কঠোর লক ডাউনের প্রথম দিন যৌথবাহিনীর মহড়ায় বেনাপোলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান

0
19

শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল : ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভাররা যারা আমদানি পন্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরে আসেন তাদের অধিকাংশই ইন্ডিয়ান টিকা নেওয়া এবং তারা কিন্তু নিরাপদ। তারা নিরাপদ যেকারণে, তার প্রমান হলো “আমরা যেটা দেখতে পেয়েছি” যশোরও যখন সংক্রমণে ছিলো তখন বেনাপোলের পৌর এলাকায় একটু কম সংক্রমন ছিলো। সারা দেশের অন্যান্য সীমান্ত এলাকা যখন সংক্রমিত হয়ে বিধি নিষেধ আরোপ করে সেখানে লকডাউন ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছিলো তখনও কিন্তু আমাদের যশোর জেলা অনেকটা নিরাপদ ছিলো, আমাদের সংক্রমনও কম ছিলো। সুতরাং ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভাররা সংক্রমন নিয়ে আসছেন তা কিন্তু একেবারেই প্রমানগতভাবে ঠিক না। তাহলে, যশোর-বেনাপোল অনেক আগেই সংক্রমের সিকার হতো। সেটা না হয়ে আমরা যেটা দেখতে পেয়েছি দেশের অন্যান্য জেলাগুলো আগেভাগেই সংক্রমিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার সময় করোনার সংক্রমন প্রতিরোধে কঠোর লক ডাউনের প্রথম দিন যৌথবাহিনীর মহড়ায় বেনাপোল চেকপোস্টে দাড়িয়ে কথাগুলি বললেন যৌথবাহিনীর অধিনায়ক ও যশোর জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান।

এসময় তিনি অহেতুক ভারতীয় ড্রাইভারদের দিকে কূ-দৃষ্টিতে না তাকিয়ে ওরা যারা এপারে আমদানি পণ্য নিয়ে এসেছেন, তারা যেনো কষ্ট না পায় সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য প্রশাসনের সূদৃষ্টি কামনা করেছেন। তবে, কোনও ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভার-হেলাপার যেনো বেনাপোলের কোন দোকান বা হোটেলে না যান সেলক্ষ্যে তিনি প্রশাসনের নজরদারি কামনা করেন। বলেন, ওপার থেকে যারা এপারে এসেছেন এবং তারা যাদের মালামাল এপারে এনেছেন তারাই কেবল ওপারের ট্রাক ড্রাইভারদের খাদ্য সরবরাহ করবেন।

কঠোর লক ডাউনের প্রথম দিন যশোরের শার্শা-বেনাপোল এলাকায় যৌথবাহিনীর বিশাল মহড়ার একপর্যায়ে অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আরো বলেন, যশোর জেলায় সরকার যে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা দিয়েছেন সেই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে আমরা যশোর জেলার সংক্রমন রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র এবং কাচা মালের বাজারগুলো সকাল ৯টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত খোলা রেখেছি, এমনকি হোটেলগুলো পর্যন্ত আমরা বন্ধ রেখেছি, কারণ, “যশোর জেলায় অনেক সংক্রমন”। এ সংক্রমণ যদি রোধ করতে হয় তাহলে নিয়ম মেনে আমাদেরকে ঘরে থাকতে হবে। এসময় তিনি সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দেন। বলেন, ঘরে থাকলে আপনারা নিরাপদ থাকবেন।

এসময় যশোর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন বলেন, সরকারি যে নির্দেশনা সে নির্দেশনা বাস্তবায়নে কেউ যদি সহযোগিতা না করে সেক্ষেত্রে আমরা কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্টের বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে। আমরা সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, প্রশাসন আমরা সকলে মিলে মাঠে আছি। যারা সরকারি এ নির্দেশনা না মানবেন তাদেরকে আইনের আওতায় এনে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেবো। এসময় তিনি সকলকে বিনা প্রয়োজনে বাইরে না আসার পরামর্শ দেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মীর আলীফ রেজা, সহকারি কমিশনার(ভূমি) রাসনা শারমিন মিথি, বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মামুন খান, বেনাপোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ বজলুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, বিজিবি কর্মকর্তা, আনসার সদস্য এবং স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here