রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় যষ্টিমধু

0
31

খবর৭১ঃ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং করোনার ভাইরাসের প্রতিরোধক হিসেবে প্রাকৃতিক ভেষজ উপাদান যষ্টিমধু ঘরোয়া সমাধান হিসেবে যষ্টিমধু ব্যবহার হয়ে আসছে।

যষ্টিমধু গ্লাইসাইররিজা গ্লাবরা গাছের শিকড়। বাংলায় গাছটিকে যষ্টিমধু গাছ বলা হয়ে থাকে। যষ্টিমধুর শিকড় থেকে মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যায়। এটি লিগিউম জাতীয় বিরুৎ যা মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন অংশে পাওয়া যায়। মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের অনেক দেশে চকোলেট এবং মিষ্টিজাতীয় খাবার প্রস্তুতিতে যষ্টিমধু ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহে যষ্টিমধু ঔষধি উদ্ভিদ নামে পরিচিত।

যষ্টিমধু বহুবর্ষজীবী গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। এর কান্ড বহু শাখাবিশিষ্ট, ৩-৪ ফুট লম্বা, সরল ও নরম হয়ে থাকে। এর পাতা দন্ডের উভয় দিকে সমান্তরালভাবে বিন্যস্ত এবং দন্ডের অগ্রভাগে একটি পাতা থাকে। এর পাতাগুলো ডিম্বাকৃতির, সবুজ ও মসৃণ। পুষ্পদন্ডের উভয় দিকে হালকা গোলাপি বর্ণের ফুল ফোটে। এর প্রতিটি ফলে দুই থেকে পাঁচটি বীজ থাকে। এর মূল বেশ মোটা, গোলাকার ও মিষ্টি স্বাদযুক্ত।

ক্লিনিক্যাল ও এক্সপেরিমেন্টাল পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যষ্টিমধুর গ্লাইসিরাইজিন ও গ্লাইসিরাটিক অ্যাসিড আলসার সৃষ্টিকারী ১৫ হাইড্রোক্সিপ্রোস্টাগ্লান্ডিন ডিহাইড্রোজিনেস ও প্রোস্টাগ্লান্ডিন রিডাকটেজ এনড্রাইমের কার্যকারিতা প্রতিরোধ করে এবং পাকস্থলীতে আলসার বা ক্ষত নিরাময়ে সহায়ক এনজাইম প্রোস্টাগ্লান্ডিল ই এবং এফ নিঃসরণ বৃদ্ধির মাধ্যমে পাকস্থলীর মিউকাস মেমব্রেনকে সুরক্ষা করে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, করোনাভাইরাসের উপস্থিতির কারণে ফুসফুসে কোষের মৃত্যু গ্লাইসিরাইজ়িন রাসায়নিকের প্রয়োগে যেমন কমানো সম্ভব হয়েছে। ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি রুখতেও তা সক্ষম হয়েছে। যষ্টিমধুর অন্যতম উপাদান এই গ্লাইসিরাইজ়িন।

যষ্টিমধু পাকস্থলীর মিউকাস মেমব্রেন হতে মিউসিন নিঃসরণ উদ্দীপ্ত করে, পাকস্থলীর এপিথেলিয়াল কোষসমূহ শক্তিশালী করে গ্যাস্ট্রিক আলসার, পেপটিক আলসার নিরাময় করে। ফুটন্ত পানিতে যষ্টিমধু ভিজিয়ে ঠাণ্ডা করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে পান করা যায়।

যষ্টিমধু কণ্ঠস্বরের কর্কশভাব দূর করে এবং যেসব ভাইরাস শ্বসনতন্ত্রের রোগ সৃষ্টি ও অতিরিক্ত শ্লেষ্মা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। সাম্প্রতিক সময়ের গবেষণা থেকে জানা যায়, এটি সার্স রোগ প্রতিরোধেও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

ভাইরাস প্রতিরোধে যষ্টিমধুতে বিদ্যমান গ্লিসাইরিজিন ভাইরাসের বৃদ্ধি রোধ এবং টি- লিস্ফোসাইট ও এনকে কোষের কার্যকারিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যষ্টিমধু আমাদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস ও হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা করে।

যকৃৎ সুরক্ষায় আধুনিক কালের গবেষণায় যষ্টিমধুর যকৃৎ প্রতিরক্ষাকারী গুণের প্রমাণ পাওয়া যায়। গবেষণা থেকে জানা যায়, যষ্টিমধু এসপারটেট এমিনো ট্রান্সফারেজ, এলানিন এমিনো ট্রান্সফারেজ, ল্যাকটেট ডিহাইট্রোজেনেজের-এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং আমাদের লিভার বা যকৃৎ সুস্থ রাখে। শুধু তাই নয়, এটি আমাদের লিভার বা যকৃৎকে কার্বন-ট্রেটা-কোরাইড, ক্যাডমিয়ামসহ অন্যান্য বিষাক্ত বস্তুর হাত থেকেও রক্ষা করে।

যষ্টিমধুর গ্লাইসিরাইজিন বিষাক্ত পদার্থের কবল থেকে লিভারকোষসমূহ সুরক্ষা করে।

গ্লাইসিরাইটিনিক অ্যাসিড টিউমার সৃষ্টিকারী ‘এপস্টাইন বার ভাইরাস’ কার্যকারীতা প্রতিহত করে।

যষ্টিমধু তরল আকারে কফ বের করে দেয় এবং কাশি ভালো করতে পারে। এছাড়া ব্রঙ্কাইটিস, টনসিলাইটিস ও কণ্ঠনালীর প্রদাহ দূর করতেও সাহায্য করে।

স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করে যষ্টিমধু। স্ট্রেস বা মানসিক চাপে আচ্ছন্ন হলে যষ্টিমধু সাহায্য করতে পারে। মলিকিউলার অ্যান্ড সেলুলার এন্ডোক্রিনোলজি নামক মেডিক্যাল জার্নালের প্রতিবেদনে আছে, এটি শরীরকে অধিক কার্যকরভাবে স্ট্রেস হরমোন করটিসল নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে যষ্টিমধু আমাদের কোষীয় ও অ্যান্টিবডি নির্ভর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। গ্লাইসিরাইজিন বিভিন্ন কঠিন রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস বৃদ্ধি ও বংশবিস্তার রোধ করে। এছাড়াও যষ্টিমধু রোগ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া এবং বিভিন্ন ছত্রাক প্রতিরোধ করতে পারে। ফলে আমাদের দুর্বলতা নিরসনে ও রোগ প্রতিরোধে যষ্টিমধু কার্যকর ভূমিকা রাখে।

যষ্টিমধুতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রয়েছে এবং এটি ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ তন্ত্রকে শক্তিশালী করে তোলে। ফুড কেমিস্ট্রি নামক জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যষ্টিমধু শরীর থেকে ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিকেল দূর করে ও শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরো উন্নত করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here