দুদকের নতুন তালিকায় শতাধিক ভিআইপি

0
26

খবর৭১ঃ দীর্ঘদিনেও অনুসন্ধান, তদন্ত নিষ্পত্তি হয়নি এমন শতাধিক ভিআইপির নামে নতুন তালিকা করেছে দুদক। অবৈধ সম্পদ, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচারে জড়িতদের এ তালিকায় আনা হয়েছে।

সংস্থাটি এদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগের ফাইলগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির পর নতুন নথি চালু করতে চায়। এছাড়া আগের তালিকাভুক্তদের নথিও দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চাচ্ছে দুদক। এজন্য সংস্থাটির বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখার মহাপরিচালক, পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

দুদক সূত্র জানায়, গত মার্চে বর্তমান কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান ও একজন কমিশনার নিয়োগ পান। এরপর তিন কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন দফায় দফায় বৈঠকে বসেন। কমিশন সভা ছাড়া মহাপরিচালক থেকে উপপরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে পৃথক বৈঠক হয়। এতে ভিআইপিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্ত ছাড়াও অন্যদের যেসব ফাইল চলমান তা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেওয়া হয়। দুদকের প্রধান কার্যালয় ছাড়াও বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছেও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে ।

নতুন তালিকায় রাজনীতিবিদদের মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন, বিএনপি নেতা শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা উত্তরের সিটি করপোরেশনের বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ও গোল্ডেন মনিরসহ এক ডজন নেতার নাম আছে। এদের নাম অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং দেশের বাইরে অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শেষ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে চায় দুদক।

এছাড়া আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাফিয়া শাহেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. ইকবালসহ তিন পরিচালক ও অপর ৭০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নারী নেত্রী পাপিয়া ও শাহেদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান ও তদন্ত রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের পরিচালক আশরাফুল আলম, কার্গো বিভাগের জিএম আরিফ উল্লাহ, সাবেক জিএম আলী আহসান, শামসুল করিমসহ শীর্ষ পর্যায়ে ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিমানের কার্গো শাখা থেকে ১১৮ কোটি টাকা লোপাটের একটি অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিমানের সাবেক এমডি আবদুল মুনীম মুসাদ্দিক আহমেদের বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান চলছে। তার বিদেশ গমনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এদিকে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছাড়াও সিভিল এভিয়েশন, রাজউক, সড়ক ও জনপথ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগের ৩৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে দুদকের গোয়েন্দা বিভাগ থেকে গোপন অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

এছাড়া পিকে হালদারের নেতৃত্বে ৪০ সিন্ডিকেটের মধ্যে পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনসহ বেশ কয়েকজনের অর্থ আত্মসাতের দায়ের ২০টি মামলা হচ্ছে। পাসপোর্ট অফিসের ১৫০০ কোটি টাকার কেনাকাটায় নিম্নমানের মালামাল সরবরাহের অভিযোগে সংস্থার শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান শেষ করার ওপর জোর দিয়েছে কমিশন। সারা দেশে ই-পোস্ট অফিস নির্মাণের নামে ১০০০ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে ডাক অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক সুধাংশ শেখর ভদ্রসহ ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিগগিরই অনুসন্ধান প্রতিবেদন দেওয়া হচ্ছে।

ব্যাংকিং সেক্টরের মধ্যে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সাবেক এমডি ও এনসিসি ব্যাংকের সাবেক এমডি মোসলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ও এবি ব্যাংকে সাবেক চেয়ারম্যান এম. মোর্শেদ খান ও তার ছেলে ফয়সাল মোর্শেদ খানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারসহ মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগের অনুসন্ধান প্রতিবেদন তৈরি হচ্ছে। অনুসন্ধান চলমান। এবি ব্যাংকের ঋণ গ্রহীতা এরশাদ ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

অপরদিকে, হেফাজতের আমির বাবুনগরী ও মুফতি মামুনুল হকসহ ৪০ জন হেফাজত নেতার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করতে চায় দুদক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here