ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত বিএসএমএমইউ

0
25

খবর৭১ঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভারতে নতুন মহামারি হিসেবে ঘোষণা হওয়া মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেছেন, এই রোগের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগ, কমিউনিটি অফথালমোলজি বিভাগ, নাক কান ও গলা বিভাগ, নিউরোসার্জারি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টিম প্রস্তুত করা হয়েছে।

রবিবার সকালে বিএসএমএমইউর শহীদ ডা. মিল্টন হলে বাংলাদেশ অকুলোপ্লাস্টি সার্জনস সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত একটি সিম্পোজিয়ামে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ বাড়ছে। এই সংক্রমণের জেরে বাড়ছে মৃত্যুও। দিল্লিসহ বেশ কয়েকটি প্রদেশে এই ফাঙ্গাসকে মহামারি ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

করোনা অতিমারির মধ্যেই ক্রমশ মাথাচাড়া দিচ্ছে মিউর্কোমাইকোসিস রোগ। দেশটিতে ৯ হাজারেরও বেশি এই রোগীর সংখ্যা রেকর্ড হয়েছে। এটি কোেনা সাধারণ ছত্রাকঘটিত রোগের থেকে বেশ কিছুটা বিরল এবং প্রাণঘাতক।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে শারুফুদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়ে একটি কর্নার চালু করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে দুই একজন রোগী ছাড়া ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়নি। এই রোগে বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত কোনো রোগী মারা যায়নি। তাই ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে আমরা আতঙ্কিত হবো না, সচেতন হবো। স্বাস্থ্যবিধি মেনে রোগটিকে প্রতিরোধ করবো।’

সিম্পোজিয়ামে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসএমএমইউর নার্সিং অনুষদের ডিন নিউরোসার্জারি বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ হোসেন, সোসাইটির মহাসচিব গোলাম হায়দার, নাক কান ও গলা বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাসানুর রহমান।

এসময় বিএসএমএমইউর চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান জাফর খালেদ, সহযোগী অধ্যাপক তারিক রেজা আলী, কমিউনিটি অফথালমোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শওকত কবীর, কনস্যালটেন্ট ডা. নিরুপম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন নিলেন ২৫৯ জন

এদিকে বিএসএমএমইউর কনভেনশন সেন্টারে রবিবার মোট ২৫৯ জন কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন। গত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন ৫৪ হাজার ৫৬৪ জন এবং আজ রবিবার ৬ জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন ৪৪ হাজার ৭৭১ জন। এদিকে বেতার ভবনের পিসিআর ল্যাবে আজ রবিবার ৬ জুন পর্যন্ত এক লাখ ৪৭ হাজার ৭৮২ জনের কোভিড-১৯ টেস্ট করা হয়েছে। বেতার ভবনের ফিভার ক্লিনিকে আজ রবিবার ৬ জুন পর্যন্ত ৯৮ হাজার ৮৫৮ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। অন্যদিকে করোনা ইউনিটে আজ রবিবার সকাল আটটা পর্যন্ত ৯ হাজার ৭৮ জন রোগী সেবা নিয়েছেন। ভর্তি হয়েছেন ৫ হাজার ২৫ জন। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ৪ হাজার ২৫৪ জন। বর্তমানে ভর্তি আছেন ৮৫ জন রোগী এবং আইসিইউতে ভর্তি আছেন ৭ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১০ জন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here