ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু

0
19

খবর৭১ঃ

এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। এতদিন বিচ্ছিন্নভাবে রাজধানীতে শনাক্ত হলেও এখন জেলা জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গুরোগী। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গুরোগীর ভর্তির সংখ্যাও বেড়েছে। এবারের মৌসুমে অন্তত ৪৫ জনের মৃত্যুর খবর দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এদের বেশিরভাগই দক্ষিণের পর্যটন শহর কক্সবাজারের। তবে ঢাকা টাইমসের অনুসন্ধানের তথ্য বলছে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। গতকালই রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে মারা গেছেন দুইজন।

ডেঙ্গু জ্বর ২০১৯ সালে দেশজুড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতি সেই দিকে যাচ্ছে কিনা এই প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ তথ্যে জানানো হয়, গেল ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৩৮ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছর এক দিনে সর্বোচ্চ রোগীর রেকর্ড। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে এক হাজার ৫৬০ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

প্রতি বছর বর্ষাকালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। ২০১৯ সালে দেশব্যাপী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন। ওই সময়ে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীসহ প্রায় ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তিন বছর আগের সেই স্মৃতিই যেন মনে করাচ্ছে এবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতি। গত কয়েক দিন ধরে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলতি বছরের শুরু থেকে মোটামুটি নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় ছিল মশাবাহিত এই রোগটি। তবে বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে রোগটি। বছরের প্রথম পাঁচ মাস সংক্রমণের হার অত্যন্ত কম থাকলেও গত তিন মাসে তা আকাশ ছুঁয়েছে। একইসঙ্গে বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও।

ঢাকার বেশ কয়েকটি হাসপাতাল সরেজমিনে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে । রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত শিশু হাসপাতালে চলতি মাসে ১২৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। যার মধ্যে ৮৫ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়েন। চিকিৎসা নিচ্ছে ৪২ জন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়েও দুইজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঢাকার বাইরে থেকে কম রোগী আছে। বেশির ভাগ আসছে ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। বিশেষ করে মিরপুরের রোগী বেশি। আর ভর্তি রোগীদের ডেঙ্গু টেস্ট, বেড ভাড়াসহ আনুসাঙ্গিক মিলিয়ে গড়ে আড়াই হাজার টাকা করে খরচ হচ্ছে।

এদিকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি। গেল সেপ্টেম্বরে ৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ২৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ২৬ জন চিকৎসা নিচ্ছেন। যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

ঢাকা ও মুগদা হাসপাতালের পরিস্থিতি

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নতুন ৪২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মাহমুদা আক্তার লিজা ঢাকা টাইমসকে জানান, মঙ্গলবার দুজন ডেঙ্গু রোগী মারা যান। অপরদিকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন ২২ জন। তবে মুগদায় দুজনের মৃত্যুর তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদনে আসেনি। এটি পরের ২৪ ঘণ্টার তথ্যে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মঙ্গলবার ভর্তি হয়েছে ২৯ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৩ জন। পুরোপুরি সুস্থ না হলেও পরিবারের অনুরোধে বাড়ি ফিরেছেন তিন জন। তবে ঢাকা মেডিকেলে ডেঙ্গুতে নতুন কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ময়নুল হক নাম রোগীর এক স্বজন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সোমবার ভর্তি করিয়েছি আমার ছোট ভাইকে। জ্বরে আক্রান্ত থাকা অবস্থায় নিয়ে এসেছি তাকে। হাসপাতালে পরীক্ষা করার পর জানা গেছে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে ভর্তি করিয়েছি হাসপাতালে। আমার ভাইকে হাসপাতালে না আনলে জানতামই না এতো বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে এখানে।’

মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, ‘মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই। তকে গতকাল ৯৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে শুধু গতকালই নতুন ভর্তি হয়েছে ৪২ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন ২২ জন ডেঙ্গু রোগী। শিশু ডেঙ্গু আক্রান্ত আছে ১৮ জন।’

ওই পরিচালক আরও জানান, ‘মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ক্রমাগত বেড়েই চলছে ডেঙ্গু রোগী। প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগী ভর্তির হার বাড়ছেই। ঢাকার সব এলাকা থেকে আমাদের হাসপাতালে রোগী ভর্তি হচ্ছে। রাজধানীর বাইরে থেকেও রোগীদের আগমন দেখার মতো। যেমন শরীয়তপুর, মাদারীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লার রোগীরাও ভর্তি আছে আমাদের হাসপাতালে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here