযানে সৈয়দপুর পৌর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম, সার্ভেয়ার রিপন কুমারসহ সৈয়দপুর খানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে কথা হলে পাতাকুঁড়ি বিনোদন পার্কের স্বত্ত্বাধিকারী আলহাজ্ব মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, সরকারি খাস, পরিত্যক্ত ও পাউবোর নালার জমি দখলের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, গেল ১৪২৫ সাল পর্যন্ত আমার ভুমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা রয়েছে। আর গত সোমবার ভূমি অফিসের দেওয়া নোটিশের জবাবও আমি দিয়েছি। তারপরও তারা অন্যান্যভাবে আমার বিনোদন পার্কে গিয়ে তালা লাগিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। যেটি তারা করতে পারেন না।
সৈয়দপুর উপজেলা কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকার বলেন, পাতাকুঁড়ি বিনোদন পার্কের স্বত্ত্বাধিকারী আলহাজ্ব মো. জয়নাল আবেদীনকে কয়েক দফা নোটিশ দেয়া সত্ত্বেও তিনি ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করছেন না। সেই সঙ্গে তিনি নিজের জমির সঙ্গে থাকা সরকারি খাস, পরিত্যক্ত ও পাউবোর নালার জমি দখল করে পার্কটি গড়ে তোলেন। তাই আজ অভিযান পরিচালনা করে সরকারি খাস জমি চিহ্নিত করে লাল নিশানা স্থাপন করা হলো। আর ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে তাঁর বিনোদন পার্কটিতে তালা লাগিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আগামীতে খাস ও পরিত্যক্ত জমি নিলামে বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here